ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

আমরা প্রায় সবাই জানি যে, জীবাণু থেকেই নানারকম জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। কারণ জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে কিছু বিষাক্ত পদার্থ সৃষ্টি করে যার দ্বারা আমাদের দেহ যন্ত্রগুলো কলুষিত হয়ে যায় এবং আমরা এটাও জানি যে দেহের ভিতর শ্বেতকণিকা নামক একপ্রকার রক্ষিবাহিনী রয়েছে যারা ঐ জীবাণুগুলোকে ধ্বংস করে আমাদেরকে রোগমুক্ত করে রাখে। কিন্তু আমরা আজ একটি নতুন কথা আপনাদেরকে জানাবো, যা হয়ত অনেকেই জানেন না। দেহের শ্বেতকণিকাগুলো জীবাণু ধ্বংস করতে গিয়ে দেহের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলোকে ধ্বংস করতে শুরু করে। উদাহরণস্বরুপ, সেনা বাহিনীর কাজ হচ্ছে দেশকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করা কিন্তু যদি সেনাবাহিনী বহিঃশত্রুকে দমন না করে দেশের জনসাধারণকে ধ্বংস করতে শুরু করে, তাহলে দেশবাসিকে রক্ষা করার জন্য তখন সেনাবাহিনীকেই ধ্বংস করে ফেলা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আর সেনা বাহিনীকে ধ্বংস করে ফেললে দেহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিহীন হয়ে পড়ে। তখন বহিরাগত শত্রুরা অতি সহজেই দেশটিকে দখল করে ফেলতে পারে। এমন একটি আত্মঘাতি ঘটনা মানবদেহের গভীরেও ঘটে থাকে । যা মারাত্মক সব রোগের জন্ম দেয়।

যেমন ধরুন কিছু জীবাণু একজন মানুষের দেহে কিডনির ভিতর আশ্রয় নিল। তখন যদি শ্বেতকণিকা জীবাণুকে ধ্বংস করতে গিয়ে কিডনিকে ধ্বংস করতে শুরু করে তখন কিডনিকে বাচানোর জন্য শ্বেতকণিকা গুলোকে ধ্বংস করতে হয়। আর এই শ্বেতকণিকাকে ধ্বংস করে ফেললে সমগ্র শরীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিহীন হয়ে পড়ে। তখন আরো শক্তিশালী জীবাণু পুরো দেহটিকে আক্রমণ করে বসে। তখন প্রথমতঃ কিডনির সব জটিল রোগের সৃষ্টি হয় তারপর ধীরেধীরে সমগ্রদেহের ভিতর গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলি আক্রান্ত হতে থাকে যার পরিণতিতে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। এর চেয়েও কঠিন রোগ যেমন- এসএলই (সিস্টেমিক লুপাস এরিথিমেটোসাস) বা ডিএলই (ডিসকয়েড লুপাস এরিথিমেটোসাস) এর মতো দেহের প্রতিটি কোষে ছড়িয়ে পড়া রোগের জন্ম হয়।

তেমনিভাবে দেহের প্যাংক্রিয়াস গ্রন্থির ভিতর জীবাণু বাসা বাঁধলে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবাণু ধ্বংস করতে গিয়ে প্যাংক্রিয়াস দ্বারা তৈরী ইনসুলিনকে ধ্বংস করে ফেলে, ফলে সৃষ্টি হয় ডায়াবিটিস নামক রোগ।
তেমনি জীবাণু যদি ওভারিতে বাসা বাঁধে তাহলে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবাণু মারতে গিয়ে ডিম্বানুগুলো ধ্বংস করে ফেলে কিংবা ওভারির পরিবর্তে জীবাণু যদি প্রস্টেট গ্রস্থির ভিতর বাসা বাঁধে তাহলেও বন্ধ্যাত্ব রোগের সৃষ্টি হয়।

আবার ঘটনাটি যদি লিভারের বেলায় ঘটে তাহলে লিভার প্রদাহ থেকে লিভার ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। জীবাণু যদি আরো গভীরে অস্থিমজ্জাকে আক্রমণ করে এবং একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে তখন অস্থিমজ্জায় তৈরী রক্ত ধ্বংস হয়ে ব্লাড ক্যান্সার বা লিউকিমিয়া বা থ্যালাসিমিয়া রোগের সৃষ্টি হয়।

এভাবে আরো শতশত রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে যার নাম অটোইমিউন ডিজিজ। এসব রোগের বেলায় কোন কোন ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানীর প্রেডনিসোলন নামক স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে রোগীদেরকে কিছু কালের জন্য বাচিয়ে রাখেন। কিন্তু এর দ্বারা রোগের প্রক্রিয়াকে বন্ধ করা সম্ভব হয় না।

অথচ হোমিওপ্যাথিক ওষুধের দ্বারা দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় যে তখন দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আত্মঘাতী কাজকে বন্ধ করে শুধুমাত্র বাছাই করে বহিরাগত জীবাণুদেরকে ধ্বংস করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন পড়ে ইমিউনোলজি বিজ্ঞানের সঙ্গে হোমিওপ্যাথির সুক্ষ্মমাত্রার ওষুধের যৌথ প্রয়োগ।

প্রচারে
হোমিওপ্যাথিক ইমিউনোমডুলেশন রিসার্চ সেন্টার
মোবাইল ০১১৯৯১১৯৭০৪
website: www.homeomodulation.wordpress.com