ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দৈনিক আমাদের সময়কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ঢাকাস্থ সৌদী রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ নাসের আল বুশাইরি বলেছেন –আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই ৮ বাংলাদেশিকে রক্ষা করা যায়নি। তাদের শিরশ্ছেদ না করতে সৌদি সরকার সর্বাত্বক চেষ্টা করেছে। কারণ, ওই ৮ ব্যক্তিকে শিরশ্ছেদ থেকে মুক্তি দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা ছিল ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিটির পরিবারের। তারা চাইলে রক্তপণের বিনিময়ে ক্ষমার ব্যবস্থা করতে পারতেন। তবে পরিবারটি তা না করায় ‘হত্যার বদলে হত্যা (কিসাস) ’ আইনে তাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে –

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি দেশ নিজস্ব আইনে চলে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কিছুই করার ছিল না। তবে সরকার শেষ পর্যন্ত চেষ্ঠা করেছে। এমন কী রিয়াদস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিশরের রাষ্টদূতের সঙ্গে আলোচনা করেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। কারণ, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ৮ জনকে ক্ষমা করতে চায়নি। তিনি আরও বলেন, পরিবারগুলো চাইলে তাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে সরকার।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলো যা বলছে তা তাদের মতামত কিন্তু এ মতামত আল্লাহর আইনের উপরে নয়। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে ওই মিসরীয়কে হত্যার অভিযোগে আট ব্যক্তির শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। এবং দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের দণ্ড দেওয়া হল। এতে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহর আইনে বলা আছে হত্যার বদলে হত্যা। এটি ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির পরিবারের হক। এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ কাজে আসবে না।

[লিংক]

এ বিষয়ে যে সব প্রশ্ন গুলো সৌদী রাষ্ট্রদূতকে করা উচিৎ ছিল …..

১। তাহলে সৌদী আরব , বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার আলবদরদের বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন ? বিষয়টি বাংলাদেশের আভ্যন্তরিন। সৌদী গো আজম গং দের বাঁচাতে মরিয়া কেন ?

২। সৌদী আরব বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ/ জঙ্গীবাদ ছড়াতে পৃষ্টপোষকতা করছে কেন ? বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তাদের এত দরদ কেন ?

৩। সৌদী আরবের বিভিন্ন ভূয়া কোম্পানীর মাধ্যমে তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’ বের করে , তা লাখ লাখ রিয়ালে আরব শায়খরা বিক্রী করছে কেন ? কেন ফ্রি ভিসায় সৌদী আরবে গিয়ে হাজার হাজার যুবক কাজ পাচ্ছে না? কেন তারা মানবেতর জীবন যাপন করে অপরাধ প্রবনতায় জড়িয়ে পড়ছে? কেন আরব কফিল -রা ‘মিসকিন’ শ্রমিকদের কাছ থেকে কমিশন খাচ্ছে ? এই কমিশন কী হালাল ? আল কোরআন এই বিষয়ে কী বলে ?

৪। সৌদী আরব জাতিসংঘের অনেক সনদ মানছে না কেন ? তারা কোনো কোনো রাষ্ট্রের সাথে ‘বন্দী বিনিময় চুক্তি’ মানলেও তৃতীয় বিশ্বের গরীব দেশগুলোর সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে কেন ?

৫। আল কোরআন তো সুরা পান ও হারাম করেছে। শায়খরা যে হেরেমে সুরা পান করছে, তার কী বিচার করছে সৌদীর সেই কোরআনের আইন ?

প্রশ্ন আরও করা যায় ……..

যেগুলোর জবাব দেবার সাধ্য হয়তো মান্যবর রাষ্ট্রদূতের না ও থাকতে পারে।