ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বাংলাদেশের মানুষ পাট নিয়ে এখন আফসোস করে। হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে, সর্বক্ষেত্রে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে ইত্যাদি। দেশের বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবীরা এমনকি বর্তমান সরকারও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে দোষারোপ করে পাটশিল্প ধ্বংস করার জন্য। কিন্তু সরকার কি বুঝতে পারছে যে একসময় তারাই এই চামড়া শিল্প ধ্বংসের জন্য দায়ী হবে। সরকারের মধ্যেই ক্ষমতাবান অনেক ব্যক্তি এবং কমপক্ষে একজন প্রচণ্ড ক্ষমতাবান এমপি আছেন যিনি এই শিল্পের সাথেই জড়িত। তাদের এক যুক্তিতেই সরকার যেকোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে পারে এই শিল্পকে বাঁচানোর। অন্তত আরও কিছুদিন সময় নিয়ে এই শিল্পকে উপুযুক্ত পরিবেশে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে পারে।

চামড়া শিল্পের সাথে যারা জড়িত তারা সবাই চায় হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলি স্থানান্তর হোক, কারো কোন দ্বিমত নাই এতে, এটা খোলা চোখেই দেখা যায়। হেমায়েতপুরের নতুন ট্যানারী পল্লীতে গেলে দেখা যাবে প্রায় সব বরাদ্ধকৃত প্লটেই প্রচুর কাজ হচ্ছে ইনফাস্ট্রাকচারের, যাতে করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখানে উৎপাদন শুরু করা যায়। কিছু কিছু ট্যানারিতে উৎপাদন এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ট্যানারি শিল্প তো আর লোটা-বাটি আর ঘটি-কম্বলের শিল্প না যে রাত শেষ হবে আর গুটিয়ে আরেক জায়গায় চলে যাবেন। এই শিল্প দেশকে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করছে। শুধু তাই না, লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান করছে এ শিল্প। একে উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে কাজ করার জন্য, দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য।

হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী সরাতে হবে এটা অনেক আগেই এই ব্যাবসার সাথে যুক্তরা বুঝে গিয়েছে। তাইতো শূন্য প্লট থেকে এখন বিশাল বিশাল বিল্ডিং দাঁড়িয়ে গেছে হেমায়েতপুরে এরই মধ্যে। একদিনে এগুলি হয়নি, কাজ চলছে তাই হয়েছে। তাদেরকে বরাদ্দ দেয়া চার দেয়ালের ভিতরের কাজের দায়িত্ব তারা সঠিক ভাবেই পালন করছে, উৎপাদনের জন্য প্রায় প্রস্তুত অনেক ট্যানারী। কিন্তু এটা যেহেতু একটা শিল্প তাই এর জন্য আরো কিছু পারিপার্শ্বিক স্থাপনা জরুরী, যেটা করার দায়িত্ব শুধুই সরকারের। যেই জিনিসের (ইটিপি) অভাবের জন্য হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী সরাতে হবে সেটা হেমায়েতপুর থাকতে হবে এবং এটা সরকারই করে দেয়ার জন্য প্রতিশুতিবদ্ধ, এটাই মোদ্দা কথা। শিল্প সরাতে ক্ষতিপূরণ দিবে সরকার, শিল্প স্থাপনের পরিবেশ দিবে সরকার। এর কোনটাই যদি পুরোপুরি ভাবে পালন না করে তাহলে শিল্প মালিকদের দোষ কোথায়? সরকার ব্যবসা করে না, ব্যবসা করে ব্যবসায়ীরা। সরকার পরিবেশ দিবে, সেটা ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা সরকারের অর্থনীতিতে ও কর্মসংস্থানে অবদান রাখবে- এটাই নিয়ম। আমাদের দেশের বহু ব্যবসায়ী বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা করিয়ে সেখানেই থাকার ব্যবস্থা করে, সাথে সাথে নিজেদেরও দ্বৈত নাগরিক বানিয়ে রাখে। কিন্তু চামড়া শিল্পতেই এই উদাহরণ অসংখ্য আছে যে ছেলে-মেয়েদের বিদেশে পড়াশোনা করালেও দেশে এনে এই ব্যবসায় তার অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ পাদুকা শিল্পের মালিকানাতেই এর প্রমাণ আছে।

