ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

এপ্রিল মাসে সারা দেশে খুন হয়েছেন ২৪৬ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৫টি। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১০ জন। আহত হয়েছে এক হাজার ৮১৫ জন। সেন্টার ফর মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (এমআরটি) মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এমআরটি জানায়, এপ্রিল মাসে মোট খুন হয়েছে ২৪৬ জন। যার মধ্যে ১৫৬ জন পুরুষ, ৬৬ জন মহিলা ও ২৮ জন শিশু। প্রতিদিন গড়ে খুন হয়েছে আট জনেরও বেশি। এ সময়ে খোদ রাজধানীতেই ২৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। যৌতুক ও অন্যান্য কারণে স্বামীগৃহে নির্যাতনের পর জীবন দিতে হয়েছে ৩৪ জন নারীকে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দেশে অব্যাহত রয়েছে গুপ্তহত্যা। এপ্রিল মাসে দেশে গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৯০টি। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটে ৭১টি, জানুয়ারি মাসে ৮৭টি, ডিসেম্বর মাসে ১০৫টি, নভেম্বর মাসে ৯৬টি ও অক্টোবর মাসে ৯৩টি।

এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এর মধ্যে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন চারজন। এ ক্ষেত্রে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন তিনজন, পুলিশের গুলিতে নিহত হন একজন। এ ছাড়া পুলিশ হেফাজতে মারা যান পাঁচজন।

এপ্রিল মাসে বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করেছে ২২ জন। এর মধ্যে নারী ১১, পুরুষ সাত ও শিশু চার। এর মধ্যে কেবল ইভটিজিং তথা বখাটেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দুই তরুণী আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এ ছাড়া পারিবারিক কলহ ও অভিমান, ধর্ষিত হওয়ার লজ্জা, প্রেমঘটিত বিষয় অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। এপ্রিল মাসে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয় মোট ২৫ জন। যার মধ্যে ১২ জন নারী ও ১৩ জন শিশু। এ ক্ষেত্রে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় পাঁচজনকে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সারা দেশে ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এপ্রিল মাসে ইভটিজিংয়ের বা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ৭২টি ঘটনা পত্রিকায় এসেছে। এর মধ্যে দুই তরুণী ইভটিজিংয়ের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে। ইভটিজিংয়ের বা যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ফেব্রুয়ারি মাসে ২২ জন বখাটের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।

এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিহত হয়েছে আটজন বাংলাদেশী। এর মধ্যে সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতেই নিহত হয়েছে ছয়জন। শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের রোজিনা নামে এক বাংলাদেশী কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। তা ছাড়া গোয়াইনঘাট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের নির্যাতনে নিহত হয় রুবেল (১৬) নামে এক কিশোর। এ ছাড়া বিএসএফ কর্তৃক আহত হয় ১৩ বাংলাদেশী।

এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন স্খানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১০ জন। আহত হয়েছেন এক হাজার ৮১৫ জন। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হয়েছেন পাঁচজন।

এপ্রিল মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন ১০ জন সাংবাদিক। এ ছাড়া উত্তরায় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন বজ্রকণ্ঠের সম্পাদক আলতাব হোসেন।

সারা দেশে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪২টি। এর মধ্যে ৪২টি চুরি, ৭৬টি ডাকাতি ও ২৪টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৭ জন। আর আহত হয়েছে ২০৬ জন। এর মধ্যে গণপিটুনিতে নিহত হয় ২১ জন।

এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৮৬ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন এক হাজার ১০৯ জন অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৭ জন।
সূত্র: http://www.dailynayadiganta.com/fullnews.asp?News_ID=275818&sec=2