ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ঘটনা ১
লিমন একজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্র। র্যা বের সাজানো নাটকের বলি হতে হল তাকে। তার নামে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হল। সে সন্ত্রাসী। অথচ দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সে তার পড়াশুনার খরচ নির্বাহ করতো । র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে জনতার সামনে তার পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয় । তার অপরাধ ছিল লাল শার্ট পড়া । এখন সে পঙ্গু, তার পড়াশুনা আর চলবে কিনা আমরা জানিনা । কিন্তু তার স্বপ্ন যে মরে গেছে এটা নিশ্চিত। মানবাধিকার কমিশন পাশে ছিল বলে রক্ষা। তবুও তাকে কোর্টে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে। হায়রে জীবন……

ঘটনা ২
আবদুল কাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র । অনেক রাতে মা-বোনের সাথে দেখা করে হলে ফিরছিল । রাত তখন প্রায় দেড়টা । দুনীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে এলে পুলিশের গাড়ির সামনে পরে সে । সাধারন মানুষকে যেমন রাত্রে হয়রানি করা হয় তেমনি হয়রানি করা হয় কাদেরকে। অবশেষে যখন জানতে পারে কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন ভাবে ছেড়ে দিলে সমস্যা। তাই নির্মম নির্যাতন করে ডাকাতির কাভার্ড ভ্যানে করে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসে ওসি তার চাপাতির পরীক্ষা চালান কাদেরের পায়ে। কাদের এখন প্রায় পঙ্গু। তার অপরাধ কি ছিল কেউ জানেনা।ডাকাতির মিথ্যা অভিযোগ ব্যাতীত আর কোন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে কেউ কখনো শুনেনি( যা মহা নাটককেও হার মানায়)। সবাই জানে নির্মম সত্যটা কি। শুধু সরকার আর তার বাহিনী জানেনা।

ঘটনা ৩
মিলন একজন সাধারন মানুষ । আগে পড়াশুনা করত, এখন কাজ করে জীবন নির্বাহ করে । বাসায় এসেছে কয়েকদিন আগে। এইতো সেদিন সকালে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমির নিবন্ধন করাতে উপজেলায় যাচ্ছিলো । পথে ইউপি সদস্য আর স্থানীয়দের হাতে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার পরেও একবার নিগৃহিত হয় । পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ গাড়ি থেকে তাকে নামিয়ে সাধারন মানুষের হাতে ছেড়ে দেয় মেরে ফেলার জন্য । পুলিশের উপস্থিতিতে কয়েক’শ মানুষের সামনে তাকে নির্মম প্রহার করে ইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে প্রচার করা হয় ডাকাতির প্রচেষ্টাকালে জনতার গনপিটুনিতে নিহত হয়…………!!!!

(উল্লেখ্য, ঐদিনই আরো ৫ জন যুবক জনতার প্রহারে নিহত হয়। সেখানেও এমন ঘটনার আশংকা করছেন অনেকেই)।

এবার আসল কথাটি বলি, আমি একজন ছাত্র, পড়াশুনার খরচ নির্বাহের জন্য টুকটাক সাংবাদিকতাও করি। তবে সর্বোপরি আমিও একজন মানুষ । আমি এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছি । কারন আমাকেও হয়ত নির্মমভাবে হত্যা করা হবে। আমাকে হত্যা কিংবা অপহরণের জন্য মানববন্ধনও হবে । আমার আপনজনেরা কান্নাকাটি করবে । কিন্তু সরকার কিংবা তার বাহিনীর কিছুই হবেনা । কারন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি আপনারা শুধু অপরাধকারীদের ক্ষমাই করতে পারেন আপনাদের যেটা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব( জনগনের জীবন ও মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা) সেটা পালন করতে জানেন না । বোধহয় আপনাদের দরকারও হয়না। কারন আপনাদের সন্তানেরা কেউ দেশে থাকে না আর থাকলেও তাদেরকে স্পর্শ করে এমন সাহস কার!!! অপেক্ষা করুন । সাধারন মানুষকে এভাবে বেশিদিন দমিয়ে রাখতে পারবেন না । সময় আসছে । এমন বিস্ফোরন হবে যে বিস্ফোরনের প্রভাব আপনারা খুব ভালই জানেন…

প্রস্তুত থাকুন………
জাগো মানুষ জাগো……
আপন অধিকার আর নিরাপত্তার জন্য জাগো………।