ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সাম্প্রতিক সময়ে সাদা পোষাকধারী কিছু লোক দিনে বা রাতে যে কোন মানুষকে ঘর বা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পরে ডোবায়, খালে ও বিলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এ সংস্কৃতি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের জন্য কেবল বেদনাদায়ক নয়, লজ্জাজনকও বটে। পুলিশের আইজি গুপ্তহত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, এর সাথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ সম্পৃক্ত নয়। বিষয়টি পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখছে (কালের কণ্ঠ, ১৮/১২/১১)।

ইন্সপেক্টর জেনারেলের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলতে চাই যে, যে কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার সময় ওই বাহিনীর ইউনিফর্ম থাকা বাঞ্চনীয়। হরতালের সময় ইউনিফর্মধারী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশে অস্ত্র হাতে সাদা পোষাকে কিছু লোক দেখা যায়। আমাদের প্রশ্ন তারা কারা? তারা কী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য? না দলীয় ক্যাডার? বিষয়টি পরিস্কার হওয়া দরকার। রাজপথে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দৌড়াতে দেখলে সাধারণ মানুষ আতংকিত ও শংকিত না হয়ে পারে না। মানবাধিকার কমিশনের আরো জোরালো কর্মপ্রয়াস প্রয়োজন। তাদের নীরব ভূমিকায় সাধারণ মানুষ উৎকণ্ঠিত ও হতাশ।

যে ব্যক্তি যতই ভয়ংকর অপরাধী ও সন্ত্রাসী হোক না কেন আইনের আওতায় তাকে এনে শাস্তির বিধান করা রাষ্ট্রের (প্রশাসন-বিচার বিভাগ) দায়িত্ব। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার এটাই পূর্বশর্ত। গুম, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার ও কারা হেফাজতে কোন নাগরিকের মৃত্যু সুস্থ সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য হতে পারে না। বিচার বহির্র্ভূত হত্যাকান্ড অব্যাহত থাকলে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার অকার্যকর হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিকের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের সব স্বপ্নস্বাধ ব্যর্থ হয়ে যাবে। যথাযথ আদালতের পরওয়ানা (Warrant of Arrest) ছাড়া কোন নাগরিককে গ্রেফতার করা আইনের শাসন ও মানবাধিকার পরিপন্থী। ৫৪ ধারা ও বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিলের আমরা দাবী জানাই। আফসোসের কথা হচ্ছে বিগত ৪০ বছরে পালাক্রমে যারাই রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়েছেন তারাই বিরোধী পক্ষকে দমন-নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে এ ধারাগুলো ব্যবহার করেন।

এখনতো আর ব্রিটিশ বেনিয়া অথবা পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠী নেই, তার পরও কেন নিজদেশের জনগণের সাথে এই নির্মম আচরণ। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাস্ট্রে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি থাকা চাই। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তড়িৎ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।