ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

কুইন্সের যে বাসায় হুমায়ূন আহমেদ থাকেন, সেই বাসা হঠাৎ ঘিরে ফেলে মার্কিনি গোয়েন্দারা। বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আসছেন। তারপর দলবল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে বাসায় চলে যান শেখ হাসিনা। বলেন, আমি আপনার জন্য বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে এসেছি। তা ছিল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। একজন বরেণ্য লেখকের প্রতি রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিত্বের এই ভালোবাসা।

সাদা ফুল দিয়ে বরণ করেন হুমায়ূন আহমেদকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনার জন্য বাংলাদেশের ভালোবাসা নিয়ে এসেছি। তাৎক্ষণিকভাবে দশ হাজার ডলার রাষ্ট্রীয় অনুদান দেয়া হয় হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসার জন্য।

হুমায়ূন আহমেদ বলেন, আমার থেরাপি চলছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আসার পর আমার নতুন থেরাপি শুরু হয়েছেÑ তা ভালোবাসার থেরাপি। দুটো বই উপহার দেন তিনি শেখ হাসিনাকে। হুমায়ূন আহমেদের দুই শিশু ছেলেকে আদর করেন প্রধানমন্ত্রী। হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এসময় ছিলেন অশ্রুসিক্ত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে দেখতে যান। নিউইয়র্কের বিশ্বখ্যাত একটি চিকিৎসালয়ে হুমায়ূন আহমেদের ক্যান্সার চিকিৎসা চলছে। হুমায়ূন আহমেদের বাসায় ৩০ মিনিট সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি হুমায়ূন আহমেদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে তাকে সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. আবুল মোমেন।

সংবাদটি গোটা বাঙালি লেখক সমাজের জন্য একটি শুভ সংবাদ। অভিবাসী লেখকরা চাইছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরকালে হুমায়ূন আহমেদকে দেখতে যাবেন। তিনি সেই অনুরোধ রক্ষা করেছেন।
শেখ হাসিনা আবারো প্রমাণ করেছেন, তিনি গণমানুষের নেত্রী। তিনি বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের ধারক ও প্রহরী। আমার মনে পড়ছে, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যখন গুরুতর অসুস্থ তখন তাঁকে দেখতে যাওয়ার জন্য আমরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি দেখতে তো যানইনি, বরং কটাক্ষ করেছিলেন শহীদ জননীর প্রতি। অথচ ‘একাত্তরের দিনগুলো’র জন্যই জাহানারা ইমাম অমর হয়ে থাকবেন হাজার বছর।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের নন্দিত কথাশিল্পী। তার- ‘নন্দিত নরকে’ থেকে ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ অথবা ‘আগুনের পরশমণি’ এর মতো চলচ্চিত্র বাঙালি জাতিকে অমর আলোর সন্ধান দিয়ে যাবে অনন্তকাল। বলতে পারি, বাংলাদেশে হুমায়ূন আহমেদ একজনই। তার কোনো তুলনা নেই। বেদনার বিষয় হচ্ছে, তাকে শেখ হাসিনা দেখতে যাওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় অনুদান দেবার বিষয়টিকেও এক শ্রেণীর অর্বাচীনরা খুব বিতর্কিত করতে চাইছে। নানা প্রশ্ন তুলছে। মানুষ কতো হীনমন্য হলে এমনটি বলতে পারে, তা বিভিন্ন ব্লগে কিছু বেনামি, ছদ্মনামি তস্করদের লম্ফ-ঝম্পতে আমরা দেখেছি।

