ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

কি আজব ব্যপার নাহ । সিনেমা হল গুলো একের পর এক বন্ধ হচ্ছে আর অন্য দিকে নাকি সিনেপ্লেক্স এ দর্শকদের জায়গা দিতে কষ্ট হচ্ছে । সিনেমা হল এর মধ্যে এখন শুধু শেষ হয়ে যাবার আতংক অন্যদিকে শুনতে পাচ্ছি বসুন্ধরার মত করে নাকি যমুনা ফিউচার পার্কে সিনেপ্লেক্স হতে যাচ্ছে তাও আবার একটি দুইটি নয় সাতটি । আমার মত করে অনেকেই এত দিনে জেনে গেছেন হয়ত । অত্যাধুনিকতার সাথে সাথে পরিসরও হয়ত বসুন্ধরার মত হবে অথবা আরো ছোট । কিন্তু বড় বড় ঘরের হলগুলো?

আগের দিনের সব গুলো হলই কিন্তু বেশ বড় বড় । তখনকার দিনে দর্শকের চাপ শুধু হল মুখী ছিল বলে হয়ত এই হলগুলো বড় বড় করে গড়ে তোলা হয়েছিল । কিন্তু একজন দর্শক সিনেমা হলে যায় বড় পর্দায় সিনেমাটা দেখার জন্য কিন্তু সাথে সাথে অবশ্যই সিনেমার সবটুকু যেন দর্শকের দৃষ্টিগোচর হয় সেটাও কিন্তু চাওয়া থাকে । সে দিক থেকে বিচার করলে হলগুলো অবশ্যই বড় হওয়া উচিত যে কারনেই যশোরের তিন কক্ষ বিশিষ্ট সিনেমা হল মনিহারের এতো নামডাক হয়েছিল । বড় পরিসরের সাথে অবশ্য এর নির্মাণশৈলীরও একটা গুরুত্ব আছে । কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে এই হল টিও এখন বিলীন হবার অপেক্ষায় ।

এখনকার দিনের নামকরা হল ও সরি এটাকে আবার হল বললে অনেকেই হয়ত কষ্ট পেতে পারেন এটা হল সিনেপ্লেক্স । হ্যাঁ বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স একই সাথে তিনটা হলরুম কিন্তু তিনটা হলের সমষ্টি করলেও একটা মনিহার তো দুরের কথা ঢাকার এশিয়া হলের সমান হবে কিনা সন্দেহ আছে । একেকটা হলরুম গ্রামের কাঠ বাঁশের তৈরি একতলা সেই পুরান হল গুলোর মত এখানে পার্থক্য হল সেই হলের নির্মান হত বাঁশ, কাঠ আর টিন দিয়ে আর এ প্লেক্সটি ইট, পাথর আর লোহা দিয়ে গড়া । ঐ হল গুলোতে গুমোট গরম লাগত আর এ প্লেক্সে শিতাতপ নিয়ন্ত্রনের ঠান্ডা হাওয়া লাগে । আরেকটা বড় পার্থক্য হল ঐ হল গুলোর সিটে বেশিক্ষন বসে থাকলে খবর হয়ে যেত আর এই প্লেক্সে আরামে ঘুমও চলে আসতে চায় ।একদিন ঐ হল গুলোতেও মানুষের জায়গা দিতে কষ্ট হয়েছে যখন আমাদের চলচিত্র অনেক ভালছিল শুধু নয় এই চলচিত্রই ছিল মানুষের একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম । আজ ওই হলগুলোর অস্তিত্ব আছে কি নেই কেউ কি খোঁজ রাখে ?

আমার এই লেখাটি পরে নিশ্চয় এতক্ষনে হাঁসতে শুরু করে দিয়েছেন আমি কি পাগলের মত সেই কুঁড়েঘর হলগুলোর সাথে আজকের দিনের এই অত্যাধুনিক প্লেক্সটির তুলনা করছি । হাঁসেন হাঁসি স্ব্যাস্থের জন্য ভাল কিন্তু ঐ হলগুলো বন্ধ হয়ে যাবার সাথে সাথে আমাদের ঢালিউড ও যে বন্ধ হতে চলেছে । আমাদের ঐ হলগুলো বন্ধ হবার অনেক কারন আছে তারমধ্যে অবশ্যই বলতে হয় ভাল মানের ছবি না হওয়া একটা কারন । ভাল মানের ছবি তার বিনিয়োগকূত টাকা ফেরত পাবে কিনা তাই ভাবতে হয় আমাদের প্রযোজকদের লাভ তো অনেক দুরের কথা তাই নাকি এরা ভাল মানের ছবি করতে ভয় পায় বলে শুনে আসছি । কিন্তু এই সিনেপ্লেক্স এ তো ছবি দেখতে চাইলে টিকিট পাওয়া কষ্টকর তাহলে আমাদের সিনেমার এ অবস্থা থেকে কেন উত্তরন হচ্ছে না ?

উত্তরন তো দূরের কথা আরো দিন দিন খারাপ হচ্ছে । আমাদের এই সিনেপ্লেক্সের প্লে লিস্ট দেখলে দেখা যাবে এরা যতটা না বাংলা ছবি দেখায় তার চে অনেক বেশি ইংলিশ সিনেমা দেখায় । এই সকল ইংলিশ সিনেমার দর্শক আবার উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা বেশি । আমাদের সংস্কৃতিও যে হারাতে যাচ্ছি এই যুবক-যুবতিদের হাত ধরে । বড়লোকের আদুরে ছেলেমেয়েরা বেসরকারী ভার্সিটি পড়ুয়া এই সকল ছেলে মেয়েদের ভিড়ই বেশি দেখতে পাবেন সিনেপ্লেক্সের এই সুন্দর সিনেমার দর্শকের সারিতে ।ভাই বাপের টাকা আছে টাকা দিয়ে সিনেমা দেখতে আসে কার কি বলার আছে?

হ্যাঁ মনে রাখবেন এই সকল ছেলেমেয়েরা কেউ নিজের টাকা খরচ করেনা মানে ইনকামটা ঐ বাপেদেরই করা । এরা তাই চলাফেরাও করতে চায় বিদেশীদের মত । মানুষ সবচে বেশি শিখে থাকে অন্যকে দেখে তাই তারাও যা দেখছে তাই শিখছে । তবে এই ফাঁকে বলে রাখি আমাদের সিনেমাতে যে কোন দেশের সংস্কূতি দেখানো হয় তা নিয়েও আমার ঘোরতর শঙ্কা আছে । যাই হোক এই সিনেপ্লেক্স হওয়াতে আমাদের চলচিত্রের কিছুটা এখন বেঁচে আছে । এটাই এখন সাধুবাদ দেবার বিষয় হয়ে গেছে । আর দুঃখ ঐ সকল সিনেমা হলগুলোর জন্য যাদের অস্তিত্ব হয় বিলীন হয়ে গেছে অথবা হওয়ার পথে আছে । আমরা কি পারতাম না এই হলগুলোকে বাঁচিয়ে দিতে আবার ব্যবসা সফল ছবি তৈরি হবে আমাদের হল গুলোতে হাউজফুল লেখা ব্যানার/কার্ড ঝুলানো হবে । এখনও কি কেউ এ রকম স্বপ্ন দেখেন নাকি সবই দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়ে গেছে ?জানবার বড় স্বাদ জাগছে মনে ।