ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা


দৈনিক ইত্তেফাকের গত ১২/০৪/২০১০ইং তারিখের সংবাদটি সকলের অবগতির স্বার্থে পেশ করা হলো:

উন্মুক্ত হচ্ছে বিজয় সরণি, তেজগাঁও সংযোগ সড়ক
শীঘ্রই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত বিজয় সরণি-তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল সংযোগ সড়ক ও রেলওয়ে ওভারপাস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৬ এপ্রিল এই সংযোগ সড়ক ও ওভারপাসের শুভ উদ্বোধন করবেন। । ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রাস্তা নির্মাণের ফলে এই অঞ্চলের যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন দেশের প্রখ্যাত নগর পরিকল্পনাবিদরা।

উল্লেখ্য, ঢাকা শহরের এয়ারপোর্ট রোডের পশ্চিমাংশ বিশেষ করে শেরে বাংলা নগর, মিরপুর, কলাবাগান, লালমাটিয়া ও ধানমন্ডি থেকে যানবাহনগুলো গুলশান, উত্তরা, বারিধারা ও তেজগাঁও হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মুখ দিয়ে এয়ারপোর্ট রোডের মাধ্যমে যাতায়াতের ফলে প্রতিনিয়ত অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হয়। এছাড়াও মহাখালী ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে যানজট আরো তীব্র আকার ধারণ করে। এই অসহনীয় অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে রাজউক ঢাকা শহরের পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক সৃষ্টি এবং বিজয় সরণি- তেজগাঁও শিল্প এলাকা পর্যন্ত শহীদ তাজউদ্দিন সড়কের সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়। সড়ক এলাইনমেন্টে অবস্থিত বিদ্যমান রেল লাইনের উপর দিয়ে ওভারপাসের মাধ্যমে সড়কটি নির্মিত হওয়ায় একদিকে যেমন সময়ের সাশ্রয় হবে অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মুখসহ আশপাশ এলাকার রাস্তার যানজট বহুলাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন দেশের প্রখ্যাত নগর পরিকল্পনাবিদরাও।

স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতির অভিমত
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও আর্কিটেক্টদের আন্তর্জাতিক সংগঠন কমনওয়েলথ এসোসিয়েশন অফ আর্কিটেক্ট এর সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রখ্যাত স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকা শহরের সর্ববৃহৎ রাস্তাগুলো সবই উত্তর-দক্ষিণে। শহরের পূর্ব-পশ্চিমে রাস্তার সংখ্যা খুবই কম। বিশ্বের সব দেশেরই ফ্লাইওভার, ওভারফ্লাই কিংবা আন্ডারপাস থাকলেও আমাদের দেশে এর সংখ্যা খুবই নগণ্য। তিনি বলেন, বিজয় সরণির রাস্তাটি সোজা করা উচিত ছিল। রাস্তাটি আরো পূর্ব-পশ্চিমে যাত্রাবাড়ি থেকে ডেমরা হয়ে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলে এর ব্যাপক সুফল পাওয়া যেত। তিনি যানজট নিরসনে অধিক প্যারালাল রোড তৈরির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন আরো বলেন, নগরীর পূর্ব-পশ্চিমের প্রচুর রাস্তা জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণ করা গেলে যানজট বহুলাংশে কমানো সম্ভব।

বিজয় সরণি-সংযোগ রাস্তা ও ওভারপাস উদ্বোধনের ফলে যানজট বহুলাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

রাজউক চেয়ারম্যানের বক্তব্য
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ নূরুল হুদা বলেন, বিজয় সরণি হতে তেজগাঁও শিল্প এলাকা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ ও ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ রাজউক হাতে নেয় ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট। একনেকে অনুমোদনের পর একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। সমাপ্ত হয় ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল। সর্বমোট ২১ মাসে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়। ১২২ কোটি টাকার মধ্যে ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এতে সরকারের ৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়। সময় বাঁচে ২ মাস। রেলওয়ের ওভারপাসের নির্মাণ কাজে ৩৮৯৫ দশমিক ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়। আগামী ১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয় সরণি সড়ক ও ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করবেন। রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, বিজয় সরণি-তেজগাঁও সংযোগ ও ফ্লাইওভার নির্মাণ বর্তমান সরকারের একটি বিরাট সাফল্য। প্রকল্পটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এই এলাকার যানজট ও জন দুর্ভোগ বহুলাংশে কমে আসবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মান্নান বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে রাজউক একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিজয় সরণি সংযোগ সড়ক ও ওভারপাস ছাড়াও একাধিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জিরো পয়েন্ট থেকে গোলাপ শাহ মাজার হয়ে বাবু বাজার পর্যন্ত আরেকটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সোনারগাঁও হোটেলের সামনে থেকে মগবাজার হয়ে তেজগাঁও পর্যন্ত আরো একটি ওভারপাস কাম-ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা

চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ এই রোডের নির্মাণ কাজ আরম্ভ করেছিলেন। এই রোড নির্মাণ করতে গিয়ে ২২ তলা বিশিষ্ট র‌্যাগস ভবনসহ রাজউক ৪৪টি অবৈধ অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলে ২০০৭ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। প্রথমে রাস্তাটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২২ কোটি টাকা। পরবর্তীতে এটা ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়। তন্মধ্যে ওভারপাস নির্মাণে ৩৯ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

নগরবিদদের মতামত
প্রখ্যাত নগর গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বিজয় সরণী- তেজগাঁও সড়ক চালু হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে যানজটের অবস্থা কমিয়ে দিবে। তাছাড়া মোহাম্মদপুর এবং শ্যামলীর যাত্রীরা তেজগাঁও সরাসরি যেতে সক্ষম হবে।


“বিজয় স্মরণ লিংক রোড , ওভারপাস”

নির্মাণের পর বিজয় স্মরণ লিংক রোড , ওভারপাস এর বর্তমান পরিস্থিতি

আমরা সাধারণ মানুষ সমস্যা সমাধানের আশায় আশায় দিন গুনি, সময় ও অর্থ ব্যয় হয়ে কাজ হয়, কিন্তু এর সুফল কতটুকু আসলো ?