ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

.তখন রাত ছিলো না, ছিলো না রাতের অন্ধকারও । ছিলো দেদীপ্যমান সূর্য। এমন সময়ে তো হায়েনা আসে না। কিন্তু কখনো কখনো বাস্তবতা যে কল্পনাকেও হার মানায় তা আরেকবার প্রমান করার জন্যই নরপিশাচ আর পাশবিকতার নির্মম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল সেদিন। ৫ বছরের ছোট শিশু আনুশাহ। মা তাকে কোলে নিয়ে পরম মমতায় ছবি আঁকা শেখাচ্ছিলেন।হঠাৎ উদ্যত হয় এক হিংস্র হায়েনার থাবা। নিষ্পাপ শিশুর সামনে পিছন থেকে চুলের মুঠি ধরে উপরে ফেলে তারই মমতাময়ী মায়ের দুচোখ, তার পাষণ্ড পিতা। ছোট্ট শিশুর সামনে তার মায়ের নাক মুখ কামড়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো । সেই মমতাময়ী মা হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রুমানা মঞ্জুর।তার অপরাধ তিনি তার পেশায় সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জনের করতে চেয়েছিলেন । আর তার স্বামী নামক নরপশুটি এজন্য তার অর্ধাঙ্গিনীর এই অবস্থা করেছে। তাও আবার তার নিষ্পাপ সন্তানের চোখের সামনে।

কেউ অশিক্ষিত হলে তাকে নিয়ে আমরা নানা কথা বলি, তারা কিছু খারাপ কাজ করে যা আমাদের অনেকের চোখে নিন্দনীয়। কিন্তু ওরা তো অশিক্ষিত, না বুঝে অনেক কিছুই করে। আর যারা হাসান সাঈদের মতো শিক্ষিত তারা যদি এমন কাজ করে তাহলে তা আমাদের জন্য কতটা লজ্জার ব্যাপার তা সহজেই অনুমেয়।মানুষ যদি মানুষ হয় তাহলে এমন কিছু করা সম্ভব নয়।কিন্তু বর্তমানে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্ন সেটা হচ্ছে আমরা মানুষ দাবিদার কিন্তু আমাদের মাঝে মনুষ্যত্ব কি আদৌ আছে?যদি থেকেই থাকে তাহলে কতটুকু। আধুনিক এই যুগে কি মনুষ্যত্ব আর মূল্যবোধ সত্যি হারিয়ে যাচ্ছে না?

এখন মূল প্রসঙ্গে আসি। এই হায়েনা, বন্য জন্তু, নরপিশাচকে আপনারা জানেন? তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রী হাসান মাহমুদের ভাতিজা। তিনি আবার দেশের হাজার হাজার মানুষকে নিঃস্ব করে দেওয়া শেয়ার কেলেংকারির অন্যতম হোতা।অথচ তার নাম শেয়ার কেলেংকারির তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে বাদ পড়ে যায়। দেশে মিডিয়ার এত প্রভাব যা কল্পনাও করা যায় না। কোন কোন মিডিয়া তো অনেক কিছুই আগাম বলে দেয় যা পরবর্তীতে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে এমন মারাত্মক একটি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার এক সপ্তাহ(৫ জুন ঘটনা ঘটলেও পত্রিকায় আসে ১৩ তারিখ) অতিক্রম হওয়ার পরে সেটি সংবাদ হিসেবে মিডিয়ায় এসেছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু ব্যাপারটি আমার কাছে কেমন যেন রহস্যজনক মনে হয়। অন্যদিকে ঘটনার মূল হোতা সম্পর্কে মিডিয়ায় এখন পর্যন্ত তেমন কিছুই আসেনি। এমনকি এই ঘৃণ্য নরপশুটাকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা দূরে থাক কোন সন্ধানই পায়নি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।এটাও একটা রহস্য। অথচ গোপনে থেকে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর প্রিয় ম্যামকে হত্যার হুমকি ঠিকই দিচ্ছে নরপিশাচটি। কোন সে জীয়নকাঠির স্পর্শে সে এমন দুঃসাহস করে তা জানতে পাঠকগনের ঠিকই মনে চায় বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তাহলে এখানেও কি রাজনীতির কালো থাবা আছে? প্রশ্ন উঠতেই পারে…

এটাতো তাহলে হাসান সাঈদের মত অপরাধীর পুরস্কার…!!!! হায়রে দেশ, হায়রে রাজনীতি………!!!

যে মানুষ স্ত্রীর উপার্জনে চলে, শ্বশুরবাড়িতে থাকে সে কেমন করে এমন কাজ করতে পারে তা আমার বোধগম্য নয়। এটি হুট করে ঘটে যাওয়া কোন সাধারন ঘটনা নয়। এর পিছনে নিশ্চয়ই কোন দুরভিসন্ধি ছিল। যা এখনো মিডিয়ায় প্রকাশ্য নয়।

সারাদিন ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা, বাসার কাজ সামলানো, ছোট্ট মেয়ের পড়াশুনা, নিজের পড়াশুনা, পিএইচডির থিসিস করা সে যে কত বড় ধকল তা নিতান্ত ছোট্ট মানুষটিও বুঝতে পারে। তারপর যদি সহ্য করতে হয় স্বামীর অমানুষিক নির্যাতন তাহলে তার মানসিক অবস্থাটা একবার ভাবুন তো? এরপরও ম্যামকে সবসময় দেখতাম মুখে অনাবিল হাসি। সেই হাসি যে কৃত্রিমতায় পূর্ণ ছিল তা কখনোই বুঝতে পারিনি। তিনি সবকিছু মুখ বুঁজে সহ্য করেছেন নিজের আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে। এটা কত বড় ত্যাগ ভাবা যায় !! অথচ সেই মানুষটাকে এভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ঐ পিশাচটার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে পোস্টারে, বিশ্বজয়ী নারী, নারীরা করবে বিশ্বজয় । অথচ দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠের একজন অধ্যাপিকার যদি এই অবস্থা হয় তাহলে মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক এই দেশে নারীর কি আদৌ কোন নিরাপত্তা আছে? এই পিশাচটাকে গ্রেপ্তার করে অবিলম্বে ফাঁসি দেওয়া হক এই হোক আমাদের সকলের দাবি। জাগো বাঙ্গালি জাগো; একজন মাতার জন্য জাগো, একজন শিক্ষিকার জন্য জাগো, একজন মানুষের জন্য জাগো, নিজের অধিকার বাস্তবায়নে জাগো।

যে চোখ স্বপ্ন দেখে সুন্দর আগামীর, যে চোখ স্বপ্ন নির্মানের সারথি আমরা স্বপ্ন দেখি তার স্বপ্ন পূরণের।

“নিকষ কালো অন্ধকারে সম্ভাবনার প্রদীপ উঠুক জেলে
রুমানা ম্যামের দ্যুতিময় চোখ মেলে…”

***
সৌজন্যেঃ হৃদয়ের আহবানে-‘ফেইসবুকের একটি মানবতাবাদী গ্রুপ’