ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে অনেক ক্ষেত্রে সংসারে ভাঙন অনিবার্য হয়ে পড়ে । তেমনি পরকীয়ার কারণে ভেঙে যাচ্ছে অনেক সাজানো ঘর । সংসার ভাঙার পাশাপাশি এর কারণে অনেক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও বেড়ে চলেছে । কেউ পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে হত্যা করছে স্ত্রীকে আবার কোনও ক্ষেত্রে স্ত্রী তার প্রেমিক বা ভাড়াটে লোক দিয়ে খুন করাচ্ছে তার স্বামীকে । এমন স্বামীও রয়েছে, যে পরকীয়ার কারণে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সামনে খুন করেছে তাদেরই আরেক সন্তানকে । ক“দিন আগে শেখ ফরিদ নামে এক পাপাচারি তার প্রেমিকার প্র্ররোচনায় ঘুমিয়ে থাকা সন্তানদের পাশেই স্ত্রীকে হত্যা করেছে এরপর আগুনে পুড়িয়েছে ।

এধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড শেষে উভয়ই অনেক সময় পুলিশের কাছে অকপটে স্বীকার করে তাদের কৃতকর্ম । কখনও ঘটনার সুরাহা মেলে তবে অনেকটাই থাকে অমিমাংসিত এবং অজানা থেকে যায় পুরো জাতির কাছে । এই ধরনের ভাঙনের সংসারে সেই সন্তানদের ভবিষ্যৎ কেবল অনিশ্চিত অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভীতিকর । এদেশে পরকীয়ার বলি যে কত স্বামী-স্ত্রী তা হিসেব করে বলা সত্যি মুশকিল ।

শুধুমাত্র পরকীয়ার কারণে নাকি রাজধানীতে প্রতিবছর প্রায় শতাধিক নারীর মৃত্যু হয় । গৃহবধু ছাড়াও স্বামী এবং স্বজনরাও এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকে । পরকীয়ার বলি হয় গ্রামের অস্বচ্ছল পরিবার থেকে শুরু করে শহুরে সমাজের বিত্তবান অনেক পরিবার । কিছুদিন আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তুরস্ক প্রবাসি স্বামী ইউনুস মিয়ার পাঠানো কোটি টাকা ও ২০ ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে তার স্ত্রী পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । সঙ্গে তার দশ বছরের পুত্রশিশুও রয়েছে । স্বামী অনেক খোঁজ করেও স্ত্রী-সন্তানের সন্ধান পাননি । তার স্ত্রী নাকি এক যুবকের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে । এ ঘটনা জানার পর ইউনুস মিয়া দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলে আগেভাগে সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায় তার স্ত্রী ।

এমন অরুচিকর বহু ঘটনার জন্ম হচ্ছে আমাদের সমাজে যা থেকে পরিত্রাণের পথ আমাদেরকেই খুঁজে নিতে হবে । আবার খুঁজে নেয়ারই বা কী আছে । কারণগুলো তো সবারই একপ্রকার জানা, কেন এসব ঘটনাগুলো ঘটে । যতগুলো কারণ সামনে আসবে তার একটি হলো লোভ-মোহ । রেমিট্যান্স যেমন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্হার চাঙাভাব টিকিয়ে রেখেছে তেমনি সামাজিক বিপর্যয়ও সৃষ্টি করে চলেছে । প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি দেয়া আর অন্যের দেখাদেখি দেশে স্বচ্ছল থাকলেও লোভের বশে পরিবার-পরিজন রেখে বছরের পর বছর বিদেশ বিভুঁইয়ে কাটানোরও ফল এটা ।

এখনও সময় আছে পারিবারিক-সামাজিক সমঝোতায় এগিয়ে আসার । সামাজিক বিপর্যয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে সক্ষম হলেও সে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভাল হয় না , হয়নি কোনও রাষ্ট্র । আমাদের মানবিক মূল্যবোধ যেন আর ধুলোয় মিশে না যায় । দিনদিন আমাদের সমাজের অবক্ষয়ের চিত্রগুলো যেভাবে উঠে আসছে তা আমাদের যার যার স্বার্থেই পাল্টে দেয়ার সংগ্রামে এগিয়ে না এলে যে সামাজিক বৈরি বাতাসের ঝাপটা সমাজের গায়ে বিদ্ধ হবে তা থেকে মুক্তির কোনও পথ খোলা থাকবে না । আসুন, মুক্তির সংগ্রামে এগিয়ে এসে যার যার জায়গায় থেকে সকলকে সচেতন করে তুলি, সমাজের খোলনলচে পাল্টে দিই ।