ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমি আমার লেখাটি লিখছি তাদের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে, যারা মানুষরূপী পশু। যারা তাদের নিজেদের দেহকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নিজের পাশবিক চরিত্রের পাশবিক চাহিদা পূরণের জন্য যারা নিরহ মেয়ে লোক এমনকি শিশু বা, প্রতিবন্ধীদের উপর পৈশ্চাচিক আক্রমণ চালায়। আজ অনেক কষ্ট হয় এই ভেবে যে, মানুষের নৈতিকতার এত অধপতন কীভাবে সম্ভব? অনেক কথা লিখতে ইচ্ছা হয়, কিন্তু লিখে কতটুকু ফল পাওয়া যাবে এটা নিয়েও সংশয়। কারন, আমরা যারা লিখছি বা, এখানে যারা ব্লগ পড়ি তারা হয়ত জানব বা, মতামত জানাব। কিন্তু যে নরপিশাচগুলো এই ধরনের পাশুবিক কাজ করে তাদের কতটুকু জানাতে পাড়ব। তবে এভাবে একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কারণ এটা একটা সামাজিক সমস্যা। যদি কোন সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে ঐ সমাজের সচেতন লোকদের অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ যেভাবেই হোক ঐ সমস্যা মানুষ সামাজিকভাবে বয়কট করবে এবং আইন প্রণেতারা আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তা আইনগতভাবে অবৈধ করবে। আর তাহলে ঐ সমস্যা কেউ করতে পারবে না আর যদি কেউ করেও সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আমার ধারণা। আজ ধর্ষণ আমাদের জন্য অবশ্যই একটি বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। একজন ধর্ষণকারীকে পারিবারিকভাবে, সামাজিকভাবে বা, রাজনৈতিকভাবে কোনভাবেই সমর্থন দেওয়া যায় না। কিন্তু দেখা যায় আমাদের দেশে এদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। আর যদিও কাউকে আনা হয় তাহলের আবার তথাকথিত ”আইনের ফাক” দিয়ে তারা বের হয়ে যায়। যদি তাদের শাস্তি দেওয়া নাই-ই হয় তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনার দরকার কী?

গ্রেপ্তার করে ছেড়ে দেওয়া আর, গ্রেপÍার না করা উভয়ই অবশ্যই এ কাজকে সমর্থন করা বোঝায়। আমার প্রশ্ন আইনের ”ফাক/ছিদ্র” যদি আইন থেকে বেশি কার্যকর হয় তাহলে আইনের দরকার কী? সবই কী লোক দেখান না, সমাজের অপরাধী প্রভাবশালী শ্রেণীর জন্য? আবার এই ফাক/ছিদ্র তৈরি করছে অপরাধীর কোন সামাজিকভাবে বা, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী মহল থেকে অথবা, টাকা দিয়ে কেনা কোন উকিলের মাধ্যমে। তাহলে অর্থ এটাই দাড়াল, সমাজের তথাকথিত উচ্চমহলের কিছু দূষ্কৃতিকারী আজীবন নিরহদের উপর পৈশ্চাচিক আক্রমণ করবে, আর নিরহরা তার শিকার হবে আজীবন। মিডিয়াতে কিছুদিন লেখালেখি হবে, মানবধিকারবাদীরা কিছুদিন মানববন্ধন করবে, বিভিন্ন সচেতনমহল থেকে নিন্দা জানাবে, তারপর সবকিছু শেষ। কিন্তু নির্যাতনের শিকার যে মেয়ে সে কী পায়?? কিছু না পেয়ে অবশেষে মৃত্যুই তার কাছে সবচেয়ে আপন হিসাবে বিবেচিত হয়। আমি বলতে চাই এ মৃত্যু কার মৃত্যু, এ মৃত্যু কিসের মৃত্যু? এ মৃত্যু আমাদের মানবিকতার, এ মৃত্যু আমাদের সভ্যতার, এ মৃত্যু আমাদের নৈতিকতার। আসুন আমরা এই অপরাধ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। আমরা এমন আইন তৈরি করি যেখান থেকে অপরাধীদের বের হবার কোন পথ থাকবে না। তাহলেই আমরা একটা মানবতাপূর্ণ, ধর্ষণের মত অপরাধমূক্ত একটা সমাজ পাব।

সবাইকে ধন্যবাদ।