ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশের সরকার পরিচালনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞতা অনেক। দু’টি দলেরই সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে। নিজস্ব কিছু মেজাজ ও বৈশিষ্ট্য আছে। এখন পর্যন্ত জনগণ একটিকে অপরটির বিকল্প বিবেচনা করে। তাই দল দু’টির ভালো-মন্দ বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করা যেতে পারে। এ আলোচনায় জাতীয় পার্টি, জামায়াত এবং অন্যান্য দল কখনো প্রাসঙ্গিক, কখনো নয়। তা ছাড়া যারা সরকার পরিচালনায় থাকে তাদের প্রতি অভিযোগ ও ব্যর্থতার দায়ও বেশি বর্তানো হয়।

আওয়ামী লীগ এখন সরকারি দল। এই আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকলে জাতি এই আড়াই বছরে ডজন কয়েক হরতালের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করত। পিলখানা ট্র্যাজেডিতে সরকারের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ত। এক শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিই সরকার পতন নিশ্চিত করত। জনশক্তি রফতানিতে যে ধস সেটা হতো চাপ প্রয়োগের বিশেষ ইস্যু। নাম পরিবর্তনের খেলায় ভাঙচুর হতো অজস্র। অচল হতো বিমানবন্দর। আড়িয়াল বিলের মতো ইস্যু পেলে আওয়ামী লীগ সরকারের বাপের নাম ভুলিয়ে দিত। গণ বিস্ফোরণকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিত। দ্রব্যমূল্য, দলবাজি, টেন্ডারবাজি ও দলীয়করণের প্রতিবাদে সরকারকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ত। ছাত্রলীগের অবস্থানে ছাত্রদলকে পেলে শিক্ষাঙ্গনে তালা ঝুলত। সংবিধান বিতর্কের মতো ইস্যুতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক পড়ত। গেল গেল চিৎকারে সরকারের স্বস্তি হারাম করে দিত। পরিবহনে ভাড়া বাড়ানো ও ভাড়া নৈরাজ্যে অসংখ্য গাড়িতে পেট্রল দিয়ে ধরানো আগুন দাউ দাউ করত। তেল-গ্যাস সঙ্কট এবং পানি সমস্যায় সরকারকে অচল করে দিত। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে জামায়াতকে সাথে নিয়ে তুলকালাম বাধিয়ে দিত। ভুলে যেত যুদ্ধাপরাধ ইস্যু।

অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, রাজপথে আওয়ামী লীগ যতটা পারঙ্গম, সরকারে ততটা আনকোরা। হ্যাঁ, আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বেশ গতিশীল ও বেপরোয়া। ভুলভাল যা-ই হোক, সিদ্ধান্ত নিতে পারে ত্বরিত। প্রশাসনে দলীয়করণ, ছাত্রলীগের বল্গাহারা অবস্থা ও বাড়াবাড়ি, খুন-গুম-হত্যা, বিরোধী দল দাবড়ানো, দেশজুড়ে নৈরাজ্য, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া, নিজেদের মামলা তুলে নেয়া, খুন-গুম-হত্যার দায় নিতে অস্বীকার করা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন­ এসব ইস্যুতে সরকার কারো নিন্দাবাদ তোয়াক্কা করেনি। বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ, বিতর্কিত বিচারপতি নিয়োগ, বিচারপতির সিনিয়রিটি ডিঙানো, রাজনৈতিক মামলায় আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রাখার অভিযোগের ক্ষেত্রে বেপরোয়া ভাব ছিল অনেক ঔদ্ধত্যের প্রান্তসীমায়। রদবদল, ওএসডিকরণ, চাকরি খাওয়া, ইউনূস-ইস্যু, শেয়ার কেলেঙ্কারিতে দলীয় লোকদের জড়িত থাকার বিষয়ে বিচার না করার দৃষ্টান্ত­ এসব ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ভ্রূক্ষেপহীন নাছোড়বান্দার মতো আচরণ করল। কচিকাঁচার মন্ত্রিসভা ও ঠুঁটো উপদেষ্টাদের স্ববিরোধী ভূমিকা, আত্মঘাতী আচরণ, জাতিঘাতী বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীকে মোটেও বিব্রত করেনি। এসব বিষয় নিয়ে দলীয় সিনিয়রদের নিন্দাবাদও সরকার তোয়াক্কা করেনি। সুরঞ্জিত বাবু ঠিকই বলেছেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে, শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েন না। সেটা শুধু ইউনূস-ইস্যুতে নয়, সরকারের হাজার ব্যর্থতা, অসংখ্য প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও নির্বাচনী মেনিফেস্টো এড়িয়ে চলা সহ সব ক্ষেত্রে শতভাগ সত্য। এমন এক সময় আসবে শেখ হাসিনা কী ছাড়েন আর কী ছাড়েন না সেটা ব্যাখ্যা করে বুঝতে হবে না। বিচারপতি খায়রুল হকের মতো অনেক আমলনামা দেশবাসীর মুখে মুখে উচ্চারিত হবে। জানি না সে দিন সুরঞ্জিত বাবু আজকের মতো দাপুটে অবস্থানে থাকবেন কি না। এখন দলের সিনিয়র নেতারা ক্ষোভ-দু:খে অনেক কথাই বলেন­ নেত্রী মুচকি হেসে উড়িয়ে দেন। দলের বুদ্ধিজীবীরা বলতে শুরু করেছেন, এই দলে প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দিয়ে কিছুই বিচার করা হয় না। হয় নগদ ও সুবিধাবাদী রাজনীতির লাভ-লোকসান দিয়ে। ফলে দল ক্ষমতার ফায়দা তোলে, জাতি লাভবান হয় না। ক্ষমতাও স্থায়ী হয় না। চাটার দল ফুলে-ফেঁপে ওঠে। জনগণ বিগড়ে গেলেও দলটির বোধোদয় ঘটে না। কখন যে ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ে যায় সেটা বুঝতেও পারে না।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা, জামায়াত, ডান-বাম সবার বেলায় সত্য, বাংলাদেশের মানুষ তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ নেয় না। অপেক্ষা করে। সময়-সুযোগমতো পিণ্ড চটকিয়ে হাতেনাতে শিক্ষা দিয়ে দেয়। তাই মেনন, মতিয়া, ইনু­ কারা কী বলছেন সব রেকর্ড হচ্ছে। দীলিপ বাবুরা ‘সময়’ ভুলে গেছেন। এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে। আমরা নিশ্চিত, সাংবিধানিক বিতর্কে আওয়ামী লীগকে একসময় ঠেকে যেতে হবে। সঙ্কট থেকে বের হওয়ার রাস্তাও খুঁজে পাবে না। বিশেষত সংবিধান থেকে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা’ প্রত্যাহার করে নিলে অদৃশ্য আসমানি ফয়সালা ঠেকানো যাবে না। এটা বাংলাদেশ। অলি আল্লাহর বাংলাদেশ, শহীদ-গাজীর বাংলাদেশ। এখানে ধর্ম মানা-না-মানা নিয়ে মানুষ মাথা ঘামায় না। কিন্তু তাদের ঈমানে-আমলে হাত দিলে মাটিও দ্রোহের আগুন জ্বালায়। ক্ষোভ দানা বাঁধলে মৃত্যুর দোয়া পড়তেও ভুলে যায়। সংবিধানে একসময় এ আস্থার বিষয়টি ছিল না, কারো বক্তব্যও ছিল না। তাই প্রত্যাহারের প্রশ্ন ওঠেনি। বাদ দেয়ার বিতর্কও ছিল না। এখন সেটি বিতর্কিত নয়, ঈমান রক্ষার বিষয়। কোনো হাকিমের ইচ্ছায়­ কিছু লোকের বদ খেয়ালের কারণে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা’র অংশটুকু বাদ দিলে আসমানি গজব নেমে আসবে না সে নিশ্চয়তা কে দেবে? হয়তো সেটা সময় নেবে। তবে ধৃষ্টতার পরিণাম রোধ করা যাবে না। একজন আওয়ামী বুদ্ধিজীবী অত্যন্ত মুনশিয়ানার সাথে বলে বেড়ান, হুদাইবিয়ার সন্ধিতে আখেরি নবী নিজ হাতে নাকি ‘বিসমিল্লাহ’ মুছে দিয়েছিলেন। হায়রে ধর্ম ব্যবসায়! ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের ও অজ্ঞতার এই নির্লজ্জ অবস্থা দেখলে শয়তানও যে অট্টহাসিতে ফেটে পড়বে, তাতে সন্দেহ কী? হুদাইবিয়ার সন্ধি ছিল কাফেরদের সাথে মুসলমানদের সন্ধি। যেখানে কাফেররা বলেছিল, তারা হজরত মুহাম্মদ সা:-কে আল্লাহর নবী মানে না। আল্লাহর নবী মানলে সন্ধির প্রয়োজন হতো না। বাংলাদেশের সংবিধান কোন কাফের-মুশরিক, ইহুদি-নাসারার সাথে বাংলাদেশের নব্বই ভাগ মুসলমানের চুক্তি­ সেটা মোটেও বোধগম্য নয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই আল্লাহ, ঈশ্বর, গড­ যে নামে যেভাবেই হোক­ মহান স্রষ্টাকে মানেন। আস্থা রাখেন, ভরসা করেন, উপাস্য হিসেবে প্রার্থনা করেন।