savar-tenare-pic-2

চামড়াশিল্প হলো অনেকটা ব্যাংক ঋণ নির্ভর। এই সেক্টরের ব্যবসায়ীরা ঋণ খেলাপি হয়েছে, আবার পরিশোধও করেছে তাই আবার নতুন ঋণও পেয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের টাকা মেরে দেয়নি, মেরে দেয়ার কোন পথও নাই। যেহেতু তারা যুগের পর যুগ ধরে এই ব্যবসা করে আসছে এবং অনেকটা বংশ পরম্পরায়, এর অর্থ হলো তারা শুদ্ধভাবেই দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। একজন বৈদেশিক ক্রেতা যখন চামড়া ব্যবসায়ীদের সাথে বছরের পর বছর কাজ করে তখন সে ঐ ব্যবসায়ীর পরিশুদ্ধতার খোঁজ-খবর নিয়েই করে। চামড়া শিল্পের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময় হলো কোরবানী ঈদ। এর আগে প্রায় সব ট্যানারী মালিকই ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করেন এবং মোটামুটি সবাই ব্যাংক ঋণ পান Collateral এর বিনিময়ে। সমস্যা হচ্ছে যেহেতু এখনো কাউকে তাদের জন্য বরাদ্ধকৃত জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেয়া হয়নি, সেহেতু তাদেরকে ব্যাংক ঋণ দেয়ার প্রশ্নই আসে না। সুতরাং এই শিল্পের উপড়ে আরেকটা বড় ধাক্কা আসবে সে সময়ই।

ট্যানারী ব্যবসার সাথে আরও অনেকগুলি ব্যাবসা জড়িত এবং সবখানেই প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের সম্পর্ক। সবাই একসঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। একটা শিল্প যখন স্থানান্তর হয় তখন তার সবগুলি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানই স্থানান্তর হবে এটাই স্বাভাবিক। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ট্যানারীর বাইরে আর কোন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানেরই কোন স্থান নেই হেমায়তপুরে। বিসিকের কাজ হলো ‘ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প’ নিয়ে, ট্যানারির মত বৃহৎ শিল্প নিয়ে নয়। দেশের প্রথম রপ্তানিকারক পণ্য গার্মেন্টস এর দেখভাল যদি করে ইপিজেড, ঠিক দ্বিতীয় রপ্তানিকারক পণ্যের জন্য কিভাবে বিসিক কে সক্ষম মনে করা হয়? মাটির ফুলদানী বানানো আর চামড়া প্রক্রিয়াকরণ এক জিনিস না। গ্রামেগঞ্জে কুটির শিল্পের বিকাশে বিসিক কাজ করতে পারে, কিন্তু চামড়া শিল্প তাদের কর্মপরিধির বাইরে। তাইতো এখন পর্যন্ত কোন রাস্তাঘাট হয়নি, অপরিহার্য গ্যাস সংযোগ নেই, বরাদ্ধকৃত জমি হস্থান্তরের কাগজও প্রস্তুত হয়নি, … ইটিপির কথা অথবা এর মানের কথাতো আমরা জানিই। সব প্রাণী দিয়ে হালচাষ হয় না, হেমায়েতপুরে গেলে এরই প্রমাণ পাওয়া যাবে।

হাজারীবাগকে নিয়ে সারা বিশ্বের সংবাদ মাধ্যম গুলোতে রিপোর্ট হয়। এই শিল্পের অর্জন ও সক্ষমতা নিয়ে শুধু আমাদের দেশেই আলোচনা হয় বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে। কি পরিমাণ দূষণ হয় ট্যানারিগুলির জন্য সেটার অংক আসেনা, আসে শুধু বুড়িগঙ্গা বাঁচানোর জন্য। বুড়িগঙ্গা কি শুধুই ট্যানারির জন্য শেষ হয়ে গেছে, আর কোন শিল্পই কি দায়ী না, আর কোন দখলদারই কি দায়ী না, শুধুই ট্যানারী দায়ী? পরিবেশবাদীরা কি পেরেছে হাজী সেলিমের দখল থেকে বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করতে? যখন যে সরকার এসেছে তাদের নেতারাই নদী দখল করেছে। পরিবেশবাদীরা শুধু ছুটির দিনে নৌকা ভ্রমণে এসেছে নদী বাঁচাও এই ব্যানার নিয়ে। এর চেয়ে বেশি কিছুই করতে পারেনি। এই ফাঁকে নদী ছোট হতে হতে খালে পরিণত হয়েছে।

backs

সরকার যেহেতু শিল্পবান্ধব, তাই কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে:

