ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

নারীর প্রতি সর্বক্ষেত্রে বৈষম্যের যে চিত্র সৃষ্টিযুগ থেকে হয়ে চলেছে আজোবধি তার পরিপূর্ণ বিনাশ হয়নি ।তাদের প্রতি মানসিক ও শারীরিক নিপীড়নের অবসান ঘটাতে যত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তার অনেকটাই কোথাও না কোথাও মুখ থুবড়ে পড়েছে । নারীর প্রতি অন্যায়ের চিত্র একেক জায়গায় একেক রকম। কোথও নারীরা স্বামীর হাতে যৌতুকের বলি আবার কোথাও বখাটেদের উৎপাতে বলি । আজো নারীদের শিক্ষার জন্য কত বাধাই না অতিক্রম করতে হচ্ছে ।

যার ফলশ্রুতিতে স্বামীর নিষেধ সত্ত্বেও পড়াশুনা করার চরম মূল্য দিতে হলো জুঁই নামের এক অল্পবয়সী মেয়েকে । সে যাতে আর কখনো লিখতে না পারে সেজন্য তার ডান হাতের কব্জি কেটে নেয় ঈর্ষান্বিত আবুধাবি প্রবাসী পাষন্ড স্বামী রফিকুল ইসলাম । ঐ পাষন্ড নাকি প্রবাসে যাওয়ার আগেই লেখাপড়া বন্ধ না করলে কব্জি কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছিল জুঁইকে ।লেখাপড়া বন্ধ করেনি তাই স্ত্রীর হাতের কব্জি কেটে নাকি ওর ওয়াদা পূরণ করেছে । কতো বড় (!) (বে)ঈমানদার সে, ভাবতেই শিউরে ওঠার পরিস্হিতি । এধরনের ইতর ঈমানদার দেশে থাকলে তো অন্ধ পঙ্গু নারীতে দেশ ভরে যাবে । তখন কি হবে !

বর্বর স্বামীর পৈশাচিকতায় ডান হাতের আঙ্গুলগুলো হারিয়ে জুঁই এখন অসহায় । এ অসহায়ত্ব থেকে এখন কে তাকে মুক্তি দেবে ! আর যেন কোনো স্বামী স্ত্রীর শিক্ষাগ্রহণে প্রতিবন্ধক না হয় সেজন্য একমাত্র উপযুক্ত কঠিন শাস্তিই পারে ঐ মেয়েটিকে কতোটা কষ্টকর অবস্হায় বেঁচে থাকতে হবে-কিছুটা হলেও তার পিশাচ স্বামীকে উপলব্ধি করানো।

বাংলাদেশে একটি পাষন্ডও যেন বিচারের আওতার বাইরে না থাকে জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী প্রশাসনের সকল স্তর সেভাবেই কাজ করুক । আমরা দেখতে চাই প্রশাসন নির্বিকার নয় । এটা তো সত্য প্রশাসন উদাসীন ও অথর্ব না হয়ে কর্মক্ষম হলে অপরাধ তুলনামূলক কমে আসবে । প্রশাসনের অবহেলা অদক্ষতাকে মেনে নেয়ার প্রবণতা আর না । যারা রাষ্ট্রীয় কর্মচারি তারা দক্ষ সৎ হয়ে কাজ না করতে চাইলে তাকে বিদায় করে দিক সরকার ।

উন্নত বাংলাদেশ দেখতে চাওয়া নিশ্চয় বাংলাদেশের জনগণের অপরাধ না । উন্নত থেকে উন্নততর বাংলাদেশ দেখতে চাই আমরা তবে ঐ উন্নত না যেখানে শুধুই বহুতল ভবনের ছড়াছড়ি, অহংকারের বাড়াবাড়ি। বলতে চেয়েছি-সুখে শান্তিতে বেঁচে থাকার উন্নত বাংলাদেশ। মানুষে মানুষে বন্ধু হয়ে মিলেমিশে বাস করার উন্নত বাংলাদেশ।

ছবি- দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা থেকে সংগৃহিত