ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

সাগর রুনির হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এই পর্যন্ত অনেকের অনেক কথা আমরা শুনেছি, জেনেছি । কিছু হয়তো সঠিক আবার কিছু হয়ত মনগড়া ছাড়া আর কিছুই না । এ টি এন বাংলার চেয়ারম্যান জনাব মাহফুজ তো কোনও রাখ ঢাক না রেখেই সংবাদ সম্বেলন এ সাগর রুনির চরিত্র হরণ করতে উঠে পড়ে লেগে গেলেন !! কিন্তু উনি যেসব খোরা যুক্তি ওই সংবাদ সম্বেলন এ দেখালেন তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত…..?? যুক্তিযুক্ত যদি নাই হয়ে থাকে তবে কেন তিনি সংবাদ সম্বেলন এ এরকম যুক্তিহীন কথা বার্তা বলে গেলেন কোনরকম রাখ ঢাক না রেখেই ? তার মানে কি উনি সংবাদ সম্বেলন করে বুঝাতে চাইতেছেন যে সাগর রুনির চরিত্র ভাল ছিল না তাই ওদের হত্যা করা জায়েজ হইছে…..?? যদিও কোনও আইনেই এরকম বলা নাই যে কারো চরিত্র খারাপ হলে তাকে হত্যা করা জায়েজ । তবে কি কারণে জনাব মাহফুজ একজন মৃত মানুষের চরিত্র হননের জন্য এরকম উঠে পড়ে লাগলেন সেইটা অবশ্যই তদন্তের জোর দাবি রাখে ।
এখন আসুন আমরা “একটু” বিচার বিশ্লেষণ করে বের করার চেষ্টা করি যে জনাব মাহফুজের বলা কথাগুলো আদৌ যুক্তিযুক্ত ছিল কিনা….। “একটু” বললাম এই কারণে যে তার বলা কথাগুলো যুক্তিযুক্ত কিনা তা বের করতে খুব বেশি বিচার বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন নাই ।

১) জনাব মাহফুজ বলেছেন যে সাগর রুনির বাসায় প্রতিদিন মদের আড্ডা বসতো, অনেক সাংবাদিক ওই মদের আড্ডায় যোগ দিতেন । কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো এর সাথে ওদের খুন হওয়ার সম্পর্ক কি….? বাংলাদেশে এমন লোক খুজে পাওয়া খুবই কষ্ট হবে যে জীবনে একবার হলেও এমন আড্ডায় বসে নাই । আর তা ছাড়া মদের আড্ডা বসতো এমন কোনও আলামত আমরা ঐখানে দেখি নাই । কোনও মদের বোতল ও ওই বাসা থেকে উদ্ধার করতে আমরা দেখি নাই ।

২) জনাব মাহফুজের ভাষ্যমতে ওই দিন সাগর এর বাসায় আসার কথা ছিল ভোর ৬ টায় কিন্তু রুনির পরকীয়ার ব্যাপারটা বুঝতে পেরে রাত ২ টার সময় কাউকে কিছু না বলে সাগর বাসায় এসে ওদের খারাপ অবস্থায় দেখতে পায় । ফলে রাগান্নীত হয়ে সাগর রুনিকে খুন করে পরে রুনির পরকীয়া প্রেমিক সাগরের হাত পা বেধে তাকে খুন করে…..!!!! কিন্তু হত্যাকাণ্ডের যেসব ছবি আমরা দেখেছি তা থেকে কি জনাব মাহফুজের বক্তব্য বিশ্বাসযোজ্ঞ বলে আমরা মনে করতে পারি…??
(ক) যদি মাহফুজের কথা সত্য হয় তবে কি সাগর ঐরকম হাফ প্যান্ট পরে অফিস এ গেছিল…?? নাকি অফিস থেকে বের হয়ে আসতে আসতে রাস্তায় ফুল প্যান্ট চেঞ্জ করে হাফ প্যান্ট পরে ফেলছে….?? নাকি অফিস থেকে বাসায় এসে রুনি কে বলছে যে তোমরা পরকীয়া করতে থাকো আর আমি ফ্রেশ হয়ে আসি । তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে সাগর রুনি কে খুন করছে…..!!! নাকি খুনী খুন করার পর সাগর কে হাফ প্যান্ট পরিয়ে দিছে….?!
(খ) রুনি যে ড্রেস পড়া ছিল তাতে মনে হয় খুব পরিচিত মানুষ না হলে তাদের সামনে এরকম পোশাক পড়ার কথা না । আর না হলে উপরে কোনও গেঞ্জি পড়া ছিল কিন্তু ধস্তাধস্তির কারণে হয়তো গেঞ্জিটা গা থেকে ছিড়ে বের হয়ে গেছে । কিন্তু সেই রকম কোনও আলামত ই নাকি পুলিশ পায় নাই । যদি তাও না হয় তবে রুনি ওই রুম এ ছিলই না । হয়তো অন্য রুম এ ঘুমানোর চেষ্টা করতেছিলেন । আর সাগর ওই রুম এ খুনীদের সাথে কোনও দেন দরবার করতেছিলেন । দেন দরবার ব্যর্থ হওয়ার পর খুনীরা যখন সাগরের উপর হামলা করে তখন হয়তো রুনি বুঝতে পেরে নিজের স্বামীকে বাচানোর জন্য ওই ভাবেই দৌড়ে ওই হত্যাকাণ্ডের রুম এ ঢুকে ।

