ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

আজ সকালে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থাতেই করো ডাক কানে আসল । কেউ একজন মনে হল আমাকে ডাকছে । কি ব্যাপার কে আবার এতো সকালে এসে ডাকছে আমাকে । আমি ঘুম ভাঙতেই টেবিলের উপরে থাকা ঘড়িটা দেখলাম , এখন সকাল সাড়ে সাতটা বাজে । বাইরে থেকে আবারও কেউ আমাকে ডাকল ওহ হ্যা এবার মনে হল চেনা স্বরে কেউ আমাকে ডাকছে কিন্তু যে ডাকছে বলে মনে হল সে এতো সকালে কি জন্য আমাকে ডাকছে তা কিছু বুঝে উঠার আগেই উত্তর দিয়ে জানালাম আমি আসছি । আমি আমার ঘর থেকে নামতে নামতে বললাম “কি ব্যাপার কাকা এত সকালে যে কি ব্যাপার ।” সাথে সাথে উত্তর দিয়ে বলল “আরে এখন কি সকাল আছে ? ভোর তো হয়েছে সেই কখন?”

আমি তার জবাবে বললাম নাহ মানে সামনে পরীক্ষা তো তাই রাত জেগে একটু পড়াশোনা করতে হয় তো ঘুম থেকে তাই উঠতে একটু দেরী হয় । তা আপনি …

হ্যা তর নামে একটা চিঠি আছে নে …… বলেই আমার দিকে একটা চিঠির খাম এগিয়ে দিলেন । হ্যা ঘরে থেকে যার ডাক বলে মনে করেছিলাম উনি সেই । আমাদের গ্রামের ডাক বিলি করাই ওনার কাজ । কিন্তু আমাকে কে ডাক পাঠাবে । কিছুতেই বুঝতে পারলাম না । পাশ থেকে বাবা বলে উঠল “কার চিঠিরে কি লিখছে ?” বাবার কথা শুনেই আমি তাকালাম চিঠির খামটার দিকে নাহ খামটা একটু বড় আর সাদা রঙ এর খামের উপরে আমার নামটা হাতে লেখা তবে এক পাশে একটা সিল মারা আছে । আমি সিলটা দেখে তা পড়তে লাগলাম বাবা বলে উঠল “কিরে কে লিখছে ?” আমি সিলটা পরে দিলাম একটা প্রকাশনী থেকে আমাকে লিখেছে । বাবা কে নামটা বলতেই বলে উঠল “এ আবার কারা তোরেই বা চিঠি দিল কেন ?” আমি তার কথায় কোন উত্তর করলাম না । কিই বা বলব কিছুতো আমি নিজেই বুঝে উঠতে পারছিনা । আমি খামটা খুলতে থাকলাম ততক্ষনে বাবা চলে গেল ওখান থেকে আমিও আমার ঘরে গিয়ে আমার পড়ার টেবিলে এর পাশে রাখা চেয়ারে বসে আস্তে আস্তে খামটা খুলতে লাগলাম আর ভাবতে লাগলাম কি জন্য আমারে চিঠি দিল তাও আবার কোন প্রকাশনী থেকে । শেষ পর্যন্ত খামটা খুলেই ফেললাম খামের মধ্যে দুটা কাগজ আছে একটা তে আমাকে লেখা ছাপা একখানি চিঠি আর অন্য কাগজটাতে কিসের যেন দাম দর দেওয়া সেটাও ছাপা হরফেই । আমি চিঠিটা পরলাম । চিঠিতে যা লেখা ছিল তার সারমর্ম হল এই যে, আমি যে পাণ্ডুলিপি পাঠিয়েছি তা তাদের পছন্দ হয়েছে কিন্তু যেহেতু নতুন লেখক তাই তাদের ছাপার খরচ দিতে হবে । আমি টাকা পাঠালেই তারা আমার লেখা ছাপাবে এবং আমাকে তার থেকে কয়েক কপি পাঠিয়ে দিবে । কিন্তু আমি টাকা পাব কোথায় ? আর আমার লেখা আসল কোথা থেকে ?

ও হ্যা মনে পরেছে আমি আসলে গল্পটল্প মাঝে মধ্যেই লিখি আমার অনেক খাতাতে ডায়রিতে গল্প লেখা আছে । কিন্তু আমি তো সেগুলো শুধু আমার মনের খোরাক হিসাবেই লিখি । তবে আমার বন্ধু রাসেল তাদের মধ্যে থাকা একটা গল্প পড়েছিল সেই গল্পটা পড়েছিল ওর নাকি ভাল লেগেছিল তার পর কোন একটা উপন্যাস এর পিছন থেকে একটা ঠিকানা জোগার করে আমার সেই লেখাটা পাঠিয়েছিল । কিন্তু সেও তো অনেক আগে তা মিনিমাম ৬/৭ মাস তো হবেই । এতো দিন পরে তারা এরকম একটা উত্তর দিলো । কিন্তু আমি তো মাত্র একজন ছাত্র এখন এতো টাকা কোথায় পাবো ?

চিঠিটা সম্পূর্ণ পড়ার পর নিজেই নিজের মনে হেসে উঠলাম । আমার বন্ধু আমাকে বলেছিল আমার লেখা যদি ওদের পছন্দ হয় তবে নাকি ওরা ছাপিয়ে আমাকে একটা কপি পাঠিয়ে দেবে । আজ ওদের থেকে ছাপা দুটো কাগজ এসেছে আমার কাছে তবে ওতে আমার কোন লেখা নয় এসেছে সেই লেখা ছাপাতে হলে আমাকে কি করতে হবে তারই একটা নির্দেশিকা । এখন আমি কি করবো এই কাগজ দুটো নিয়ে ? বন্ধুদের কে বলতে পারব যে “দেখেছিস আমার লেখা ছাপানোর উপযোগী আছে শুধু আমার টাকা নাই বলে ছাপাতে পারিনা ।”