ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

তাঁর জন্ম ছিল ১৯২০ সালে। কেমন ছিল সেসময়ের বাঙালী জাতির মানসচিত্র, তা আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি। বৃটিশ উপনিবেশিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট এই জনপদ তখন মুক্তির কথা হয়তো ভাবতেও শিখেনি। শেখ মুজিব ছিলেন জীবন ঘনিষ্ট মানুষ। আর এই মনুষ্যত্ববোধই তাঁকে জনমানুষের কাছাকাছি আসতে সাহায্য করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান বেড়ে উঠার সাথে সাথেই লক্ষ্য করেছিলেন তাঁর চারপাশে বৈষম্য। তাই তাঁর মনন শাণিত হয়েছিল সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ম্যাট্রিক পাস করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৪৭ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। শেখ মুজিব ১৯৪৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি প্রাদেশিক বেঙ্গল মুসলিম লীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং ১৯৪৩ সাল থেকে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর ছিলেন। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অগ্রণী। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি আইন বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার প্রতি কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ১৯৪৯ সালের প্রথমদিকে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়ন সমাপ্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

শেখ মুজিবের সামনে যে প্রশ্নটি সবসময় খুব বড় হয়ে থাকতো, তা হচ্ছে পশ্চিমা গোষ্ঠি দ্বারা বাঙালিরা কেন শোষিত হচ্ছে !

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ব বাংলা আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটে। তিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান সভা-কাম-আইনসভার সদস্য ছিলেন।

ষাটের দশকের প্রথম ভাগে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আওয়ামী লীগকে মজবুত ভিত্তির ওপর পুনর্গঠিত করে রাজনৈতিকভাবে একে একটি দক্ষ প্রতিষ্ঠানে রূপ দেন। ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ৬ দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন। ৬ দফাকে আখ্যায়িত করা হয়েছিল ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ হিসেবে, যাতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বশাসন প্রতিষ্ঠাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হয়েছিল। ৬ দফা কর্মসূচি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের মর্মমূলে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানতে পারায় তা অতিদ্রুত গোটা জাতির মনোযোগ আকর্ষণ করে। শেখ মুজিব জানতেন, বাঙালীর জন্য একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই প্রজন্মকে সংগঠিত করতে হবে। সেই কাজটি করতে গিয়েই তিনি আইয়ুবী রক্তচক্ষুর শূলে পরিণত হন।

শেখ মুজিবের বৈপ্লবিক রাজনৈতিক অবস্থানে ভীতসন্ত্রস্ত আইয়ুব সরকার তাঁকে কারারুদ্ধ করে রাখার নীতি গ্রহণ করে। ১৯৬৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করা হয়। আইয়ুব শাসনামলের অধিকাংশ সময়ই [প্রথমে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত এবং পরে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত] মুজিব কারারুদ্ধ ছিলেন। দ্বিতীয় দফায় অন্তরীণ থাকা অবস্থায় মুজিবের জনপ্রিয়তা ও সম্মোহনী নেতৃত্ব এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল, ১৯৬৯ সালের প্রথমভাগে এক প্রবল বিদ্রোহ দানা বেঁধে ওঠে এবং ‘৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব সরকার তাঁকে বিনা শর্তে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মাত্র দুদিন পর, একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনসভায় তাঁকে দেওয়া হয় ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি। আর এভাবেই তিনি হয়ে উঠেন বাংলার অবিসংবাদিত জননেতা।

শেখ মুজিবের কিছুই চাওয়া-পাওয়া ছিল না। এটাই ছিল তাঁর রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি। আজ ঐতিহাসিকভাবে প্রমানিত, বাঙালি, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যেন অবিভাজ্য তিনটি শব্দ। বঙ্গবন্ধুই বাঙালির অধিকার সচেতনতা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার অগ্রদূত।তিনি মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক। বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাসের মহাপুরুষ শেখ মুজিবের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না, এটা স্বীকার না করে কোনো উপায় নাই।কারণ তাঁর সমসাময়িক নেতা সেসময়ে আরও অনেকেই ছিলন। কিন্তু একটি বাংলাদেশ চাই – এমন ঘোষনা দেবার সাহস আর কেউ দেখাতে পারেন নি।

