ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশের জনসংখ্যা যে ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে সে বিষয়ে তো সন্দেহ করার কোন অবকাশ নেই। তবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা যে কতো বেশি তা একটু উদাহরণ দিলেই পরিষ্কার হবে। বিশ্বে চীনের জনসংখ্যা সবচে বেশি -প্রায় ১৩৫ কোটি হলেও প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র ১৩৯.৮ জন। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১২০ কোটি হলেও প্রতি বর্গকিলোমিটারে লোকসংখ্যা মাত্র ৩৭২.৫ জন মাত্র। আর বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ বা সাড়ে ষোল কোটি হলেও লোকসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০৩২.৬ জন। অর্থাৎ বাংলাদেশের জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে চীনের চেয়ে ৭ গুণ এবং ভারতের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বেশি। এবং বাংলাদেশ যে সকল দক্ষ এবং বিজ্ঞ রাজনীতিক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তাতে জনসংখ্যা যে আর ১৮ বছরের মধ্যেই ২০ কোটিতে দাঁড়াবে সে বিষয়ে কী সন্দেহ আছে ? ১৮ বছরের মধ্যে বাড়তি ৪ কোটি জনগণের থাকার ব্যবস্থা এবং তাদের বাঁচিয়ে রাখা এবং শিক্ষা -দীক্ষার জন্য কী ব্যবস্থা নেয়া হবে তা নিয়ে আমাদের দেশের প্রাতঃস্মরণীয় এবং সম্মানীয় নেতা-নেত্রীদের কোন-ই চিন্তা নেই। মানে এসকল অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নষ্ট করার মতো সময় তো তাদের নেই। এ সব নিয়ে চিন্তা করলে বিদেশী ব্যাংকে জমা করা অর্থের হিসাব, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ হতে পাওয়া নজরানার হিসাব,প্রতিপক্ষ দলের নেত্রীর বেডরুমের খবর রাখা, সরকারী খাস জমির দখল নিয়ে ভবন- হোটেল নির্মাণ করা, প্রতিপক্ষের কাকে খুন করতে হবে, কাকে গুম করতে হবে -এ সকল অতীব জনগুরুত্বসম্পন্ন কার্যাদি তাহলে কীভাবে সমাধা হইবে ? তাই নিঃস্ব জনগোষ্ঠী যখন বেঁচে থাকার জন্য সীমানা পেরোতে গিয়ে ভারতের সীমান্ত রক্ষীদের হাতে নির্যাতিত এবং খুন হয় তখন রাষ্ট্রের মন্ত্রীপ্রবর বলেন, এসব ঘটছে এবং আরো ঘটবে । রাষ্ট্র এসব নিয়ে চিন্তিত নয়।” বটে, তবে রাষ্ট্র কী লইয়া চিন্তিত ?