ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

গত ৬/৭ বছর ধরেই ইউরোপ এবং আমেরিকার অভিবাসন আইনে বড় ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে । অবশ্য এর শুরু আমেরিকার ৯/১১ এর ঘটনার পর থেকেই । বিশ্বের ভাগ্যান্বেষী অভিবাসীদের মুক্ত দেশ বলে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম টেররিস্ট অনুপ্রবেশের অজুহাত তুলে সে দেশ ভ্রমণ করা এবং তাতে মাইগ্রেট করা কঠিন করে ফেলে। এমন কী তাদের প্রতিবেশি দেশ মেক্সিকোর দরিদ্র মানুষেরা যাতে কাজ খুঁজতে সে দেশে ঢূকতে না পারে তার জন্য কাঁটা তার ঘেরা দেয়াল তুলেই ক্ষান্ত হয় নি , ঢূকে পড়লেও যাতে তাদের দ্রুত ধরে ফেলা যায় তার জন্য ২৪ ঘণ্টা সশস্র পাহারার ব্যবস্থাও করেছে। এটা কেন ? মানে দরিদ্র মেক্সিকানরা তো আর মুসলিম টেররিস্ট নয়, তবে তাদের প্রতি এধরণের আচরণ কেন ? আর তারা তো আসলে তাদের জমিতেই ঢুকতে চাইছে । অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, আমেরিকার নিউ মেক্সিকো অংগরাজ্যটি আসলে মেক্সিকোর, আমেরিকা তা জোর করে দখল করে নেয়-অনেকটা একই কায়দায়, যেভাবে ঈসরাইলীরা প্যালেস্টাইন দখল করে নিয়েছে।

২০০১-এ টুইন টাওয়ারে হামলার পর আমেরিকা যখন সেখানে প্রবেশ এবং উচ্চশিক্ষাকে কঠিন করে দেয়, তখন ব্রিটেন তার দরজা খুলে দেয় বহিরাগত শিক্ষার্থীদের জন্য। সে সময়ে ভারত ,বাংলাদেশ , পাকিস্তান এবং অন্যান্য অনুন্নত দেশের অনেক তরুণ-তরুণী এদেশে প্রবেশ করে। ব্রিটেনে উচ্চ শিক্ষার জ ন্য ভিসা পাওয়া এতো সহজ আর কখনোই চিল না । এছাড়া হাই স্কীল্ড মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম চালু করায় এসব দেশের অনেক ডাক্তার, আইটি প্রকৌশলী এবং গবেষকগণ ব্রিটিশ এবং অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানীতে একজন ব্রিটিশ নাগরিকের মত সমান বেতনে কাজ করার সুযোগ লাভ করে। ইন্ডিয়ানরা এ সুযোগটী খুব ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে।

কিন্তু ২০০৫ সাল থেকেই সবকিছু আবার উল্টো মুখী হতে শুরু করে- বিশেষ করে লন্ডনের টিউব ট্রেনে পাকিস্তানী এবং আফ্রিকান বংশোদ্ভুত মুসলিম তরুণদের হামলার পর থেকে। রাতারাতি বিদেশী নাগরিকদের চাকরি বাকরি দেয়ার বেলায় ব্রিটিশ নাগরিকের সমান অধিকার দেয়ার আইনকে বাতিল করে দেয়া হয়। হাই স্কীল্ড মাইগ্রেশন স্কীম ও আস্তে আস্তে তুলে দেয়া হয়।

আর বিগত কয়েক বছরে অবাধ স্টুডেন্ট আসার বিষয়টিকে কঠিন করে ফেলা হয়। এর জন্য বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ভূয়া স্টূডেন্ট এবং ভূয়া কলেজ গুলো অনেকাংশে দায়ী। ফলে দশ বছর এ দেশে ছাত্র হিসেবে থাকতে পারলে এদেশে স্থায়ী হবার যে সুযোগ চিল তা এখন আর সম্ভব নয়।

একটা লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ইস্যু যাই হোক, ব্রিটেনে যাতে বাইরের মানুষ ( মানে অইউরোপীয় দেশের মানুষ ) প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে । এর কারণ হলো, ব্রিটেন তার জনসংখ্যা আর বাড়াতে চায় না। তাদের মতে ব্রিটেন তার ধারণ ক্ষমতার সীমায় পৌঁছেছে- বাড়তি লোক নিয়ে তারা নৌকা ডুবাতে চায় না। অন্য দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতেও যাতে আফ্রিকা বা এশিয়ার দরিদ্র মানুষগুলো ভাগ্য ফেরানোর আশায় বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে নৌকায় চড়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়েও ঢুকতে না পারে, তার জ ন্য কড়াকড়ি পাহারার ব্যবস্থা করেছে। আর অস্ট্রেলিয়া তো বর্বরের মতো নৌকায় ভাসমান মানুষদের পারলে সমুদ্রে ডুবিয়েই মেরে ফেলে। আর পৃথিবীতে যে দেশটি অভিভাসন নিয়ে সবচে বেশি বাণিজ্য করেছে সেই কানাডাও তার অভিভাসন আইন কঠোর করে ফেলেছে – অথচ এটা সে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় আয়ের উৎসঃ। কিন্তু জাতীয় আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপায় এই অভিভাসন বাণিজ্যকে কানাডা কঠোর করেছে কেন, কানাডা তো এক বি-শা-ল দেশ ?

মোটকথা হলো, পৃথিবীর ধনী দেশগুলো -আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা চাইছে আফ্রিকা ,এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকা হতে দরিদ্র মানুষেরা ভবিষ্যতে তাদের দেশে ঢুকে তাদের রিসোর্স -এ যাতে ভাগ বসাতে না পারে ।

কিন্তু কেন ? হঠাৎ করে এই দেশগুলো ঘরের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে কেন যখন তারা দিন-রাত গলা ফুলিয়ে গ্লোবালাইজেশনের কথা বলে বেড়ায় ?