৩) জনাব মাহফুজ বলেছেন যে যে চাকু বা বটি দিয়ে সাগর রুনি কে হত্যা করা হইছে তাতে সাগর রুনির হাতের ছাপ পাওয়া গেছে । তাই উনি শিওর যে সাগর প্রথমে রুনি কে ওই বটি দিয়ে খুন করছে । চাকু বা বটি কোনটা দিয়ে খুন করলে কতটুকু ভুরি বের হবে এই বেপারে তাকে খুব এক্সপার্ট বলেই মনে হইল তার বক্তব্য শুনে । কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো সাগর রুনির বাসায় ওদেরই চাকু বা বটিতে ওদের হাতের ছাপ থাকবে না তা কি করে হয় ? বরং ওদের হাতের ছাপ না পাওয়া গেলেই তো সন্দেহ জনক হতো ঘটনাটা । নাকি ওই চাকু বা বটি কেনার পর বিক্রেতা এসে ওদের বাসায় এগুলা রেখে গেছে আর বলে গেছে যে সাবধান এই চাকু বা বটি ধরবেন না….!!

৪) সাগর রুনির ছেলে মেঘ বলেছিল যে খুনীর হাতে পিস্তল ছিল । জনাব মাহফুজকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সে বলল যে মেঘ নাকি পাগল হয়ে গেছে…….!! তার যুক্তি হলো পিস্তল থাকলে গুলি করল না কেন ? পিস্তল থাকতে চাকু বা বটি দিয়ে মারতে গেল কেন ? তার কথা শুনে আমার মনে হইল যে পাগল কি আসলে মেঘ হইছে নাকি ধরা পড়ার মানসিক টেনশনে মাহফুজ নিজেই পাগলের প্রলাপ বকতেছেন ? কারণ খুব স্বাভাবিক ভাবে চিন্তা করলেই বুঝা যায় যে এত রাতে খুন করার জন্য ওই রকম একটা বাড়িতে গুলি করলে তার পরিণাম কি হইতে পারে । গুলির আওয়াজ নিশ্চই এত কম না যে গুলি করলে কেও টের পেত না তাও আবার এত রাতে…!! বরং আমাদের ধারনা যে পিস্তল ছিল বলেই ঐটার ভয় দেখিয়ে সাগর কে বেধে ফেলটা এত সহজ হইছে ।

৫) জনাব মাহফুজ এরকম ও বলছেন যে খুন করার পর ভোর এর দিকে সেইখান থেকে দুই টা ছেলে মোটর সাইকেল এ করে চলে গেছে । আমাদের কথা হলো কে দেখছে তাদের কে ?! যদি কেউ না দেখে থাকে তবে জনাব মাহফুজ কিভাবে জানলেন ? আর যদি কেউ দেখে থাকে তবে যে দেখছে তার কথা তদন্তকারী দলের কাছে উনি কেন বলেন নাই ? যে দেখছে নিশ্চই সে তাদের দুইজনের অন্তত একজনের চেহারা কিছুটা হইলেও দেখছে, অথবা শরীর এর গঠন কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে । তাহলে সেই লোকের কথা জনাব মাহফুজ কেন বললেন না তদন্তকারী দলের কাছে ।

আশা করি পাঠক বৃন্দ যুক্তি খন্ডন গুলো বুঝতে পারবেন । তারপর ও এইসব সব যুক্তিও যদি বাদ দেই তবুও বলা যায় যে নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরীরত অবস্থায় মেয়ের বয়সী যে মেয়েটা এইভাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো তাকে নিয়ে এইরকম অশালীন বক্তব্য মাহফুজ সাহেব কেমন করে দিলেন ? মাহফুজ যদি জড়িত না থাকতো তবে কখনোই সে এইরকম বক্তব্য দিতে পারতো না । ঘটনার মোড় অন্য দিকে ঘুরাতেই ইচ্ছাকৃত ভাবেই জনাব মাহফুজ এই ধরনের বক্তব্য দিছে । উনার আচরণ দেখে মনে হইতেছে যে উনি উনার কোনও কাছের লোক কে বাচানোর জন্য এইরকম অশ্লীল ভাবে উঠে পরে লেগেছেন । কিন্তু কে সেই লোক…..? কাকে মাহফুজ বাচাইতে চাইতেছেন……? কোন স্বার্থে মাহফুজ ওই লোক কে বাচাইতে চাইতেছেন ? এর সব উত্তর ই পাওয়া যাবে যদি মাহফুজ কে গ্রেফতার করে রিমান্ড এ আনা হয় । তাই বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করতে চাই যে যত তাড়াতাড়ি সম্বব এই মাহফুজ কে গ্রেফতারের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করে সঠিক খুনীদের খুজে বের করুন । এবং খুনিদের যথাযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করুন । ধন্যবাদ ।