গণতন্ত্র যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক বিচারেই নব্বই ভাগ মানুষের বিশ্বাস, আকাঙ্ক্ষা ও অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জনগণের কাছে সংবিধান আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা ডান-বাম কোনো দলের দলীয় গঠনতন্ত্র নয়। প্রজাতন্ত্রের দলিল হতে হবে প্রজা বা জনগণের বিশ্বাস বিধৌত। সেই বিশ্বাস বাদ দিয়ে কোনো ‘ইজম’ যদি সংবিধানে রাখা হয় সেটা হবে জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। এ ধরনের ধৃষ্টতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলে জনগণ ক্ষমা করবে না। বিধাতাও এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত না করিয়ে ছাড়বেন না। আপনাদের সাফল্য-ব্যর্থতা যা-ই থাকুক জনগণ সময়মতো যার যা প্রাপ্য পাইয়ে দেবে। সংবিধান নিয়ে নাড়াচাড়া করুন­ সেটা জনগণ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিমত জানাবে। দোহাই, ‘আল্লাহর ওপর আস্থা’র মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে হাত দেবেন না। এটি ভারতের সাথে অসম চুক্তি নয়, বান্দার সাথে বোঝাপড়াও নয়। বিধাতার সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গের মতো বিষয়।

‘আল্লাহর ওপর আস্থা’ প্রত্যাহার করে নেয়া হলে আমরা কার ওপর আস্থা স্থাপন করব, সে প্রশ্নের সদুত্তর দিতে হবে। বিপরীত যুক্তিতে হয়তো বা বলা হবে, সেটা সংবিধানে লেখা থাকা কতটা জরুরি। হ্যাঁ ততটাই জরুরি যতটা আমাদের সংবিধান জরুরি। বিশ্বাসের কোনো ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাখ্যা নেই, হতে পারে না। ধর্মীয় বিধি মানা-না-মানা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা তারতম্য ঘটতে পারে। যদিও সেটি বিশ্বাস বিধৌত হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।

কোনো দলের প্রতি আমরা প্রেসক্রিপশন দিতে যাব না। পেশাদার সাংবাদিক-কলামিস্ট হিসেবে সেটি আমাদের দায়িত্বও নয়। শুধু স্মরণ করিয়ে দেবো ভিখারিও যখন অসহায় হন, তখন আরশের প্রভুর শরণাপন্ন হন। আপনারা সাফল্য-ব্যর্থতার ভেতর সীমাবদ্ধ থাকুন। বিশ্বাসের সুতায় টান দেবেন না। বাংলাদেশের মানুষ সরকারি ও বিরোধী দলের ওপর এ ব্যাপারে শেষ ভরসাটুকুও হারালে নিজেরা আরশের প্রভুর কাছে হাত তুলতে বাধ্য হবে। সেটা হবে খোদায়ী আজাব অনিবার্য হয়ে যাওয়ার জন্য একটি বড় কারণ। আল্লাহর ওপর আস্থার বিষয়টি বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্মের সমার্থক নয়। এটি অনেক মৌলিক বিষয়। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ছেলেখেলা খোদ প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে ইতিহাস দায়মুক্ত করবে না। যারাই এ ব্যাপারে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন কেয়ামত পর্যন্ত ইতিহাস আল্লাহর ওপর আস্থা প্রত্যাহারের জন্য তাদের দায়ী করে যাবে। সাদকায়ে জারিয়ার পরিবর্তে এটা হবে অবিরাম পাপ অর্জনের কারণ।

