ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

রোহিঙ্গাদের স্বদেশ থেকে বিতাড়ন বা জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা পরিচালিত আশ্রয় শিবিরে পাঠানোই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান বলে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা রীতিমত উদ্বেগজনক এবং ইতিহাস অস্বীকার করার শামিল। থেইন সেইন এর মতে রোহিঙ্গা সমস্যা তাঁর দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রার হুমকি স্বরূপ। অপর দিকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের প্রধান অ্যান্টনিও গার্টার বলেন, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন বা দায়িত্ব নেওয়া ইউএনএইচসিআরের কাজ নয়। এসব মন্তব্য পরিস্থিতিকে নাজুক ও জটিল করে তুলেছে এবং জন্ম দিয়েছে অনেক প্রশ্নের। আরাকানে ১২শ বছর ধরে বসবাসরত ১০ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব অস্বীকার করার কোন যৌক্তিকতা নেই। সারা জীবন আশ্রয় শিবিরে থাকা অথবা বিতাড়নই কী রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান ? এ ভাবেই কী রোহিঙ্গাদের জাতিসত্ত্বা বিলুপ্ত হয়ে যাবে ?

গত ১২ জুলাই ইউএনএইচসিআরের প্রধান অ্যান্টনিও গার্টারের কাছে প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন যে মন্তব্য করেন তা প্রণিধানযোগ্য:

“We will take responsibility for our ethnic people but it is impossible to accept the illegally entered Rohingyas, who are not our ethnicity,The government was prepared to hand over the Rohingyas to the camps of UNHCR and then resettle the ethnic group in any third country “that are willing to take them”.This is what we are thinking is the solution to the issue.” : (http://india.nydailynews.com/newsarticle/4fff17e7c3d4caaa1f000000/myanmar-president-says-rohingyas-not-welcome#ixzz20brPcEOV July 12th 2012)

নৃতাত্ত্বিকভাবে যারা আমাদের জনগণ, আমরা তাদের দায়িত্ব নেব। কিন্তু মিয়ানমারে অবৈধভাবে প্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নেওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব। রোহিঙ্গারা নৃতাত্ত্বিকভাবে আমাদের জনগণ নয়। সরকার রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘের উদ্বাস্তু শিবিরে পাঠাতে প্রস্তুত যদি তৃতীয় কোনো দেশ নৃতাত্ত্বিক এ জনগোষ্ঠীকে তাদের দেশে পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয় দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। আমরা মনে করি এটাই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে প্রমাণিত হয় মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধিত ১৯ হাজার ও অনিবন্ধিত ৪ লাখ রোহিঙ্গাকে আর ফেরত নেবে না। বাংলাদেশ অনন্তকাল ধরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বোঝা কী বহন করতে পারবে? নতুন করে শরণার্থী নেয়ার প্রশ্ন তো অবান্তর। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর চাপ না থাকায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এমন ঘোষণা দিল। মিয়ানমারের এ পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ সংকটের মুখে পড়েছে তাই রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তোলা এবং এর একটি ন্যায়সংগত সমাধান দাবি করা উচিত। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ, আসিয়ান ও ওআইসি’র সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশের জোর কুটনৈতিক কার্যক্রম চালানো দরকার। নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতা স্বত্ত্বেও পৃথিবীর বহুদেশে বহু জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান মানব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। একটি জাতিগোষ্ঠীকে নিজ দেশ থেকে বিতাড়ন নিসন্দেহে সভ্যতার বিপর্যয়।