ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বাংলাদেশের অনেক আলোচিত বিষয় হল ডঃ মুঃ ইউনুস ও বাংলাদেশ সরকার এর মধ্যকার ঠান্ডা লড়াই । ঠান্ডা লড়াই ই বলব কারন হল এই লড়াইটা কেউ চোখে দেখেছে বলে শুনিনাই তবে একটা লড়াই যে চলছে তা অবস্তাদূশ্য দেখলেই বোঝা যায় ।বাংলাদেশ সরকার চাইছে ডঃ ইউনুস কে সরিয়ে গ্রামীন ব্যাংক এর নতুন কোন এম,ডি নিয়োগ দেবে । অন্যদিকে ডঃ মুঃ ইউনুস চাইছে গ্রামীন ব্যাংক এ থেকে যেতে । তার ভাষ্যমতে গ্রামীন ব্যাংকে সে না থাকলে এই প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে যাবে অথবা সরকার নিজের করে নিবে ।

এবার আসুন একটু দেখি ডঃ মুঃ ইউনুস ও গ্রামীন ব্যাংক এর সম্পক টা কেমন , ডঃ ইউনুস হলেন এই ব্যাংকটির প্রতিষ্টাতা পরিচালক । ডঃ মুঃ ইউনুস সোস্যাল বিজনেস কে দুভাগে ভাগ করেছেন তার সেই দুই ভাগ এর একটির চচা হয় এই গ্রামীন ব্যাংক এ অন্যটি হয় তার আরেকটি প্রতিষ্ঠান গ্রামীন ডানোন এ । গ্রামীন ব্যাংক এর মূলনীতি তে অনেক কিছুই আছে তার মধ্যে অন্যতম হল প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের অংকের বাইরে কোন টাকা ফেরত পাবেন না । এবং এই টাকা শুধুমাত্র সামাজিক ব্যবসাতেই বিনিয়োগ করা হবে ।
কিন্তু গ্রামীন ব্যাংক এর কতটাকা সামাজিক কোন কাজে বিনিয়োগ করা হয়েছে তা অবশ্যি অনেক গভীর ব্যপার আমি সে দিকে না হয় নাই গেলাম । গ্রামীন ব্যাংক এর টাকা তো ক্ষুদ্র ঋণ এর জন্য যায় । ক্ষুদ্র ঋণ মানে হল অল্প পরিসরে গ্রামের মানুষ্ দেরকে ঋন দেওয়া সেই ঋণ এর জন্য কিছু নিয়মকানুন আছে । সব কিছুতেই তো নিয়ম থাকে তাই তো স্বাভাবিক তাই নাহ । যারা গ্রামীন ব্যাংক এর ঋন গ্রহীতা তারা তো জানেন ইই গ্রামীন ব্যাংক এর ঋন পেতে হলেও কিন্তু গ্রহীতার ন্যূনতম সম্পদের মালিক হতে হয় ওহ ভূল বলে ফেললাম এই সম্পত্তি কিন্তু গ্রাহকের নামে থাকতে হবে না তার পরিবারের কতার থাকতে হবে । কিন্তু এই ঋন পাবে শুধু মহিলারা কোন পুরুষ নয় । তার মানে মহিলাদের ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্য এই ঋন দেওয়া । কিন্তু আমাদের দেশে কতজন মহিলার ব্যবসা আছে ? শুধুমাত্র গ্রামীন ব্যাংক এর ঋন গ্রহীতারাও যদি ব্যবসা বা কোন আয় করার মত কাজ করে তবে বাংলাদেশের অনেক মহিলা স্বাবলম্বী হয়ে যেত তাতে কোন সন্দেহ নেই । এটা ডঃ ইউনুসের একটা মহৎ উদ্যোগ এতে কোন সন্দেহ নেই উনি চান দেশের বিত্তশালীরা বিনিয়োগ করে শুধুমাত্র বিনিয়োগ কৃত অথ ফেরত নিয়ে নিবে । এখন কথা হল এই বিনিয়োগের যে টাকাটা লাভ হল তার কি হবে ?

