ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা


যানজট এখন রাজধানীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। সরকার যানজট নিরসনের নানা উদ্যোগ নিলেও সেসব আলোর মুখ দেখছে না। ফলে যানজটের কবলে পড়ে নাভিশ্বাস জনজীবন। তীব্র যানজটে এখন জান যায় নগরবাসীর। এরপরও হতাশ নন ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড (ডিটিসিবি)। এ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ খোশমেজাজেই বললেন, ঢাকার যানজট নিয়ে হতাশার কিছু নেই। আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে ঢাকার রাস্তায় কোনো যানজট দেখা যাবে না।

জানা যায়, গত বছরের মার্চে ঢাকার যানজট নিরসনে বেশ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ওভারপাস, আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণসহ এ পর্যন্ত নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের নেই কোনো উদ্যোগ। প্রকল্পগুলোর মধ্যে কেবল যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ শুরু করা যায়নি। কবে নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে সে বিষয়েও কোনো ধারণা দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংশয়-সন্দেহের বেড়াজালে আটকে গেছে প্রকল্পগুলো। গত বছর মার্চে মিরপুর থেকে এয়ারপোর্ট সংযোগ সড়কে ফ্লাইওভার ও বনানী রেলক্রসিং-এ ওভারপাস নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত হয়। ব্যয় ধরা হয় ১৯ হাজার একশ ৬৮ লাখ টাকা। জুন ২০১২ সালে এ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় এক বছর পার হলেও প্রকল্পটির কাজই শুরু করা যায়নি। মালিবাগ রেলক্রসিং ও মৌচাকে ফ্লাইওভার এবং জুরাইন রেলক্রসিং-এ ওভারপাস নির্মাণের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত হয় গত এপ্রিলে। বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয় ২২ হাজার ৯ লাখ টাকা। এ প্রকল্পটিও ২০১২ সালের জুন মাসে শেষ করার কথা। এ প্রকল্পেরও কোনো অগ্রগতি নেই। এদিকে জাইকার অর্থায়নে মগবাজার রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় সওজ অধিদফতরকে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগস্ট ২০১০ থেকে ডিসেম্বর ২০১২-এর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। বাস্তবে এ প্রকল্পটিরও কোনো অগ্রগতি নেই। রাজউককে দেওয়া হয়েছিল এফডিসি রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের দায়িত্ব। প্রকল্পটি গত মধ্য জুলাইয়ে ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করার কথা থাকলেও নেই কোনো অগ্রগতি। শাহবাগ, বাংলামোটর, শেরাটন ও সোনারগাঁও মোড়ে আন্ডারপাস নির্মাণ প্রকল্পটি গত বছর ৩১ মার্চ ১৭ হাজার ৯১ লাখ টাকার পুনর্গঠিত ডিপিপি স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করা হয়। কোনো অগ্রগতি নেই প্রকল্পের কাজেরও। ২০০৯-এর জানুয়ারিতে যানজট নিরসনে দিলকুশা, গুলশান, বনানী ও কাওরানবাজারে বহুতল পার্কিং ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ঢাকা সিটি করপোরেশন। চার মাসের মধ্যে কাজের টেন্ডার দেওয়ার বিধান থাকলেও এক বছরেও কাউকে ডিসিসি নিয়োগ করেনি।

অপরদিকে হকাররা বদলে ফেলেছে নগরীর ফুটপাত ও সড়কের চিত্র। ফুটপাত দখল করে দোকান, স্থায়ী ও অস্থায়ী মার্কেট বানিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করে যাচ্ছে। কোনো আইন মানতে রাজি নয় তারা। হকার উচ্ছেদের প্রসঙ্গ এলে উল্টো আন্দোলন করে নগরী অচল করার হুমকিও দেওয়া হয়। ডিসিসির তথ্যমতে, নগরীর ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাতের ১০৮ দশদিক ৬০ কিলোমিটার ফুটপাতই এখন হকারের দখলে। এ ছাড়াও ২ হাজার ২৮৯ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার সড়কের ৫৭২ দশমিক ৪২ কিলোমিটারও হকারদের দখলে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও তা মানছে না ডিসিসি-ডিএমপি।

এ বিষয়ে ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেন, চেষ্টা করেও ডিসিসি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পারছে না। পুলিশ একদিক দিয়ে হকার উচ্ছেদ করে আরেক দিক দিয়ে হকাররা বসে পড়ে। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার জন্য ডিসিসির একটি বিশেষ ফোর্স দরকার। এটার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে এলেও আজও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় ঢাকার রাস্তা কম, গাড়ির সংখ্যা বেশি। শহরমুখী জনসে াত কমানো না গেলে যানজট কমানো সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সরোয়ার জাহান বলেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া নগরায়ন হওয়ায় নগরীর এ চিত্র। নাগরিক সুবিধাসমূহ বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে না দিলে যানজট নিরসন সম্ভব নয়।