ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

তেইশ এপ্রিল হরতাল শিথিল হবার পর ঘড়ির কাঁটা যখন রাত দশটার দিকে এগুতে থাকলো তখন শ্যামলী পরিবহন উঠে যাত্রা শুরু করলাম। যথারীতি কুমিল্লা , ফেনী ও তারপর চিটাগং পাড়ি দিয়ে ভোর ছয়টায় পৌঁচ্ছে গেলাম রাঙামাটি শহরের আঁকাবাঁকা পথের বাকে , চারপাশে সবুজ গাছের সারি সারিতে সাজানো এক কথাতে অসাধারণ।

এরপর কিছু পথ পাড়ি দিতেই পৌঁছে গেলাম আমাদের গন্তব্য হোটেল সুফিয়া এর পাদদেশ এ , কিছু সময় হোটেল রুমে অপেক্ষা করে বের হয়ে গেলাম সকালের নাস্তা করার জন্য। তারপর পাহাড়ি রাস্তা ধরে কিছু পথ হাঁটার পর কেমন যেন এক শান্তি অনুভূত হতে লাগলো। চারপাশ সবুজ আর সাথে লেকের পানির নিরব বয়ে চলা। রাঙামাটিতে আমাদের এক পরিচিত জনাব সজীব চাকমা এর সাথে ফোনে কথা হল, সে আমাদের কে গাইড করের জন্য বাসা থেকে রওয়ানা হয়েছে। ক্ষণিকক্ষণ পরে সে এসে পৌঁছলেন। তার সাথে কিছু কথা বলার পর আমরা একটা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করলাম। ঠিক করলাম প্রথম এ আমরা বাজার থেকে দুপুরের খাবার কিনে নিয়ে যাত্রা করব ঝুলন্ত ব্রিজ এর দিকে…। যথারীতি নৌকা দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম এক অসাধারণ দৃশ্য যেন একদম তুলি দিয়ে আকা এক শহর রাঙামাটি। সাথে সাথে আমি ক্যামেরা বন্দী করার চেষ্টা করছিলাম কিছু দৃশ্য, তবে নিজ চোখে যা দেখছিলাম তা লেখে বা ছবিতে দেখানো যাবে না। এরপর এগুতে থাকলাম ঝুলন্ত সেতু এর দিকে যতই কাছাকাছি আসতে ততই অভিভূত হতে থাকলাম। কিছু সময় সেখানে কাটানোর পর যাত্রা করলাম পেদা টিং টিং এর পথে কিন্তু সেখানে অনিবার্য কারণবশত প্রবেশ করতে পারলাম না।

রাঙ্গামাটি

এরপর চলে গেলাম টুক টুক এর দিকে, খুব কাছাকাছি দুইটি টিলা এর উপর এই দুইটি স্থানের অবস্থান। কিছূ সময় পর চলে গেলাম শুভলোং ঝরনার এর দিকে…। চলার পথে আকাশটা মেঘলা করল চারপাশ অপূরূপ মায়াবি আবহাও্য়া তে ছেয়ে গেলো। অসাধারণ এক ফ্রেমে আটকে গেল চোখ, মনে হচ্ছিল যেন সপ্নে দেখা এক পথ দিয়ে চলছি। কল্পনাতেও এত সুন্দর হবে ভাবি নাই। কিছুক্ষণ নিরব হয়ে পরিবেশ আর সবুজে ঘেরা পাহাড়ের সীমাহীন সৌন্দর্যের রান্না করা উপাদান গুলো হজম করছিলাম। খানিকক্ষণ পরেই দৃষ্টি আটকে পড়ল এক পাহাড়ের গায়ে লেখা বরকল উপজেলা। আচ করতে পারলাম যে আমরা শুভলঙ্গ পাহাড়ের খুব কাছাকাছি এসে পড়েছি। শুভলঙ্গ পাহাড়ের চারপাশটা বেশি সুন্দর, দুপারে উচু উচু পাহাড়ে ঘেরা মাঝ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে অবিরাম জলধারা সাথে আমাদের নৌকার যাত্রা, অবাক করা এক অনুভূতি এক কথায় “Beautiful”।

বৌদ্ধ মন্দির

এরপর শুভলঙ্গ ঝর্ণার কাছে এক অপূর্ব সুন্দর প্রকীতির দেখা পেলাম…। গাছে গাছে পাহাড়ি ফুলের সুবাস এক পাহাড়ি পথ হেটে পার হতেই শুভলঙ্গ ঝর্ণার সন্ধান পেলাম। তারপর আমরা দুপুরের খাবার শেষ করে যাত্রা সুর করলাম বৌদ্ধ মন্দির এর দিকে…। বৌদ্ধ মন্দির পৌঁচ্ছে পেলাম এক শান্তির আভাস। পুরো স্থানটি অনেক গোছানো অনেক সুন্দর। বৌদ্ধ বিহার জায়গাটিতে রয়েছে অনেক বানর সেগুলো গাছে গাছে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাঠে খেলছে , নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না যে কত গোছানো এক স্থান। এইভাবেই শেষ হল আমাদের রাঙামাটিতে এক অসাধারণ ভ্রমণ। আশা করি আপনারা খুব শীঘ্রই ঘুরতে যাবেন পাহাড় আর লেকের শহর রাঙামাটিতে …….।