আমাদের চরম দুর্ভাগ্য হচ্ছে, আমরা আমাদের মেধাবীদের সম্মান দিতে জানি না। এটা অনেকেরই হয়তো জানা আছে, হুমায়ূন আহমেদ একসময় যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করেছেন। চাইলে আরো অনেক ডক্টরদের মতো তিনিও আমেরিকায় থেকে যেতে পারতেন। না তিনি থাকেননি। দেশে ফিরে গিয়ে এই দেশ ও মানুষের সাহিত্য সংস্কৃতির উৎকর্ষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। সাহিত্যের সাধনা একটি সম্মিলিত প্রয়াস। এখানে রাষ্ট্রপ্রধান তার দায়িত্ব পালন করবেন, কবি-লেখক তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। আর এভাবেই বীজবিস্তার করে এগিয়ে যাবে একটি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের ঐতিহ্য।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার যে ডাক দিয়ে যাচ্ছেন তা অবশ্যই সময়ের আলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। এবারের জাতিসংঘের ৬৬ তম অধিবেশনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিয়েছেন, তা একটি পথ প্রদর্শনের সূত্র হিসেবেই বিবেচিত হবে বিশ্ববিবেকের কাছে। এবারো তাঁর অন্যতম দাবি ছিল, বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এবারো যথারীতি বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বিশ্বশান্তি রক্ষায় তার শান্তির মডেল জাতিসংঘে উপস্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছেন, আমার সারাজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি আপনাদের সামনে একটি শান্তির মডেল উপস্থাপন করতে চাই। এটি একটি বহুমাত্রিক ধারণা যেখানে গণতন্ত্র এবং উন্নয়নকে সর্বাগ্রে স্থান দেয়া হয়েছে, যার কেন্দ্রে আছে জনগণের ক্ষমতায়ন। এতে আছে ছয়টি পরস্পর ক্রিয়াশীল বিষয় যা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এগুলো হচ্ছে- ১. ক্ষুধা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ ২. বৈষম্য দূরীকরণ ৩. বঞ্চনার লাঘব ৪. ঝরেপড়া মানুষদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি, ৫. মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং ৬. সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন। তিনি বলেন, আমি এর নাম দিয়েছি ‘জনগণের ক্ষমতায়ন এবং শান্তি-কেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেল’। এর মূল বিষয় হচ্ছে সকল মানুষকে সমান চোখে দেখা। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মানবিক সমতা বৃদ্ধি। সমৃদ্ধি অর্জন তখনই সম্ভব যখন আমরা সমাজ থেকে অবিচার এবং মানুষের ক্ষমতাহীনতা দূর করতে পারবো। এজন্য প্রতিটি রাষ্ট্রকে আন্তরিকভাবে সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আসুন, আমরা জনগণের ক্ষমতায়নের এ মডেলটি প্রয়োগ করে দেখি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এর মাধ্যমে ৭ বিলিয়ন মানুষের এই বিশ্বকে আমরা পাল্টে দিতে পারবো। এমন একটি বিশ্ব গড়তে সক্ষম হবো যেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। আমি বাংলাভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দিতে আমাদের আবেদনের প্রতি সকলের সমর্থন কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিই হচ্ছে উন্নয়নের সোপান। আর শান্তি তখনই বিরাজ করে, যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। এজন্য আমি মনে করি, শান্তিপূর্ণ মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্বদেশে এবং বিদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ৩৬টি দেশের ৫২টি মিশনে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ১ লাখ ২২ হাজার ৯৪ জন শান্তিরক্ষী প্রেরণ করেছে। এসব মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১০৩ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি ন্যায়বিচার শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক। ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে পার্বত্য এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার জন্য আমি পার্বত্য শান্তিচুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতার পথ বেছে নিয়েছিলাম। এই চুক্তির ফলে প্রায় ২০ হাজার মানুষের প্রাণসংহারকারী দুই দশকের সংঘাতের অবসান ঘটে। একই সময়ে আমি প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিচুক্তি স্বাক্ষর করি। আমার বর্তমান মেয়াদে এই চলতি মাসেই ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা চূড়ান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এই অমীমাংসিত বিষয়টি বিগত ৬৪ বছর ধরে আমার জনগণের দৈনন্দিন ভোগান্তির কারণ হয়ে ছিল। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সকল সমস্যার শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আমি দৃঢ়সংকল্প।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এতে ৭২ জন মানুষ নিহত হন। আমি আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করি। এতে আরো প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। আমি বিশ্বাস করি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এজন্যই ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের জন্য একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমাদের গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদের অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে আমরা অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। অতীত ভুলের সংশোধনের এটিই একমাত্র পথ। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুসংহত হবে। আমি সবধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্ত্রাসের শিকার। আপনারা জানেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার পিতা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা ও তিন ভাইসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমি অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে সেই নৃশংস ঘটনা স্মরণ করছি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমার দলের একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করা হয়। এতে ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং আহত হন আরো পাঁচ শতাধিক। ঐ জঘন্য ঘটনায় অলৌকিকভাবে আমি প্রাণে রক্ষা পেলেও আমার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়। ….

আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য আমরা কাজ করছি। আর এ কাজে আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার কাজ শুরু করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেলে আমাদের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। এর ফলে ৩ কোটি মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়বে। এমনটি হলে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয়। এজন্য আমরা ১৩৪-দফা ‘এডাপটেশন এন্ড মিটিগেশন’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এর আওতায় নদী খনন, শতকরা ২০ ভাগ ভূমির বনায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সম-ফসলের জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছি।

আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। এছাড়া দাতাদের সহযোগিতায় ১০০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলেন্স ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেছি। গত অর্ধশতাব্দী ধরে আমি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি। পুরো সময় জুড়ে আমি ছিলাম শান্তির পক্ষে একজন অগ্রণী ও নির্ভীক যোদ্ধা। আমি মনে করি, জবরদস্তি এবং আইনের শাসনের অনুপস্থিতির মতো অবিচার নিরসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। অসাম্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য, বঞ্চনা, দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িকতা, নারী এবং ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকারহীনতা এবং সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে, ১৯৬৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এসব অন্যায্য কর্মকান্ডের ফলে গোটা বিশ্বে ৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা জোরদার করার মাধ্যমে এসব অপমৃত্যু পরিহার করা যেতো। শান্তি এবং উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষকে স্থান দেয়ার মাধ্যমে এই প্রাণহানি অবশ্যই এড়ানো সম্ভব হতো।

আমি বিশ্ব মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদানকে জাতিসংঘের ১৯৩তম সদস্য হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছি। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তি অর্জনের জন্য আমি এই নতুন রাষ্ট্রের জনগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই ভাষণের পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিএনপি। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত আগে ঘরের শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তারপর বাইরের মানুষকে শান্তির বাণী শোনানো। আমার মনে হয়েছে, মীর্জা ফখরুলের এই বক্তব্য হটকারিতার শামিল। কারণ মীর্জা ফখরুলেরাই এই দেশে জঙ্গিবাদের হোলিখেলা খেলেছিলেন। তাদের মদদেই এই দেশে ‘শায়খ রহমান’, ‘বাংলা ভাই’ তৈরি হয়েছিল। এখনো বিএনপি নামে দলটি দেশে মৌলবাদী যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অজগর পকেটে রেখে মীর্জা ফখরুলরাই তো এই দেশে শান্তির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছেন বারবার। ক্ষমতার জন্য যারা দেশে মৌলবাদীদের ঘাঁটি বানাতে চান, তাদের মুখে তো শেখ হাসিনার শান্তির দর্শনের সমালোচনা মানায় না। বাংলাদেশের মানুষের অনুধাবনের সময় এসেছে, কারা এই দেশে শান্তি চান। আর কারা অশান্তির গোলযোগ চায়। সন্দেহ নেই, শেখ হাসিনার এই শান্তির দর্শন বিশ্বমানবতার কল্যাণে কাজে লাগবেই।