হ্যাঁ লাভ এর অংশ এর মালিক দের মানে ঐ গ্রহীতা থেকে শুরু করে সবার বা শুধুমাত্র গ্রামীন ব্যাংক এর থাকবে । তার মানে এখন এই বিশেষায়িত ব্যাংকটি অনেক সম্পদের মালিক । দেখুন ইউনুস সাহেবের সামাজিক ব্যবসা তে কিন্তু কোন লোকসান হয় নাই বা হবার কোন সম্ভাবনাও নাই । কোন ঋন গ্রহীতা কোন ভাবেই তার ঋন না ফেরত দিয়ে থাকতে পারেন না । নাহ সেটা আত্মার টানে নয় সেটা হচ্ছে বাড়ীর ছোট্ট ঘর থেকে টিন খুলে নেবার ভয়ে বাড়ীতে এসে আজেবাজে কথা শোনার ভয়ে কেউ সাহস করেনি ওদের ঋন শোধ না দিতে ।কি সুন্দর সামাজিক ব্যবসা গ্রামীন ব্যাংক এর কি বলেন ?

কোন প্রতিষ্ঠান ই আসলে এক ব্যাক্তির অধীনে আজীবন থাকতে পারে না তেমনি এই ব্যাংক টির থাকবে না এটাই তো বিধান । বিধাতার ও তো সে রকম ই বিধান তাই না আমদের পূবপুরুষেরাও তাদের জায়গা টা আমাদের জন্য ছেড়ে গেছেন আমরা ও একটা সময় পর আমাদের জায়গাটাও ছেড়ে চলে যাব নতুন কারো কাছে । ডঃ ইউনুস কে ও তাই অবধারিত ভাবেই তার জায়গাটা ছেড়ে দিতে হবে এটাই বাস্তবতা । কিন্তু আমাদের মহাবিজ্ঞ ইউনুস সাহেব যে কেন এই সত্য টা বুঝতে পারলেন না আমার এই ক্ষুদ্র মস্তিস্কে তা আসছেনা । আর কাজের একটা বয়স তো থাকবেই । সে অনুযায়ী স্যারের কি উচিত ছিল না আগে থেকেই যোগ্য কারো কাছে তার দ্বায়িক্ত হস্তান্তর করা ?

না উনি তা করলেন না । কেন করলেন না তা বুঝতে পারলাম না উল্টা তিনি তার বন্ধুদের দিয়ে শুরু করলেন সরকারের বিরুদ্ধে কিছু কাজ (অনেকেই বলেন ষড়যন্ত্র)। তার বন্ধু মানে মাকিনীরা ।যাদের ইশারাতে এই পূথিবীর অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় । শুধুমাত্র তাদের ইচ্ছাতেই আফগানিস্তানের পর ইরাক জ্বলেছে । তাদের কথার বাইরে এখন অনেক কিছুই কেউ করতে সাহস পায় না । কিন্তু দেখুন শেখের বেটির কত সাহস সেই পরাক্রমশালী শক্তির বন্ধুকে এভাবে পদছাড়তে বাধ্য করল । তার ফল টাও কিন্তু পাচ্ছে সরকার তথা বাংলাদেশীরা । কি কিছু কি বুঝলেন ?

হ্যাঁ আমি পদ্মা সেতুর মত প্রজেক্টের ঋন বন্ধ হবার কথাই বলছি । অনেকেই বলেন যে এর পিছনে ইউনুস স্যারের ও হাত আছে । সেটাই তো স্বাভাবিক তাই নাহ । অথচ বিশ্বব্যাংক বলছে আমাদের আবুলদের দুনীতির কারনে নাকি তারা সরে গেছে । আমি বলছি না যে আমাদের আবুল হোসেন সাহেব অনেক ভাল লোক ছিলেন । যে দেশে দুনীতি সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে সে দেশে আবুল সাহেব ভাল লোক তা কি করে বলি কিন্তু আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক আবুল সাহেব কে বলির পাঠাই করেছেন মাত্র মূল ইস্যু হল ইউনুস সাহেব ও তার মিত্ররা । গ্রামীন ব্যাংক এর পদ যাতে না ছাড়তে হয় সে জন্যই সরকারকে চাপ দেবার উত্তম একটা পন্থা ছিল এটি কিন্তু কি আর করে গুলি যে বের হয়ে গেছে তাই তা আত পিস্তলে ফিরিয়ে কি নেয়া সম্ভব । সরকার ও ইউনুস সাহেব এর এই বিবাদে আমরা সাধারণ জনগন কি পেলাম ?

