ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

মজলুম লিমনকে বাঁচাতে ব্লগার বন্ধুরা প্লিজ আসুন একটা কিছু করি- অন্তত একটা মানববন্ধন: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পঙ্গু লিমনকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ। হায়রে মানবতা!! অবশেষে কারাগারেই যেতে হলো পঙ্গু লিমনকে-

র‌্যাবের গুলিতে পঙ্গু কলেজছাত্র লিমনকে আজ মঙ্গলবার রাতে ঝালকাঠির জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে এক মাসের বেশি সময় সে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। জানা গেছে, র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র আইন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (রাজাপুর থানার এসআই) আরিফুল ইসলাম আজ সকাল ১১টায় ঢাকা থেকে সড়ক পথে লিমনকে নিয়ে রওয়ানা দিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝালকাঠিতে পৌঁছান। এরপর তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় পুলিশ লিমনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায়। অন্যদিকে লিমনের পক্ষের আইনজীবী মানিক লাল আচার্য ও মো. আক্কাস সিকদার লিমনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার আবেদন জানান। বিচারক নুসরাত জাহান উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে রাত পৌনে ৯টার দিকে লিমনকে জেলখানায় পাঠানো ও তার সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন। চিকিৎসার ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাও আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে লিমনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মামলায় গত ২৪ এপ্রিল লিমনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আজ সকালে ঝালকাঠির জেলা ও দায়রা জজ আদালতে র‌্যাবের দেয়া এ অস্ত্র মামলায় লিমনের জামিনের আবেদনও করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবির এ আবেদন জানান। বিচারক ফারুক আহম্মেদ আগামী ৯ মে শুনানির দিন ধার্য করেন।

২৩ মার্চ ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের দিনমজুর তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে কাঁঠালিয়া পিজিএস কারিগরি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী লিমন (১৬) গরু আনতে মাঠে যান। র্যাব সদস্যরা তার পরিচয় পাওয়ার পরও তার বাঁ পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। পরে তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পঙ্গু হাসপাতালে লিমনের গুলিবিদ্ধ বাঁ পাটি কেটে ফেলতে হয়। লিমনকে গুলি করার প্রেক্ষিতে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি দিয়েছে র্যাব, এ অভিযোগ করেছেন লিমনের বাবা তোফাজ্জল হোসেন এবং মা হেনোয়ারা বেগম।