বাঙালির হাজার বছরে মুক্তিসংগ্রামের এক ঐতিহাসিক কালপর্বে বঙ্গবন্ধুর অসীম সাহসিকতা, অসাধারণ নেতৃত্ব জাতিকে তাঁর আজন্ম লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেছে। তাই বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু। তিনি বাঙালি জাতিকে দিয়ে গেছেন স্বাধীনতা। দিয়েছেন স্বাধীন-সার্বভৌম মানচিত্র আর শস্য-শ্যামল জমিনের ওপর সূর্যলাল পতাকা।

১৯৭০-১৯৭১ সালে বাঙালী জাতীয় জীবনে শেখ মুজিব ছিলেন এক আইকন। গোটা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল তাঁর দিকে। সেই সময়ের কিছু রোজনামচার দিকে আমরা ফিরে তাকালে তাঁর জীবনাদর্শ বিষয়ে
আরও স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারি। এখানে কয়েকটি দিনের ঘটনার মর্মকথা তুলে ধরতে চাই।

১৯৭০ : ১ জানুয়ারী, ১৯৫৮ সালের পর প্রথম রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু প্রথম দিন থেকেই ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন।
১৯৭০ : ৪ জুন, নির্বাচনকে সামনে রেখে মতিঝিল ইডেন হল প্রাঙ্গনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ একক ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।
১৯৭০ : ৫ জুন, পূর্ব পাকিসত্মানের নির্বাচনী এলাকা বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসন আর জাতীয় পরিষদের ১৬২টি আসন নির্দিষ্ট করা হয়।
১৯৭০ : ১৫ই আগস্ট, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন যথাক্রমে ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর।
১৯৭০ : ৮ অক্টোবর, ইসলাবাদ থেকে ১৯টি রাজনৈতিক দলের প্রতীক ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। স্মরণীয় যে, ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো নৌকা।
১৯৭০ : ২৮ অক্টোবর, বঙ্গবন্ধু বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনী ভাষণ দেন। তিনি বলেন – প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম, আর সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই আওয়ামী লীগের বিকাশ। তিনি জনগণের কাছে ছয়দফার পক্ষে ম্যান্ডেট চান।
১৯৭০ : ১২ নভেম্বর, পূর্ব বাংলায় ভয়াবহ ঝড় এবং জলোচ্ছাসে ১০/১২ লাখ মানুষ মারা যান। বঙ্গবন্ধু তার নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করে ত্রাণ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি এই অঞ্চলের জনগণের প্রতি চরম উদাসীনতা তুলে ধরেন। এই সময় ”সোনার বাংলা শ্মশান কেন” শিরোনামে তথ্য সম্বলিত একটি পোষ্টার জাতিকে নাড়া দেয়।

১৯৭০ : ৭ ডিসেম্বর, দুর্গত এলাকা গুলো বাদে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি পায় ৮৮টি আসন।
১৯৭০ : ১৭ ডিসেম্বর, প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব বাংলায় ২৯৮টি আসন লাভ করে।
১৯৭১ : ৩ জানুয়ারী, আওয়ামী লীগের সকল নির্বাচিত সদস্য ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রনয়ণ তথা ৬ দফা বাসত্মবায়নের শপথ গ্রহণ করেন। ”আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি” এই রবীন্দ্র সংগীতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে বাঙালী জাতির মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করেন। শপথ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সংগীতের পর ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গানটি পরিবেশিত হয়।
১৯৭১ : ১০ জানুয়ারী, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করেন। ৪ দিন পর ফিরে যাবার সময় তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিব পাকিসত্মানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।’
১৯৭১ : ২৭ জানুয়ারী, জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা এসে বঙ্গবন্ধুর সংগে কয়েক দফা আলোচনা করেন। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যায়।
১৯৭১ : ১৩ ফেব্রুয়ারী, এক সরকারী ঘোষণায় বলা হয় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় ৩ মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেছেন।
১৯৭১ : ১৬ই ফেব্রুয়ারী, আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।

