ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

উষ্ণ পৃথিবীর দিনগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যেসব দেশ তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম, এ তথ্য এখন দেশ এবং বিদেশের শিক্ষিত এবং সচেতন ব্যক্তিরা জানেন। তবে এ নিয়ে বাংলাদেশিদের চেয়ে যেন বিদেশিদের মাথা ব্যথাই বেশি। এ সংক্রান্ত বিদেশি বই এবং জার্নালগুলোয় লেখাতে মালদ্বীপের পাশাপাশি বাংলাদেশের নাম অবশ্যই থাকবে। আমার ধারণা তাদের মাথাব্যথার সবচে বড় কারণ, বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা । কারণ,এই জন সংখ্যার প্লাবন কোন দিকে প্রবাহিত হবে এবং তা কীভাবে সামাল দেয়া যাবে তা নিয়েই তাদের বেশি চিন্তা।

২০০৮ সালের জুন মাসের এক মাঝরাতে এক ইন্টারনেট সাইটে জীবনের প্রথম বাংলা ব্লগ লিখছিলাম এবং সাথে সাথে ওয়ার্ল্ড ব্যান্ড রিসিভারে বিভিন্ন দেশের প্রোগ্রাম শুনছিলাম। হঠাৎ ডাচ রেডিওর ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসে নব ঘুরানো থেমে গেল। আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশ নিয়ে। একজন প্রশ্ন রাখলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে যে দুকোটী বাংলাদেশি উদ্বাস্তু হবে তাদের ইউরোপ আশ্রয় দিবে কি না। একজন বললেন , আশ্রয় দেয়া ইউরোপীয়দের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বাকী দুজন বললেন, আশ্রয় দেয়া ইউরোপের দায়িত্ব নয়, এটা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব। তবে ইউরোপীয়রা সাহায্য – সহযোগিতা দিতে পারে।

কিন্তু দেখা গেল কোপেন হেগেন সম্মেলনের আগে এবং পরে অনেক হৈ চৈ করেও শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ তেমন কোন সাহায্যের আশ্বাস পেল না এবং বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী দেশগুলোর তেমন কোন উদ্যোগও লক্ষ্য করা গেল না উষ্ণতা কমানোর জন্যে । শেখ হাসিনার সাহায্য চাওয়ার কথায় আমাদের কিছু দেশি ভাইকে এও বলতে শোনা গেল, যে শেখ হাসিনা পয়সা মারার জন্য এইসব বলছে। সেলুকাস ! আমাদের সত্যি অনেক বুদ্ধি – একেবারে গোপাল ভাঁড়ের মতো। আমরা ক বলতেই কাক বুঝে ফেলি। হাসিনা কিছু দিন হৈচৈ করে চুপ হয়ে গেলেন। হয়তো বুঝতে পারলেন যে, দেশের মানুষ এসব শুনতে চায় না।

তারচে স্বাধীনতার ঘোষক কে, রাষ্ট্র ধর্ম না ধর্ম নিরপেক্ষতা, দেশ ভারতে নিয়ে যাবে না আবার পাকিস্তান হয়ে যাবে … ৪০ বছরের বস্তা পচা পুরনো জিনিসই মানুষ খায় ভাল। ভাল-ভাল। তাহলে আর এসব বলার দরকার কী। তার নিজের তো কোন চিন্তা নেই। তার ছেলে এবং মেয়ে দুজনেই বিদেশে সেটেলড। আবার বিরোধী দলনেত্রী খালেদা জিয়ার মুখেও কোন কথা নেই । কারণ, তার ও চিন্তা নেই। আমেরিকা বা ব্রিটেনে বা নিদেনপক্ষে সৌদি আরবে সময়মত পাড়ি জমানো তাদের জন্য কোন ব্যাপার হবে না । আর প্রচুর টাকা তো বিদেশে লগ্নী করাই আছে।

কিন্তু দেশের ১৬ কোটি মানুষের কী হবে ? উট পাখির মতো মাটিতে মাথা গুঁজে রাখলেই কী আর ঝড় আসবে না ? অন্ধ হলেই কী প্রলয় বন্ধ হয়ে যাবে ?