ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

সংবাদপত্র যখন চোখের সামনে মেলে ধরি তখন মনটা ভারী হতে সময় লাগে না । প্রায়শ চোখে পড়ে কোন না কোন নির্যাতনের বিভৎস ঘটনা । যেমনটা রুমানা মঞ্জুরের উপর স্বামী সাঈদ হাসানের বর্বর আক্রমণ ও নির্যাতনে তার দু*চোখ নষ্ট এবং শরীর ক্ষত বিক্ষত করে দেয়ার পঙ্কিল চিত্র ।পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে হাসান নাকি মিথ্যাচার করেছে। পরে আবার স্বীকারোক্তি দিয়েছে যা সে বলেছে সেটা উকিলের পরামর্শে মামলায় জয়ী হবার জন্য । সাঈদের কোন কথাটি সত্য বা মিথ্যা তা এখনই বলা দুরূহ ।তবে হ্যাঁ, সাঈদ যে রুমানার পুরুষ বন্ধুর কথা টেনে এনেছে তা সুবিচারের স্বার্থে খতিয়ে দেখা উচিৎ এবং ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলে অধ্যাপক রুমানার অনৈতিক কাজের নিন্দা জানাতে হবে ।যদি হাসানের কথার সত্যতা না মেলে তাহলে অপবাদ দেয়ার কারণে হাসানের শাস্তি দ্বিগুন হওয়া উচিৎ । নারী পুরুষ উভয়েরই বন্ধু থাকতে পারে তবে তা অনৈতিকতার পথ ধরে নয় ।একই অপরাধ নারী করলে দোষের পুরুষ করলে নয় সেটাও চলতে পারে না । শিক্ষিত নারী চাকরী করবে জেনে যখন বিয়ে হয় তখন বিয়ের পর সেটা নিয়ে কিসের দ্বন্দ্ব ? অসততার কারণ দেখিয়ে কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে সেক্ষেত্রে উভয় পরিবার প্রাথমিক আলোচনায় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে ,সম্ভব না হলে পরষ্পরের সম্মতিক্রমে আইনগতভাবে পৃথক হয়ে যাবার সুযোগ রয়েছে । সে পথে না হেঁটে পাশবিক নির্যাতনে কাউকে চিরতরে অন্ধ করে দেয়ার অধিকার কারো নেই । এ অধিকার না তাকে দেশের প্রচলিত আইন দিয়েছে , না ধর্ম দিয়েছে । ভাবতে কষ্ট হয় ঐ কন্যা শিশুর জন্য যার প্রিয় মুখটি কোনদিন তার মা আর দেখতে পাবে না , আনুশাহর মত সন্তানেরা বাবা মায়ের মমতা মাখা লালন পালন আর উপযুক্ত শিক্ষা দীক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে । আমাদের ভাবনাগুলোকে আমরা বিশ্বাসে নিতে চাই না । বিশ্বাস করতে চাই আনুশাহর প্রিয় মায়ের উপযুক্ত চিকিৎসা হবে এবং মহান সৃষ্টিকর্তা তার মায়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেবেন অতঃপর আনুশাহ মায়ের তত্বাবধানে থেকেই অনেক বড় হবে , তার মা রুমানাও দু’চোখ ভরে মেয়ে আনুশাহকে দেখবে ।

সমাজে এ ধরনের নির্মম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন । এক্ষেত্রে তদন্ত যেন লোকদেখানো না হয় ,বিচার শুরু না হতেই যেন সবকিছু ঝিমিয়ে না পড়ে । অবশ্য একপেশে শাস্তি দাবি করে সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না , যদি না এক্ষেত্রে দাম্পত্যজীবনে উভয়ের ত্রুটির চুলচেরা বিশ্লেষণ না হয় । একে অপরের প্রতি মানসিক ও শারীরিক নিপীড়নের অবসান যাতে হয় সে উদ্যোগ গ্রহণ খুব জরুরী হয়ে পড়েছে । পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সততা, একে অপরের প্রতি আস্থা ও পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এ তিনটিই ভালবাসার অন্যতম উপাদান । অন্তত আমার ধারণা এটাই ।এগুলো ব্যবহারিক জীবনে ধরে না রাখলে এতসব লেখালিখি আলোচনা ব্যর্থ হবে । এসব লেখালিখি নিয়ে পুরষ্কার পাওয়া যেতে পারে , গ্রন্থ প্রকাশিত হতে পারে, বাহবা পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি হওয়া যেতে পারে কিন্তু মূল বিষয়ের ফলাফল শূন্যই থেকে যাবে । আবার নির্যাতনের নতুন কাহিনী পত্রিকায় ছাপা হবে ,আবারো সময়ের ব্যবধানে তা আড়ালে চলে যাবে ।

আমরা নিশ্চয় তা হতে দিতে পারি না । নারী ও পুরুষ উভয়ে তাদের কর্মস্থলে ,পরিবারে যার যার আত্মমর্যাদা ও সন্মান নিয়ে পথ চলার দিন ফিরে পাক ।একে অপরের প্রতি সহযোগিতায় , সহমর্মিতায় এগিয়ে আসুক । নিশ্চয় আমরা পারব, আমরা পারি ।