ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

আতিয়া মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন মসজিদ। টাঙ্গাইল শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দক্ষিণে দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রাম। এ গ্রামের লৌহজং নদীর পূর্ব পারে অবস্থিত আতিয়া মসজিদ। লাল ইটে তৈরি এ মসজিদটির স্থাপত্য শৈলী অত্যন্ত চমৎকার। মসজিদটি মূলত বর্গাকৃতির এক গম্বুজ বিশিষ্ট। এছাড়া পূর্ব দিকে অপেক্ষাকৃত ছোট তিন গম্বুজ বিশিষ্ট আয়তকার বারান্দা রয়েছে। বারান্দা থেকে মসজিদে প্রবেশ করার জন্য রয়েছে তিনটি প্রবেশপথ। মসজিদের কিবলা দেয়ালে রয়েছে তিনটি অলঙ্কৃত মেহরাব। আতিয়া মসজিদের পূর্ব ও উত্তর দেয়ালে রয়েছে চমৎকার সব পোড়ামাটির নকশা।
সুলতানি ও মোঘল স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যের আতিয়া মসজিদের নির্মাণকাল ১০১৯ হিজরী বা ১৬১০-১১ খ্রিস্টাব্দ। জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত মসজিদের একটি শিলালিপি থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। জানা যায় সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় বায়েজীদ খান পন্নীর পুত্র সাইদ খান পন্নী শাহ বাবা কাশ্মীরির সম্মানার্থে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। শাহ বাবা কাশ্মীরির আগমনে আতিয়া গ্রাম প্রসিদ্ধি লাভ করে। নির্মাতা মসজিদের পশ্চিম পাশে একটি বড় পুকুর খনন করেন যা এখনও বিদ্যমান। মসজিদের পুরনো শিলালিপিটির অনুকরণে নির্মিত একটি শিলালিপি যা কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথের ওপরে স্থাপন করা আছে। ১৮৩৭ সালে রওশন খাতুন চৌধুরানী কর্তৃক এবং ১৯০৯ সালে আবু আহমদ গজনভী কর্তৃক মসজিদটি দু’বার সংস্কার করা হয়েছে। প্রধান গম্বুজটি একবার ধ্বসে পড়েছিল, সম্প্রতি এটি পুনঃনির্মিত হয়েছে।

নকশা, অসংখ্য ফুলের অলংকরণের কারণে আতিয়া মসজিদ বেশ দৃষ্টিনন্দন। এ ধরনের অলংকরণ ষোলো শতকে নির্মিত গৌড়ের জাহানিয়া মসজিদ ও কদম রসূল ইমারতে পরিলক্ষিত হয়। আতিয়া মসজিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এর কুঁড়ে ঘরের কার্নিসের ন্যায় ধনুক বক্রাকার কার্নিস যা সম্পূর্ণরূপে বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যরূপে পরিগণিত। বস্তুত বাঁশের চালাঘর থেকে ইটের নির্মাণে এ ধরনের উদ্ভাবন শিল্পমানে আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত। নির্মাণ কৌশল ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে আতিয়া মসজিদে সুলতানী ও মুঘল যুগের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

আতিয়া মসজিদ বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে সংরক্ষিত স্থাপনা। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে প্রায় প্রতিদিন বহু পর্যটক মসজিদটি পরিদর্শনের জন্য টাঙ্গাইলের আতিয়া গ্রামে আসেন।