ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

প্রাচীন কাল থেকে উদ্ভিদ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত “মানবদেহের জন্য বিষাক্ত” উপাদান ব্যবহার করে রোগের চিকিৎসা হয়ে আসছে। যে ধুতুরার বিষ সুস্থ মানুষকে উন্মাদ রোগে আক্রান্ত করতে পারে, সেই ধুতুরার সাহায্যে উন্মাদ রোগীকে সুস্থ করা হত।

এ পদ্ধতির আবিষ্কার হয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের গবেষকদের দ্বারা। পরে কিছু নীতিমালা পরিবর্তন করে ইউনানী ও হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রেও বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদানকে সূ²মাত্রায় পরিণত করে চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু আদিকাল থেকে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ ভেষজের বিষাক্ত উপাদানের ব্যবহারকে জীবাণুনাশক বিবেচনা করে আসছিলেন। সে উদ্দেশ্যে তারা উদ্ভিদ থেকে পাওয়া এ্যালকালয়েডের ঘনত্বকে বৃদ্ধি করে এসব বিষাক্ত উপাদানের সুস্থ করার ক্ষমতাকে বিষক্রিয়ায় রূপান্তরিত করে ফেললেন।

যেমন, ইউনানী এবং হোমিওপ্যাথিতে ব্যবহৃত সর্পগন্ধা বা রাউলফিয়া সারপেনটিনার ব্যবহার উচ্চরক্তচাপের তীব্রতাকে কমিয়ে এনেছিল। এ্যালোপ্যাথি বিজ্ঞানীরা যখন এর কর্মক্ষমতাকে বৃদ্ধি করার জন্য সর্পগন্ধার উপক্ষার রিজারপিনকে অধিক মাত্রায় ঘন করে সারপাসিল নামের ট্যাবলেট তৈরি করলেন, তখন ঐ ঔষধটি সুস্থ্যতার পরিবর্তে ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টি করল। ফলে এ্যালোপ্যাথিতে উচ্চরক্তচাপের ওষুধ হিসাবে সর্পগন্ধার ব্যবহার চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।

কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি শেষ হলো না। ১৯৪০ সালে ডাঃ জুলস্ টি ফ্রয়েন্ড নামে একজন আমেরিকান বিজ্ঞানী জন্তুর দেহে রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে য²া রোগের মৃত জীবাণু ইনজেকশন দিয়ে প্রবেশ করিয়ে ক্যান্সার জনিত টিউমার দূর করতে পেরেছিলেন। (ইন্টারনেট দ্রষ্টব্য)

বিজ্ঞানী ফ্রয়েন্ডের গবেষণার এ ফল ইনজেকশনের দ্বারা মানুষের দেহে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। কারণ মানুষের দেহে এসব বিষাক্ত পদার্থ ইনজেকশন দিয়ে প্রয়োগ করলে মাংসে পচন ধরে যায়। তাই এ নিয়ে ২০ বছর গবেষণার পরে বিজ্ঞানীরা মানুষের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিকে প্রয়োগ অযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত নেন।

ফ্রয়েন্ডের গবেষণা ব্যর্থ হয়েছিল বলে মনে হলেও এ আবিষ্কার বিজ্ঞানীদেরকে সাইটোকাইন নামের মানুষের দেহে ইনজেকশন দিয়ে প্রয়োগযোগ্য কিছু উপাদান আবিষ্কার করতে সাহায্য করে, যা মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্ভবতঃ ইনজেকশনের দ্বারা অধিকমাত্রায় প্রয়োগের ফলেই সাইটোকাইনের মতো এতো বড় একটি আবিষ্কার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে মানুষের কল্যাণ সাধনে সাফল্য আনতে ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে।

এছাড়া প্রাকৃতিক চিকিৎসকদের কাছে তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জন্তুর দেহে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ আরোগ্যকারী এসব বিষাক্ত উপাদান যে রোগপ্রতিরোধ শক্তিকে উজ্জীবিত করতে সক্ষম, একথাটি ফ্রয়েন্ডের পদ্ধতি আবিষ্কারের পূর্বে কেউ বুঝতে পারেননি। এসব বিষাক্ত উপাদানকে হোমিওপ্যাথির নিয়ম অনুসারে অল্পমাত্রায় মুখে খাইয়ে প্রয়োগ করলে ইনজেকশনের পার্শ¦প্রতিক্রিয়া এড়ানো যায়, যার দ্বারা মানুষের দেহকে রোগজীবাণু থেকে মুক্ত করা সম্ভব।

এক্ষেত্রে এ্যাডজুভেন্ট বা উদ্দীপক নামক এসব উপাদান সরাসরি জীবাণু ধ্বংস করেনা বরং দেহের শ্বেতকণিকাসমূহ দ্বারা জীবাণুকে ধ্বংস করিয়ে থাকে।

একসময় এ্যালোপ্যাথি বিজ্ঞানীদের দ্বারা ইনজেকশনের সাহায্যে স্যালাইন কিংবা পোলিও টিকা দেয়ার ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিত, অথচ বর্তমানে ইনজেকশনের পরিবর্তে মুখে খাইয়ে প্রয়োগ করে সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়ানো গিয়েছে। ঠিক তেমনি আয়ূর্বেদ, ইউনানী এবং হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রে মুখে খাইয়ে প্রয়োগকৃত প্রানীজগত এবং জীবাণুর মৃতদেহ দ্বারা তৈরী ওষুধের ব্যবহারকে ফ্রয়েন্ডের উদ্দীপকের সমতুল্য হিসেবে এ্যালোপ্যাথি বিজ্ঞানীদের কাছে বিবেচিত হলে, চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতপার্থক্য দূর হতে পারে।

আমরা বিজ্ঞানী ফ্রয়েন্ডের আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে আয়ুর্বেদ, ইউনানী এবং হোমিওপ্যাথির নীতিমালাকে একটি বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছি। যা সফল হলে এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বিশাল অভাব পূরণ হবে। প্রাকৃতিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিষাক্ত উপাদানগুলো বাছাই করে হোমিওপ্যাথিক নীতিতে সূ²মাত্রায় মুখে খাইয়ে প্রয়োগ করলে শরীর নিজেই প্রয়োজন মতো সঠিক সাইটোকাইনটিকে সৃষ্টি করতে পারবে। যে সাইটোকাইনটি নির্ভুলভাবে এ্যান্টিবডি দ্বারা জীবাণুগুলোকে সনাক্ত করে কিলার টি সেল দ্বারা সেগুলোকে ধবংস করবে। যখন সাইটোকাইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞানকে আর বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না।

Dr. S N Rashid MD (AM)
Contact: 01199119704
website: www.homeomodulation.com
Email:homeomodulation@gmail.com