১৯৭১ : ১ মার্চ, জাতীয় পরিষদ অধিবেশনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয় হোটেল পূর্বানীতে। ঐ দিনই আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। সারা বাংলা ক্ষোভে ফেটে পরে। বিক্ষুব্ধ মানুষের জনসমুদ্রে পরিণত হয় রাজপথ। বঙ্গবন্ধু এটাকে শাসকদের আরেকটি চক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেন। তিনি ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিসত্মানে হরতাল আহবান করেন।
১৯৭১ : ২ মার্চ, সারা ঢাকা বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বত:স্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। উত্তাল জনস্রোতে পরিণত হয় এক বিক্ষোভের শহরে। জান্তা সরকার ঢাকা শহরের পৌর এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা থেকে কারফিউ জারী করে।
১৯৭১ : ৩ মার্চ, বিক্ষুব্ধ জনতা কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। সামরিক জান্তার গুলিতে মারা যান ৩ জন, আহত হন কমপক্ষে ৬০ জন। এই সময় পুরো দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে।
১৯৭১ : ৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক যুগান্তকারী ভাষনে ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণে স্পষ্ট হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যত। সারাদেশে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন।
১৯৭১ : ১৬ মার্চ, বিস্ফোরনমুখ বাংলাদেশে আসেন ইয়াহিযা খান। বঙ্গবন্ধুর সংগে তার দীর্ঘ আলোচনা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু তার গাড়ীতে কালো পতাকা উড়িয়ে হেয়ার রোডে প্রেসিডেন্ট ভবনে আলোচনার জন্য যান।

১৯৭১ : ১৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৫১তম জন্মদিন। এই দিনে ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার থেকে ফিরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেন, ”এদেশে জন্মদিনই বা কি আর মৃত্যুদিনই বা কি আমার জনগণই আমার জীবন।”
১৯৭১ : ২৩ মার্চ, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষনা দেন। সমস্ত সরকারী এবং বেসরকারী ভবনে ‘বাংলাদেশের’ জাতীয় পতাকা উত্তেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু এদিন সরকারী ছুটি ঘোষণা করেন।
১৯৭১ : ২৫ মার্চ, পৃথিবীর ইতিহাসে এক নৃশংসতম কালো রাত্রি ২৫ মার্চ। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যমত্ম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাসভবনে মানুষের ঢল নামে। সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এসময় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। রাত সাড়ে এগারোটায় শুরু হয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট’। জঘন্যতম গণহত্যা।

১৯৭১ : ২৬ মার্চ, ২৫ মার্চ ১২-৩০ মিনিট ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হবার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বার্তা ওয়ারলেস যোগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরীকে প্রেরণ করেন। পরে ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম অবস্থিত অষ্ট ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ঐ ঘোষণা পুণঃ পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে করাচীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
১৯৭১ : ২৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং স্বাধীনতার ঘোষণার আলোকে বীর বাঙালী গড়ে তোলে স্বত:স্ফূর্ত প্রতিরোধ। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবজ্জল অধ্যায়।
এর পরের ধারাবাহিক ঘটনাগুলো সকলেরই জানা। শেখ মুজিব নিজে কখনওই ভোগবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। তিনি মনে করতেন, এদেশের মেহনতি মানুষ সুখী হলেই বাংলাদেশ বাঁচবে। প্রজন্ম সবল হয়ে দাঁড়াতে পারবে।

বর্তমান প্রজন্মকে তাই তাঁর আদর্শ লালন করতে ব্রতী হতে হবে। যে সুকুমার মনোবৃত্তি নিয়ে তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন, সেই আদর্শে উত্তরপ্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। আজকের শিশু-কিশোর-কিশোরীরা সেই ত্যাগী প্রত্যয় ধারণ করে এগিয়ে গেলেই পূরণ হবে জাতির জনকের সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন।