ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

মালালাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে । এ নিয়ে বাংলা ভাষাভাষী ব্লগেও বিস্তর লেখালিখি হচ্ছে । ‘মালালা ইউসুফজাই‘কে খোলাপত্র‘ শিরোনামে যহরত সাহেবের পোস্টে জনৈক অতিথি মন্তব্য করেছে ‘কি এমন কম্ম করে ফেলেছে “মালালা“ ? তারপর থেকে ভাবছি, তাইতো মালালা যে বিশাল ‘কম্ম‘যজ্ঞে নেমেছে এতটুকুন বয়সে তাও কাদের বিরুদ্ধে ? নিষ্ঠুর তালেবানের বিরুদ্ধে । নির্মমতার কাছেই যারা পোষ মানে, মমতার কাছে না ।

তালেবান ঘোষিত নারী শিক্ষা বন্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠা মেয়ে মালালা ইউসুফজাই । মালালাকে তারা পশ্চিমের চর বলে দাবী করেছে । এক্ষণে প্রশ্ন আসে তবে তারা কাদের চর । তালেবানের জন্ম উত্থান কবে কোত্থেকে । তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়ন এর বিশ্বক্ষমতা খর্ব করতে, আফগানিস্তান থেকে তাড়াতে কাদের ইন্ধনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তালেবানের জন্ম হয়েছিল ? তালেবানরা ইসলামের কথা বলে অথচ যাদের পেট থেকে তালেবানরা জন্মলাভ করেছে তারা ইসলামের মহাশত্রু । মালালাকে তালেবানরা কাফের আখ্যা দিয়েছে । পশ্চিমের গোয়েন্দা নাকি মেয়েটি । শত্রু পক্ষের হয়ে গোয়েন্দাগিরির কারণে নাকি মালালাকে তারা হত্যার উদ্দেশে হামলা চালিয়েছে । তালেবানদের প্রচারণা, যারা ইসলাম ও ইসলামি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচার চালায় তাদের হত্যা করা জায়েজ । তাদের ভাষ্য, মালালা নির্লজ্জ তাই তাকে নিশানা বানানো হয়েছে ।

তাজ্জব কথা, তারা ইসলামি বাহিনী হলো কীভাবে । ইসলামেরই শত্রুর অর্থে আশীর্বাদে যারা জন্মলাভ করল, লালিত-পালিত হলো তারা ইসলামি বাহিনী হয় কী করে । আরও আশ্চর্যের কথা তালেবানরা বিবৃতি দিয়েছে তারা নাকি শিক্ষার জন্য সোচ্চার হওয়ার কারণে মালালার ওপর হামলা চালায়নি । পবিত্র যোদ্ধাদের যুদ্ধের বিরোধিতা করার কারণে নাকি মালালাকে নিশানা করা হয়েছে । কতো বড় অসত্য উচ্চারণ ! অথচ তালেবানরা ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত প্রায় ১০০০ বিদ্যালয় শক্তিশালী বোমার আঘাতে উড়িয়ে দিয়েছে যাতে মেয়েরা স্কুলে যেতে না পারে ।

আততায়ীর বুলেট মালালাকে বিদ্ধ করেছে । মালালা শিশু । ইসলামী (!) বাহিনী শিশুর প্রতি পাষণ্ডের আচরণ করেছে । অথচ প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম শিশুদের প্রতি কতই মমতাবান । তালেবানরা বলেছে শিশুও যদি ইসলামের বিরোধিতা করে তাকে হত্যা করা যেতে পারে । প্রথমত শিশু ধর্ম বিরোধিতার কি বোঝে ? দ্বিতীয়ত ধর্ম মানা না মানার এখতিয়ার তো আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন । তৃতীয়ত মালালা ইসলাম বিরোধী কথা তো বলেনি । নারী শিক্ষা অর্জনের অধিকার ফিরে পেতে চাওয়া কী ইসলাম বিরোধী ?

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক