ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

আমি বাংলাদেশ এর টপ মোস্ট প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বি.বি.এ পাস এবং এম.বি.এ অধ্যয়নরত একজন স্টুডেন্ট। বি.বি.এ শেষ করে দুই বছর চাকরি করে তারপর মাস্টার্স করছি চাকরি বাদ দিয়ে। ভেবেছিলাম নতুন গভর্নমেন্ট আসলে দেশে চাকরির অভাব হবে না। কিন্তু আফসোস এর বেপার হল দুই বছর হয়ে গেল কিন্তু চাকরির দেখা আর পেলাম না কারণ আমার নাই কোন মামা চাচার জোর না করি কোন দলের রাজনীতি। ফলস্বরূপ দুই বছরে তিন শতাধিক এর বেশি চাকরিতে অ্যাপ্লাই করে হাতে গোনা কয়েকটিতে ইন্টারভিউতে ডাক পেয়েও মামা-চাচার অভাবে একটা চাকরি ও হয় নাই। আগে জানতাম ভাল ইউনিভার্সিটির ডিগ্রী এন্ড রেজাল্ট থাকলে ভাল জব পাওয়া যাই….কিন্তু আল্লাহ জানে কিসের অভাবে এন্ড কী কারণে এখন পর্যন্ত আমার জব হল না। মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে হবার কারণে অনেক প্রবলেম এর মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি এই আশায় যে আল্লাহ হয়তো চোখ তুলে থাকবে কোনও একদিন এন্ড রিটায়ার্ড বাবা এবং ব্রেন টিউমার এর আক্রান্ত মা এর চিকিৎসাতে কোনও ভাবে হেল্প করতে পারব।

বাবার রিটায়ারমেন্ট এর আগে কিছু টাকা নিয়ে শেয়ার বিজনেস শুরু করে ছিলাম গত বছর, আশা করি এই বিজনেসের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা নতুন করে দেওয়ার দরকার নাই কারণ দেশের সবাই জানে শেয়ার বিজনেস এ যারা গত এক বছরে বিনিয়োগ করেছে তাদের কী অবস্থা।

এটা আমার লাইফ এর প্রথম কোনও লিখা। মানুষকে মোবাইল এ বার্তা আর পরীক্ষার খাতায় লিখা ছাড়া কোনদিন কোথাও কিছু লিখি নাই। তাই আমার ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই আশা করি।
গত কিছু দিনের সংবাদপত্র এবং টেলিভিসন এর নিউজ পড়ে এবং দেখে নিজকে ঠিক রাখতে পারলাম না….ইন্টারনেট এ নিউজ ওয়েবসাইট সার্চ করতে যেয়ে এই সাইট এ ব্লগ পড়ে হঠাৎ করে লিখতে ইচ্ছা হল তাই বাংলা typing না জানা সত্বেও চেষ্টা করে লিখছি।

সাত বছর ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার কারণে অনেক ইংরেজি শব্দ লিখতে চলে আসছে। যাই হক, যে কষ্ট থেকে লিখতে বসেছি তাই বলি।

দুই বছর আগে যখন নতুন সরকার গঠন হল তখন অনেক আশা করেছিলাম অনেক পরিবর্তনের। আমি সাভার থাকি। আমার ইউনিভার্সিটি গুলশান এ। যেহেতু আমার বাবা আধা সরকারী একটি বাংক এ চাকরি করতো এবং কোন রকম ঘুষ খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিল সারাজীবন তাই বাধ্য হয়ে বাস এ করে যাতায়াত করি। যখন বাবার চাকরি ছিল তখন বাস এর ভাড়া স্টুডেন্ট বলে পনের টাকার টিকেট কিনে চলে যেতাম…আর এখন বাস এর সর্বনিম্ন টিকেট এর প্রাইস হচ্ছে পঁচিশ টাকা, আর রিক্সা ভাড়া আগে যা ছিল তার দিগুণ দিতে হই যেখানে যাই…এটা তো গেল অর্থনৈতিক প্রভাব এর কথা আমার জীবনে, এখন বলছি কেন এই লিখা শুরু করলাম..

প্রথম ঘটনা হল গত হরতাল এ বিরোধী দলীয় এক শীর্ষ স্থানীয় নেতাকে পুলিস যেভাবে পিটাল, নিরপেক্ষ হয়ে বলছি, অনেক কষ্ট এবং লজ্জা পেয়েছি নিউজটা দেখে। যেমন কষ্ট পেয়েছিলাম গতবার বিএনপি আমলে সাবেক মন্ত্রী নাসিম এর উপর হামলার সময়..এ কেমন দেশ..এই দেশ কে নিয়ে তরুণ প্রজন্ম এত গর্ব করে, আর তাদের সামনে কী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন আমাদের নেতারা!!

পরের ঘটনা শবে বরাত এর রাতে ছয় স্টুডেন্ট এর গণ পিটুনিতে মৃত্যু…… আর ভিকারুন্নিসা স্কুল এর পরিমল নামের এক মস্তিষ্ক বিকৃত নোংরা কর্মকাণ্ড…সরকারের মন্ত্রী এমপি দের কথা শুনলে আসলে গা জ্বলে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব কিছুকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেন। সংবাদে তার বক্তব্য শুনলে মনে হয় আল্লাহ যদি আমাকে কোনও শক্তি দিত তাহলে আমি তার মাথায় গুলি করে বলতাম এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা! মানুষ এত নির্লজ্জ হয় কিভাবে? বাণিজ্য মন্ত্রী একজন রেখেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যাকে পাবনার পাগলাগারদে রাখা সবচেয়ে উত্তম হতো…একটার পর একটা জিনিস এর দাম বাড়ছে, আর তার ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট এর মনগড়া থিওরি সাধারণ জনগণের সামনে নির্লজ্জ ভাবে তুলে ধরছেন । ওনার যদি সামান্যতম বোধোদয় থাকতো তাহলে এত দিনে পদত্যাগ করতেন অথবা উদর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে তোলা বন্ধ করতেন.।

সবশেষে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেলাম…যে তাহের বাহিনীর টর্চার এর কাহিনী সারা বাংলাদেশ জানে এবং তার যে ছেলে এক জন মানুষকে (যদিও তিনি একটা বড় দল এর পরিচয় বহন করতেন, তবু ও তো তার আসল পরিচয় তিনি মানুষ) কসাই এর মত কুপিয়ে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিল তাকে নাকি আমাদের প্রেসিডেন্ট ক্ষমা ঘোষণা করে দিয়েছেন!! একজন ফাঁসির আসামি মুক্তি পেল কারণ সে আওয়ামী লীগের এক নেতার ছেলে তাই। আজব এই দেশ, আজব এই দেশের রাজনীতি। চাকরি পাবে দলীয় লোকজন, বিজনেস ও সরকার দলীয় লোকজন,আইন চলবে সরকার এর কথা মত, করবে প্রশাসন চলে দলীয় লোকদের দিয়ে…….জানি না কোথায় যাচ্ছে এই দেশ র কোথায় যাচ্ছি আমরা..হয়তো কোনও এক লিমন এর মত ভাগ্য বরণ করতে হবে এই দেশে অথবা ছয় ছাত্রের মত ভাগ্য বরণ করতে হবে তরুণদের যারা এই নোংরা রাজনীতিবিদদের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে তলিয়ে যাবে অকালের অন্ধকারে চিরতরে!!

কোথাও কোনও আসার আলো দেখতে পাচ্ছি না…বেঁচে মরে আছি এই অস্থির সমাজের বুকে……