১। ব্যবসায়ীরা কি আসলেই স্থানান্তর বিরোধী কিনা সেটা দেখার জন্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন পরিবেশবাদীদেরকে নিয়ে হেমায়েতপুর ঘুরে আসতে পারেন। সেখানে গেলে সবকিছুই স্পষ্ট হবে যে, ট্যানারী মালিকরা যেতে ইচ্ছুক না, নাকি সরকার এখনো পরিবেশ তৈরি করতে পারে নাই। কয়েদিকে জেলে ঢুকানোর আগেও তার থাকার পরিবেশ বিবেচনা করা হয় আদালতে, আর এটাতো হলো একটা বৃহৎ শিল্প।

২। এতদিন পর যেহেতু বিসিকের (ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা) সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ইপিজেড অথরিটিকে দেয়া হোক এবং আগামী একবছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার সমস্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে তারপর ট্যানারগুলি স্থানান্তর করা হোক।

৩। চামড়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোকে হেমায়েতপুরে জমি প্রদান করে Suply Chain অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আমার জানামতে একজন ভোকাল পরিবেশবাদী আছেন যিনি Suply Chain Management এর উপর উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছেন। উনি অন্তত বুঝবেন হেমায়েতপুরে এটার কি অভাব রয়েছে এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলি কিভাবে চামড়া শিল্পের উৎপাদনের সাথে জড়িত।

৪। চামড়া বাংলাদেশের রপ্তানিতে অনেক বড় অবদান রাখে এটা যেমন সত্য, তেমনি আমাদের দেশীয় বাজারে চামড়াজাত পণ্যের একশত ভাগ কাঁচামাল (Raw Material) এখান থেকে আসে। শিল্প যদি ধাক্কা খায় তাহলে ব্যাবসায়ীরা এবছর চামড়া কিনবেন না ঋণ এবং ট্যানারীর অভাবে। কেউ কোনদিন শুনিনাই যে চামড়া না বিক্রি হওয়াতে পঁচে গেছে বরং চামড়া তার নতুন পথ বেছে নিয়ে ভারতে চলে গেছে, যেটা পাঁটের বেলায়ও হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কোরবানিও দিবে, কাঁচা চামড়াও হবে কিন্তু তার গন্তব্য হবে অন্য কোথাও। রপ্তানিতে ধাক্কাতো লাগবেই বরং ভ্যালু এড হয়ে অধিক আয়ও হবে না দেশের, কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হবে, আমাদের চামড়াজাত পণ্য কিনতে হবে বিদেশ থেকে।

৫। যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে ইটিপি তে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে সেহেতু সেখানেও পরিবেশবাদীদের নাক গলানো উচিত। দেখা উচিত বুড়িগঙ্গার মত তুরাগের অবস্থাও একই হবে কিনা। বুড়িগঙ্গা নিয়ে যেহেতু তাদের চিন্তা, তুরাগ নিয়ে চিন্তার এখনই সময়। শিল্প বন্ধ করাতে কোন কৃতিত্ব নেই যদি গড়তে না পারেন।

৬। আদালতের দোষ দিয়ে লাভ নাই, আদালতকে যা বোঝানো হয় তারা তাই আমলে নেন। স্বৈরাচারের মামলা বছরের পর বছর ঝুলে, বার বার আদালত বদল হয় আবার ঝুলে থাকে আবার বদল হয়। কিন্তু একটা শিল্প বাঁচানোর তাগিদে আর এক বছরের জন্য কি আদালত বদল হতে পারে না? সরকার আদালতকে হয়তো হেমায়েতপুর নিতে পারবে না কিন্তু আদালতকে প্রমাণসহ কি বুঝাতে পারে না যে কাজের কি কি অগ্রগতি হচ্ছে ট্যানারী স্থানান্তরে। তারাও বা কি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে ব্যবসায়ীদেরকে। কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব না নেয়ার চেয়ে সঠিকভাবে স্থানান্তরের দায়িত্ব নেয়া কি ভালো না? সরকার চাইলেই চামড়া ব্যবসায়ী ও পরিবেশবাদীদের পর আরেকটা পক্ষ হতে পারে আদালতে, শুধু রায় বাস্তবায়নকারী হিসেবে না থেকে। জনাব মনজিল মোরশেদ কি আমাদের দেশের এটর্নি জেনারেল জনাব মাহবুবে আলম থেকেও ‘জাঁদরেল উকিল’?