আমরা সাধারণ জনগন পেয়েছি অনেক কিছু তবে তা শুধুই বাঙ্গালীর চায়ের আড্ডার খোরাক । আমারা স্বভাবসিদ্ধ ভাবেই খুব আড্ডাপ্রিয় জাতি । তাই ইউনুস সাহেব ও সরকার তথা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের আড্ডার বিষয় হয়েছে সাথে অবশ্য মন্ত্রীদেরকেও জড়িয়ে দিল বিশ্বব্যাংক । আমাদের দেশের মেধা সম্পদের অন্যতম হল ডঃ ইউনুস তার কাছে এ জাতি কিন্তু অনেক কিছুই আশা করে কিন্তু তারি কারনে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সেতুর অথায়ন বন্ধ হবে তা কি কেউ বুঝেছে এখন ও দেখি অনেকেই এই বিষয়টা মানতে নারাজ কিন্তু দয়া করে একটু স্বাধীন ও মুক্ত ভাবে ভেবে দেখুন আশা করি সবই বুঝতে পারবেন । আজ মাকিনীরা গ্রামীন ব্যাংক এর এমডি নিয়োগ নিয়ে খুব টেনশনে থাকেন । এই বুঝি এই ব্যাংক্ টা সরকার দখল করে নিল । যে ইউনুস সাহেব গরিব্ দের জন্য এত ভাবেন সে কি চায় নাতে পন্মাতে একটি সেতু হোক, দেশের পিছিয়ে পরা একটি অঞ্চল উঠে আসুক ?

তাই বা কেমন করে মানি বলুন ।তিনি তো অবশ্যই চান কিন্তু সমস্যা হল সরকার কেন তার গদিছাড়া করবে ? তাই তিনি সরকারের সাথে জেদাজেদিতে নিজেকে জিতিয়ে রাখতে এই উপায়টাই বেছে নিয়েছেন । এছাড়া তার আর কিই বা করার আছে বলুন ।

এ প্রসঙ্গে একটা ছোট গল্প মনে পরছে । দু ভাই বোন এর মধ্যে একবার তুমুল ঝগড়া বেধে গেল । ভাই বা বোন কেউ কাউকে ছেড়ে দেবার পাত্র বা পাত্রী নন । এক সময় অমীমাংসীতভাবেই ঝগড়া টা থেমে গেল । কিন্তু মায়ের সাথে ছেলের খুব ভাব ছিল । ছেলে মাকে বলল দেখ মা ও(বোন) যেহেতু আমার কথা শোনে না তাই ও যাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে তাকে মানে বাবাকে আজ থেকে তুমি খাবার দিবা না । মা কথাটা শুনে মনে মনে খুশিই হল কারন বাবার সাথে তারও একটু আধটু লাগে । মা ছেলের কথায় সায় দিয়ে বাবার খাবার বন্ধ করলেন ।
এই বাবার মত আমাদের অবস্তা । না খেয়ে শুকাচ্ছি আর ছেলে-মেয়েরা ঝগড়াটা ঠিকই করে যাচ্ছেন । আমরা চাই এই ঝগড়া বন্ধ হোক । আমারা খেয়ে পরে শুধু বেঁচে থাকতে পারি তাই নয় বাঁচার মত করে মানে মাথাটা উঁচু করে বীরের মত বাঁচতে পারি ।