ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দীর্ঘ চব্বিশ বছর সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে যে ক’টি জঘন্যতম হৃদয় পীড়িত করা ঘটনা ঘটানো হয়েছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সেগুলোর অন্যতম । গ্রেনেড হামলা পরবর্তী আলামতগুলো কিভাবে নষ্ট করা হয়েছে দেশবাসীর সকলেরই জানা । বর্বরোচিত হামলাটি এদেশের অশান্ত অপরাজনীতির কুৎসিত চিত্রই তুলে ধরেছে । যেসব কুচক্রের মন্ত্রবলে এদেশে ইতিহাসের এমন একটি ন্যক্কারজনক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে , তাদেরকে আজো বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়নি । সাত সাতটি বছর পার হতে চলেছে এখনও কোনো সুরাহা হয়নি ।

নৃশংস এ হামলায় চব্বিশ জন নিহত ও দু’শতাধিক আহত হলেও বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেছে । নিহতের মধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব জিল্লুর রহমানের স্ত্রী নারী নেত্রী বেগম আইভী রহমান রয়েছেন রমনার বটমূল , উদীচীর অনুষ্ঠান স্থল , বঙ্গবন্ধু এভিন্যু রাজপথ যাদের রক্তে লাল হয়েছে — তাদের আত্মা হয়তো সুবিচারের জন্য আদালতের বারান্দায় মাথা ঠুকে চলেছে । সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি জাতি এখনও ভুলে যায়নি । প্রশ্ন উঠেছিল তৎকালীন জোট সরকার নাকি ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টায় সুকৌশলে কমিটিকে একটি বিতর্কিত ও দায়সারা রিপোর্ট দিতে বাধ্য করেছিল । জজমিয়া নাটক তো সকলেরই জানা । গত ৩ জুলাই সিআইডি দীর্ঘ তদন্তের পর এ মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে ।

ঘটনার সূত্রপাত এখানেই । যার ফলশ্রুতিতে হরতাল (আওয়ামীলীগ ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ভাষ্যমতে) । বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন দেশরক্ষার হরতাল । দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার হরতাল । অথচ আমরা এখনো জানিনা দেশের সার্বভৌমত্ব কারা কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে । বিরোধীদলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে নিতে এভাবে মামলা সাজিয়েছে সরকার ।

এখন জনগণের তীক্ষ্ণ নজরদারি প্রয়োজন যাতে বিচার প্রক্রিয়া কোনভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় । বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার আমরা প্রলম্বিত হতে দেখেছি । জেল হত্যা মামলার করুণ পরিণতির কথা অজানা নয় । অন্যান্য হত্যা মামলার তদন্ত কচ্ছপ গতিতে চলতে দেখার অভিজ্ঞতা জনগণের রয়েছে । বিচারপ্রক্রিয়ায় যখন দীর্ঘসূত্রিতা চলে আসে বা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘসূত্রতার যাঁতাকলে ফেলে দেয়া
হয় তখন দেশের জনগণ অপশাসন এর কবলে পড়ে । যে অপশাসন বড় সময় ধরে বাংলাদেশে চলেছে ।

বিচারপ্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলে তখন আর থাকে কি । প্রতিকার পাওয়ার জায়গাগুলোতে যাওয়ার পথ যদি সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে , সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন একে একে কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়ে তখন সেদেশের জনগণ কোমর খাড়া করে দাঁড়াবার শক্তি বা ভরসা পায় কোথায় ? এ অসহায়ত্ব থেকে মুক্তির জন্য দেশবাসীকে একাট্টা হওয়া উচিৎ ।

রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অবিশ্বাসের ঘুণপোকার জন্ম এমনিতেই হয়নি । একসময় জাতিকে বিভ্রান্ত করতে জনগণের মগজে সেই ঘুণপোকা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল । বিভাজন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে তারা , সেই ধারা এখনও চলছে । তবে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় জনগণ আজ অনেকটা সচেতন । তারপরও বিভ্রান্তির দোলাচল কাটেনি । সত্য মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে বড্ড বেশী সময় নিয়ে ফেলেছে দেশের মানুষ । তবু ভাল নিরেট সত্যকে পাবার আশায় কিছু সময় যায় যাক । কিন্তু সত্য জেগে উঠুক । আমরা সত্যের কাছে ফিরে আসতে চাই ।

যদিও অনেকটাই ফিরে পেয়েছে জনগণ । কোন সরকারই যেন জনগণকে গিনিপিগ না ভাবে , রাষ্ট্রকাঠামো সেভাবেই গড়ে উঠুক জনগণের আকাঙ্খা মূলত সে জায়গাতেই।