ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

‘ক্রিষ্টাল মসজিদ’ মালয়েশিয়ার কুয়ালা তেরেনগানু এলাকার পোলাও ওয়ান ম্যান দ্বীপে অবস্থিত । নির্মাণ শৈলী ও স্থাপত্য নিদর্শনের দিক দিয়ে এটা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মসজিদের অন্যতম । নৈসর্গিক পরিবেশের কারণে মসজিদের অভ্যন্তর ও বহিরাঙ্গন পরিবেশ বান্ধব। প্রাকৃতিক শোভা ও মানুষের নির্মাণ শৈলীর অপূরব একাত্মতা ঘটেছে এ মসজিদে। স্বচ্ছ কাঁচ ও লৌহ দন্ড দিয়ে পুরো মসজিদটি নির্মিত। মসজিদের নামকরণের পেছনে এটাই মূল কারণ। ইসলামী স্থাপত্য ও মালয় চৈনিক শিল্প রীতির সমন্বয় প্রয়াসে গড়ে তোলা এ মসজিদটির কিছু অংশ পানিতে আর বাকী অংশ স্থলে। মসজিদের অভ্যন্তরে দরজা জানালায় নকশা অঙ্কিত বিভিন্ন আকৃতির কাঠের ব্যবহার রূপ বৈচিত্র্যে নতুন মাত্রা যোগ করে। সূর্যের আলোতে এ মসজিদের এক রূপ এবং রাতের আঁধারের মসজিদের অন্য রূপ নামায আদায়কারী ও পর্যটকদের বিস্ময়ে বিমোহিত করে। এটা নির্মাণ করতে সময় লেগেছে দু’বছর (২০০৬-২০০৮)। মসজিদের অভ্যন্তরে তার বিহীন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ থাকায় মুহূর্তের মধ্যে ইমাম সাহেবের ওয়ায ও খুতবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। দৃষ্টি নন্দন খোদাইকৃত ক্রিষ্টাল মসজিদ কেবল মালয়েশিয়ায় নয় গোটা বিশ্বের জন্য অতি আশ্চর্য স্থাপনা। দেশ বিদেশের পর্যটকদের জন্য এটা একটি বাড়তি আকর্ষণ। ২০০৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ আহমাদ বাদাবী কর্তৃক মসজিদটি উদ্বোধন করার ৬ দিনের মধ্যে সাত লাখ মানুষ মসজিদটি পরিদর্শন করে মুগ্ধ হয়। সুলতান তেরেনগানু মীযান যায়নুল আবেদীনের নির্দেশে এটি তৈরী করা হয়। উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ চীন সাগরের তীরে অবস্থিত তেরেনগানু ফেডারেল মালয়েশিয়ার একটি সাংবিধানিক অঙ্গরাজ্য। দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ও শ্বেত বালির জন্য তেরেনগানু প্রসিদ্ধ হয়েছে।