ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

শেষ পর্যন্ত আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হল ঈদ । এ নিয়ে আমার মনে হয় কারো কোন সন্দেহ নেই । কিন্তু একি আমাদের ঈদটাও ছিনতাই হল । কিন্তু কথা হচ্ছে কিভাবে ?
নাহ আমি আমার নিজের মানে শুধুই আমার কথা বলছি না । এই তো খবরে শুনলাম ছিনতাইকারীর হাতে ভিক্ষুক খুন । ভিক্ষুক ভিক্ষা করে বাড়ী ফেরার সময় ছিনতাই কারীদের কাছে সর্বস্ব হারিয়েছে শুধু তাই নয় তার জীবনটা সহ । হায়রে কপাল । ভিক্ষার টাকা ও ছিনতাই ? কি আর করবেন । শুধু এই ভিক্ষার ঝুলি বয়ে বেরানো লোকটিই নয় কয়েকদিনের মধ্যে ছিনতাইকারীর হাতে আরো অনেকেই নিহত হয়েছেন কয়েকদিনে যাদের ঈদ ছিল সামনে । যারা হয়ত পরিবারের সাথে ঈদ করার স্বপ্ন দেখছিলেন কিন্তু সে স্বপ্ন কি সহজেই এই ছিনতাইকারীর হাতে ধ্বংস হয়ে গেল । আজ স্বপ্ন দেখাও অন্যায় নয় তো ?

স্বপ্ন স্বভাব গত ভাবেই আমরা দেখি ।তাই ঈদ কেন অনেক আনন্দ উল্লাস এর স্বপ্ন দেখা হয় আমাদের । আমরা সবচে বেশি যে স্বপ্ন দেখি তা হল ভাল ভাবে বেঁচে থেকে জীবনের এই দিনগুলোকে উপভোগ করে যাবার । এই ছিনতাই এর কারনেই নাকি গাজীপুরে রেলের পাশের লাশ গুলো পাওয়া যায় । পরিচয়হীন লাশ গুলো হয়ত পরিবারের অজান্তেই দাফন করা হয় । অন্য দিকে তার পরিবার তার পথ পানে চেয়ে আছে হয়ত অনন্তকাল ধরে থাকবেও । এছাড়া ঐ পরিবারের লোক গুলো কিই বা করতে পারে ?

পথপানে চেয়ে চেয়ে এক সময় হারানো লোকটাকে মনের এক কোনে রেখে দেবে অনেক যত্ন করে । কোন বিশেষ দিনে মনে পড়বে কিনা সেটাও বলা খুব কষ্টের তবে হটাত করে কোন এক সময় তো মনে পরবেই আর চোখের কোন হয়ত ভেসে যাবে নিরবে । কিন্তু তাদের খোঁজ আমরা ক’জনেই বা রাখি বা রাখবো ?

এবার একটু খোঁজ করি না কারা এবং কেন এই ছিনতাই করে ? আমার মনে হয় দু’শ্রেণীর লোকেরা মূলত এই অপকর্মের সাথে জড়িত। এক শ্রেনী হল নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য । যারা দুবেলা ঠিক মত খেতে পড়তে পারেনা কোন রকম একটা হাতিয়ার যোগার করে নেমে পড়ে ছিনতাই করতে । এই শ্রেনীর ছিনতাইকারীরা প্রধানত চাকু বা কম দামী কিছু বন্দুকের মালিক হয়ে থাকে । অর্থাৎ এদের কাছে কমা ধরনের যন্ত্রপাতি পাওয়া যায় । অপর শ্রেনী হল তথাকথিত বড় লোকের সন্তানেরা যারা বাপের কাছ থেকে আবদার করে একটি মোটরবাইক বা প্রাইভেটকার নিয়েছে । বাবা যখন টাকা দিয়েছে তখন নেশা করেছে মদ আর মেয়ে যাদের কাছে যেন কিছুই না ।কিন্তু সেই বাবার কাছে আর কত হাত পেতে টাকা নেওয়া যায় বা বাবা যখন দিতে ব্যর্থ হয় তখন কি আর করা বাপের দেয়া ঐ সম্পদ দিয়ে এই ছিনতাই এর মত অপকর্ম করে থাকে । আর এই ধরনের ছিনতাইকারীদের কে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান যদি মাফ করে দেন সেটা কেমন হয় ?

হ্যাঁ আমি কয়েকদিন আগে আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি যে ছিনতাই কারীদের সাজা মওকুফ করে দিয়েছেন তাদের কথা বলছি। আমাদের রাষ্ট্রপতি এটা কি করলেন? এটা কি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত? এ রকম চলতে থাকলে ছিনতাই তো বেড়েই যাবে , তাই নয় কি ? যে দেশে বিচারপ্রার্থীরা বিচার ই পায় না সে দেশে বিচার যাও বা পাওয়া গেল তাও ক্ষমার মহত্বের কাছে শেষ হয়ে গেল।

এবার কি বুঝা গেল ঈদ ছিনতাই কিভাবে হল। আরেকটু খোলাসা করি । আমাদের দেশে ছিনতাই এই সময়ে বেশ স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে গেছে বলে মনে হয় কিন্তু এই ঈদ হল একটা মওসুম না শুধু জামাকাপড় ব্যবসায়ীদের ই নয় এই প্রবন্ধের আলোচ্য সেই ছিনতাইকারীদেরও । এইটা হল আমাদের ঈদ এর ছিনতাই হয়ে যাবার মূল বিষয় এদের আরেকটা বড় গ্রুপ আছে তারা জাল টাকা ব্যবসায়ী তাদের নিয়ে অন্য কোন প্রবন্ধে লেখার ইচ্ছা আছে । আজ এটুকুই ঈদ এর জন্য বেড়াতে যাবো এখন আপনারাও যান একটু বেড়িয়ে আসুন তবে অবশ্যই সাবধান ছিনতাই এর কবলে পড়বেন না যেন । আর আমার জন্য ও দোয়া করবেন ।

ঈদ মোবারক ।