ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পত্রিকার পাতাগুলোতে আজতক যত লোমহর্ষক ও হৃদয়বিদীর্ণ করা ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে, গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা যেন সবচেয়ে বেশি অন্তর্ভেদী । সংসারের বোঝা টানতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া অনেক দরিদ্র মা-বাবা তার আদরের সন্তানকে অন্যের বাড়িতে কাজে পাঠিয়ে থাকে । এদের মধ্যে কেউ না কেউ যে ভাল থাকে না, তা না । নিশ্চয় ভাল থাকে । তবে অধিকাংশই অবহেলার শিকার, নিষ্ঠুর আচরণের শিকার এমন ঘটনা তো আমরা দেখি আবার পত্র-পত্রিকা পড়েও জেনে ফেলি । গৃহকর্ত্রী-গৃহকর্তাদের নির্যাতনের বিভিন্ন রুপের বহু কাহিনী আমাদের জানা ।

কয়েকাদন আগে কি ঘটল ! ২৪ বছরের গৃহকর্মী রাশিদাকে গৃহকর্ত্রী বাড়ির তিনতলা বারান্দা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে । মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে সে একথা বলে গেছে । চোখ কান খোলা রাখলে গৃহকর্মী বিশেষ করে শিশুকর্মীদের ওপর অন্যায় আচরণ আমাদের দৃষ্টি এড়ায় না । যদিও শিশুদের দিয়ে কঠিন কাজ করানো আইনত অপরাধ । মাসখানেক আগে খবর বেরিয়েছে রোমেলা নামে ১০ বছরের কর্মীশিশু পুলিশ দম্পতির হাতে নিষ্ঠুর, অমানবিক নির্যাতনের শিকার । যার ছবি আমরা পত্রিকার পাতায় দেখেছি । আইনি সহযোগিতা পাবার আশায় মানুষ দারস্হ হয় পুলিশের কাছে কিন্ত্ত শেষ পর্যন্ত সেই পুলিশই যদি হয় নিপীড়ক তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে ?

নির্যাতনের কত রূপ আমরা দেখতে পাই । প্রথমে চড়-থাপ্পড়, কান ধরে উঠ-বস করানো । তারপর খুন্তি দিয়ে আঘাত, গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া । এরপর রান্নাঘরের চাকু দিয়ে শরীরে পোঁচ দেয়া । অতঃপর শরীরে গরম পানি ঢেলে দিয়ে মা-বাবার কোল ছেড়ে আসা ঐ গৃহকর্মীটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যূর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া । কী বীভৎসতা !

যখন একটি কর্মীশিশু এধরনের নির্মমতার শিকার হয় পুলিশের বাড়িতে তখন আইনের বিধিগুলো হয়তো কোনো অদৃশ্য জালে আটকে যাবে ! ঐ পুলিশ দম্পতি রয়ে যাবে বহাল তবিয়তে । আইনের রক্ষক যখন প্রতি মুহূর্তে আইন ভাঙতে পারদর্শী হয়ে ওঠে তখন কি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শুধু তাকিয়ে সে দৃশ্য উপভোগ করা নাকি ঐ পুলিশ দম্পতিকে আইনের কাঠগড়ায় উঠানো । এসব বর্বর ঘটনার বিচার কেন দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে না ! কিসের সমস্যা । সহকর্মীরাই কী এই অপরাধের ঘটনা আড়াল করে দেবে ! কেন এতো অবিচার সহ্য করতে হবে ।

তাছাড়া এসকল দরিদ্র শিশু কিশোরীগুলো কি শুধু তাদের জীবিকার প্রয়োজনেই আমাদের কাছে আসে ? আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই তাদের কাছে ? তাদের ছাড়া আমাদের চলে কী ? তারা আমাদের করুণার পাত্র হতে যাবে কেন । ঐসকল শিশু-কিশোরীরা আমাদের নিরঙ্কুশ সেবা দেয় আর আমরা সেবা গ্রহণ করি । বিনিময়ে তো সামান্যই দিই । তাদের প্রাপ্য তারা সবক্ষেত্রে কী বুঝে পায় ।

গৃহকর্মীরা অন্যায় আচরণ পাওয়া থেকে বেঁচে থাকুক । করুণার পাত্র-পাত্রী হয়ে আর বেঁচে থাকা নয় । তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক । আমরা যেন আর কোনো অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে নির্বিকার না থাকি । সরকার গৃহকর্মীদের শ্রমের ব্যাপারে, গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগের ব্যাপারে যে আইনের খসড়া প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে তা আইনে রূপ দিক এবং বাস্তবায়নে পদক্ষেপ যত দ্রুত নেবে ততোই মঙ্গল এ জাতির জন্য ।

ছবি- বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা থেকে