ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

একটা প্রবাদ আছে যে খালি কলসী বাজে বেশি। এই কথাটা আমাদের এই দেশের ক্ষেত্রে খুবই সত্য বলেই মনে হই। “গণতন্ত্র” এই কথাটা আমাদের দেশে যতবার যত নেতা নেত্রীর মুখে উচ্চারিত হয় তা মনে হয় পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে হয় না। কিন্তু আপনারাই বলেন যে আমাদের দেশে গণতন্ত্র কোন যায়গায় আছে…..??? যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের কথা শুনে মনে হয় দেশ গণতন্ত্রে ভেসে যাইতেছে…..। কিন্তু বাস্তবতা তো এরকম মনে হয় না।

আমাদের দেশের কোন রাজনৈতিক দলের ভিতরে গণতন্ত্রের চর্চা হয় আপনার কী বলতে পারবেন….??? কোন রাজনৈতিক দল তৃণমূল নেতা কর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়…??? কোনও রাজনৈতিক দলই গণতন্ত্রের চর্চা করে না।

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা পাইলেই মনে করে যে সে সব ক্ষমতার অধিকারী হয়ে গেছে। সে যা খুশি করতে পারবে কিন্তু কেও কিছু বলতে পারবে না। সে মনে করে জনগণ তাকে সারাজীবনের জন্য ক্ষমতায় বসাইছে। তারা ক্ষমতার মোহে এক প্রকার বদ্ধ উন্মাদ হইয়া যায়। আমরা জনগণ চেয়ে চেয়ে দেখি আর ওদের অগণতাংত্রিক প্রতিহিংসার রাজনীতির বলি হই। এইটাই মনে হয় আমাদের সাধারণ জনগণের নিয়তি। অথচ আমাদের দেওয়া মেনডেট নিয়েই ওর ক্ষমতায় এসেছে….!!!

এই দেশে সরকারী দল বা বিরোধী দল উভয়ই থাকবে এবং একসাথে মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করবে এইটাই তো এই দেশে মানুষের সপ্ন। কিন্তু বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে না দেওয়া তো সরকারী দলের কাজ না। এর জন্য তো জনগণ তাদের ক্ষমতায় বসায় নাই। বিরোধী দল মানববন্ধন করতে পারবে না মিছিল করতে পারবে না ঠিক মত জনসমবেশ করতে পারবে না রাস্তায় দাড়াতে পারবে না…….এইটা কেমন গণতন্ত্র…???!!! এই দেশটা তো কারো বাপ দাদার সম্পত্তি না যে এই দেশে বিরোধী দল বলে কিছু থাকতে পারবে না….!!! সরকার যদি এরকম অসহিষ্ণু আচরণ প্রতিনিয়ত করতে থাকে তবে তো বিরোধী দলের অভিযোগ ই সত্য হইয়া যায় যে দেশে বাকশাল কায়েম করার চেষ্টা চলতেছে। বিরোধীদল কোনও কর্মসূচী দিলে তা ঘোষণা দিয়ে প্রতিহত করার জন্য সরকারী দল কর্মসূচী কেন দিবে…??? বিরোধীদলের যেকোনো গণতান্ত্রিক কর্মসূচীতে সরকারী দল তাদের পেটওয়া বাহিনী ছাত্রলীগ আর পুলিশ দিয়ে হামলা চালাবে এরকম গণতন্ত্র তো আমরা চাই না। এটাকে তো গণতন্ত্র বলে না একে বলে বাকশাল। তাই তো আমাদের মনে আজ প্রশ্ন জাগে যে আসলে আমরা কী গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি নাকি গণতন্ত্রের লেবাস ধারী বাকশাল আমদের দেশে কায়েম হইছে….???