ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

যারা হোমিওপ্যাথি বিজ্ঞানকে ব্যবহার করতে গিয়ে বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন তাদেরকে হোমিওপ্যাথি বিজ্ঞানের প্রকৃত কর্মপদ্ধতি সম্বন্ধে কিছু কথা জানতে হবে। শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথিক পুস্তকের সাহায্য নিয়ে চেষ্টা করলে হোমিওপ্যাথির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরেকটি শাখা আছে যার নাম ফার্মাকোলজি। এই ফার্মাকোলজি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করলেই আমরা বুঝতে পারবো কিভাবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো আমাদের দেহে রোগ আরোগ্য করার কাজটি করে থাকে। উদাহরণস্বরুপ, আমরা হোমিওপ্যাথিতে যে কথাটি জানতাম না সেটা হচ্ছে শরীরে যখন কোন জীবাণু প্রবেশ করে তখন আমাদের দেহে প্রোষ্টাগ্লান্ডিন নামক এক ধরনের পদার্থ সৃষ্টি হয় যা আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই তাপমাত্রা বাড়ানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে দেহের ভিতর প্রবিষ্ট জীবাণুগুলোকে ধ্বংস করার জন্য দেহের গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো যন্ত্রকে উত্তেজিত করে তোলা। অর্থাৎ জ্বর কিন্তু কোন রোগ নয় বরং এটি হচ্ছে রোগ ধ্বংসকারী প্রক্রিয়ার একটি অংশ মাত্র । কিন্তু যেহেতু জ্বরের মাত্রা বেশী হলে এটি একটি কষ্টদায়ক ও কখনো কখনো ক্ষতিকর প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জ্বর নাশক ওষুধ আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু এই আবিষ্কার আপাত দৃষ্টিতে উপকারী হলেও এর পরিণতি যে ভাল নয় সে ব্যাপারে আমরা কিছু আলোকপাত করব।
জ্বর সৃষ্টিকারী উপাদান প্রোষ্টাগ্লান্ডিনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দেহের তাপমাত্রা কমে যায়। যে কাজটি চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা করছেন প্যারাসিটামল নামক উপাদানের সাহায্যে। হোমিওপ্যাথিতে আমরা এ কাজটি কয়েকটি ওষুধের দ্বারা করে থাকি যথা একোনাইট, ব্রায়োনিয়া, বেলেডোনা, রাসটক্স ইত্যাদি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আদিকালে আয়ূর্বেদ,ইউনানী, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিকাশ লাভের সময় নানাবিধ উপাদানের সাহায্যে জ্বরকে নিয়ন্ত্রণ করা হত।
বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সেই কাজটি একমাত্রা প্যারাসিটামলের দ্বারা সম্পাদন করছে । এই দুটো প্রক্রিয়ার কোনটি যে, শরীরের জন্য উপকারী সেটা আমরা বুঝতে চেষ্টা করব। আয়ূর্বেদ, ইউনানী ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় দেহের ভিতর প্রবিষ্ট জীবাণু ঘটিত বিষাক্ত উপাদানগুলোকে ধ্বংস করে জ্বরকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অথচ আধুনিক চিকিৎসায় প্যারাসিটামল দিয়ে জ্বরকে নিয়ন্ত্রণ করলে দেহে জ্বর সৃষ্টির যে প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্থাৎ দেহে প্রবিষ্ট বিষাক্ত উপাদানগুলোকে ধ্বংস করার কাজটি সম্পাদিত হয় না। ফলে দেহ জ্বরমুক্ত হলেও বিষমুক্ত না হয়ে বিষে ভারাক্রান্ত হয়ে থাকে। এই অবস্থাটি একজন মানুষের জীবনে বার বার ঘটনানোর ফলে দেহে ভিতর সঞ্চিত বিষাক্ত উপাদান (এন্টিজেনগুলো) সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছে যায় । ফলে বিষে ভারাক্রান্ত দেহের ভিতর অধিক মাত্রায় ক্ষতিকর জীবাণু প্রবেশ করে দেহের কোষের কেন্দ্রিকা বা নিউক্লিয়াসের ভিতর বাসা বাঁধে। এভাবে এমন একটা সময় আসে যখন ঐসকল বিষাক্ত নিউক্লিয়াস গুলোকে ধ্বংস করার জন্য দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা এন্টিনিউক্লিয়ার এন্টিবডি বা এএনএ সৃষ্টি করে। এই এএনএগুলো দেহের কোষগুলোকে ধ্বংস করতে শুরু করে। এভাবে যে রোগটির সৃষ্টি হয় তার নাম এসএলই বা সিস্টেমিক লুপাস এরিথিমেটোসাস। এটি একটি ভয়ংকর প্রানঘাতী রোগ যার চিকিৎসা একমাত্র প্রেডনিসোলন নামক ওষুধের দ্বারা দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে নিষ্কৃয় করে রাখা হয়, যার ফলে দেহের ভিতর আরো অধিক মাত্রায় ক্ষতিকর শক্তিশালী জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, দেহে জীবাণু প্রবেশ করার প্রথম বাধা সৃষ্টিকারী পদ্ধতি হচ্ছে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা বা জ্বর সৃষ্টি করা। এই জ্বরকে কমিয়ে ফেলে আমরা জীবাণুর দ্বারা দেহের আক্রান্ত হওয়ার পদ্ধতিকে সাহায্য করে থাকি। যার পরবর্তী অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা প্রেডনিসোলন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে আরো বেশী শক্তিশালী জীবাণুকে দেহে প্রবেশ করে ইচ্ছা মতো তাদের ক্ষতিকর রোগসৃষ্টিকারী প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করি। অথচ এর কোনটিই ঘটতে পারে না যদি আমরা শুরুতেই হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহার করে দেহকে বিষমুক্ত করে রাখি। আগামিতে আমরা দেখাতে চেষ্টা করব যে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ভিতর থেকে বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার করে আমরা কিভাবে জ্বর, ব্যথা, ইত্যাদি কষ্টকর লক্ষণগুলো সৃষ্টি হওয়ার আগেই দেহকে জীবাণু তথা বিষমুক্ত করে রাখতে পারি।