সরকারের ভূমিকা :

উপরের সবগুলি ক্ষেত্রে প্রয়োজন ক্ষমতাসীন দলের সেইসব চামড়া ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছ পদক্ষেপ যারা পারেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বুঝাতে। এবং ওনার মাধ্যমে পরিবেশবাদী ও আদালতকে বুঝাতে যে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের অবদান এবং কি কি ইনফাস্ট্রাকচার এখনো সরকার তাদের দিতে পারে নাই অর্থের অভাবে। কোন কিছু বন্ধ করে দেয়াটাই সমাধান না বরং সেটাকে সুন্দরভাবে সকল সুবিধাদি দিয়ে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করাটাই আসল সাফল্য। বুড়িগঙ্গার সমস্যা শুধু ট্যানারি না, আরও অনেক কিছু যা অর্থের অভাবে করা যাচ্ছে না। সরকার হয়তো এতে আদালতের দ্বারা তিরস্কৃত হবে কিন্তু একটা সময় ঠিকই এর পুরস্কার পাবে এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রেখে। ট্যানারী তালা মেরে চাবি আদালতে জমা দেয়ার আগেই এই পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারকেই বলতে হবে ৬ই এপ্রিল হাজারীবাগে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বন্ধ করে দিয়ে ৭ই এপ্রিল থেকেই কি হেমায়েতপুরে এইসব সেবা দিতে পারবে কিনা।

সরকারের শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছা। আর যেইসব ব্যবসায়ীদের হাতে এখন অঢেল সরকারী ক্ষমতা, তারা যদি মনে করে চামড়া ব্যবসা শুধু তারাই করবেন তাহলে অন্য হিসাব। এখন যেভাবে নিজামীর নাম নেয়া হয় পাঁট শিল্প ধ্বংসের জন্য, একদিন হয়তো এদের নাম নেয়া হবে চামড়া শিল্প ধ্বংসের জন্য।

আর ট্যানারী ব্যবসায়ীদের উচিত হলো নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্ত আপনাদের কথাগুলি পৌঁছানো। আপনাদের হেমায়েতপুর যাওয়ার অগ্রগতি এবং ইচ্ছা যেহেতু মাঠ পর্যায়ে visible সেহেতু বিষয়টা স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানো উচিত। এরই সাথে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করুন। আদালতে হস্তক্ষেপ না, প্রধানমন্ত্রী যেন এটর্নি জেনারেলকে নিয়োগ দেন আদালতকে বোঝানোর।

কেন এই হুমকি?

ব্যক্তিগত ভাবে কেউই ট্যানারী হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরের বিরুদ্ধে না, আমিও না। কোন ট্যানারী মালিক কোনদিন বলেন নাই যে তারা হেমায়েতপুর যাবেন না। শুধু প্রশ্ন হলো কিভাবে ও কবে ট্যানারী হেমায়েতপুরে যাবে, কার দায়িত্ব কে কতটুকু পালন করেছে। ৭ই এপ্রিল কি নতুন জায়গায় ট্যানারী চালু করা সম্ভব কিনা। নিজের ব্যক্তিগত প্রচার-প্রসারের জন্য তো অনেক আইনজীবীই রীট করে থাকে আদালতে, তার ফলাফলও আমরা দেখি। কিন্তু এতবড় একটা বৃহৎ শিল্প ও কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে কেন এত আগ্রহ সেটার খোঁজ-খবর নেয়া জরুরী। কেন এই ধরনের হুমকি, বন্ধ করে দাও, তালা মেরে দাও, পানি বন্ধ করে দাও…ইত্যাদি। চামড়া কে বছরের পণ্য’ (Product of the Year) ঘোষণা করার বছরই কেন এই হোলি খেলা, কেন এই শিল্পকে হত্যা করা। আজ হয়তো জানবেন না, যেদিন জানবেন সেদিন শুধুই আজকের দিনের রাজাকার খুঁজবেন আর ‘চামড়ার হারানো ঐতিহ্য’ ফিরিয়া আনতে শধু সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করবেন, আজকে যেমন পাঁটের জন্য করা হয়। কে জানে তখন হয়তো এইসব পরিবেশবাদী আতেলরাই সেখানে প্রধান বক্তা থাকবে।

জনগণের চাওয়া:

সবশেষে আমি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে পরিবেশবাদী, আদালত ও সরকারের কাছে জানতে চাই বুড়িগঙ্গা নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা। কবে আমি ফেরত পাবো আগের সেই বুড়িগঙ্গা?