অসহায়ের সহায় যে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ হন, তেমন অসংখ্য গল্প ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্টে আছে। আছে বাইবেলের নানা সংস্করণে। বেদ-বেদান্তেও তেমন কাহিনী আছে। পবিত্র কুরআনেও অনেক ঘটনায় দুর্বিনীত শাসকের পরিণতি সম্পর্কে সবক দেয়ার দৃষ্টান্ত আছে।

পবিত্র কাবাঘর ধ্বংস করতে আসা আবরাহাকে কাবার খাদেম রাসূলের দাদা বলেছিলেন, আমার উটগুলো ফিরিয়ে দাও। আবরাহা ভর্ৎসনার সুরে জানতে চেয়েছিল­ তোমার আল্লাহর ঘর কাবার জন্য দাবি না জানিয়ে উট চাচ্ছ কেন? জবাবে মহানবীর দাদা বলেছিলেন­ পবিত্র কাবার মালিক আমি নই, যিনি মালিক সেই মহান প্রভু সেটি রক্ষা করবেন। পবিত্র কাবাঘর রক্ষার জন্য তিনিই যথেষ্ট। উটগুলোর মালিকানা আমার, তাই সেগুলো দাবি করছি। ধৃষ্টতা ও দুর্বিনীত শাসকের প্রতীক আবরাহার শেষ পরিণতি জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবাই জানে। অহঙ্কারী শাসকের সাথে মেলানো যায় এমন একটি দূরতম প্রসঙ্গ সামনে রেখে আরো একটি রূপক গল্প দিয়ে লেখাটা শেষ করতে চাই। মধ্যযুগের একটি ঘটনা। এক পরাক্রমশালী রাজা একটি সুরম্য প্রাসাদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রাসাদটি হবে তার অবকাশ যাপন কেন্দ্র। যথারীতি প্রাসাদ নির্মিত হলো। রাজাও অবকাশ যাপনে গেলেন। একদিন প্রাসাদের ছাদে উঠে পায়চারি করার সময় প্রাসাদের দেয়ালের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটা ঝুপড়িঘর দেখতে পেলেন। রাজকর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলেন ঝুপড়িটি কার। রাজাকে জানানো হলো, ওটি একজন বৃদ্ধ ভিখারিনীর। রাজার নির্দেশে তাৎক্ষণিক ঝুপড়ি ঘরটি ভেঙে ধূলিসাৎ করে দেয়া হলো। ঝুপড়ি ভাঙার সময় বৃদ্ধা ছিলেন অদূরে কোনো গ্রামে। দিনমান ভিক্ষা শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখতে পান তার ঝুপড়ি ঘরটির অস্তিত্ব নেই। আশপাশের লোকজনের কাছে বৃদ্ধা জানতে চাইলেন কে বা কারা এমন অপকর্ম করেছে। রাজার নির্দেশে তার ঝুপড়ি ভাঙার খবর জানতে পেরে বৃদ্ধা ঊর্ধ্বাকাশে আরশের প্রভুর কাছে মিনতির স্বরে জানতে চাইলেন­ হে প্রভু! ঝুপড়ি ভাঙার সময় আমি ঝুপড়িতে ছিলাম না, কিন্তু তুমি কোথায় ছিলে? তুমি কি আমার ঝুপড়িটি রক্ষা করতে পারোনি। তারপর চোখের পলকে প্রাসাদটি ধুলায় মিশে গেল। সেই রাজার পরিণতি সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া গেল না।

বাংলাদেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ এখনো বুঝতে পারছে না তাদের বিশ্বাস নিয়ে, আল্লাহর ওপর আস্থা নিয়ে কী ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে­ যখন বুঝতে পারবে তখন সেই বৃদ্ধার মতো ফরিয়াদ জানাবে। আহাজারি করে বলবে­ হে প্রভু! শাসকের সামনে হক কথা বলতে আমরা সাহসী হতে পারিনি। তোমার ওপর আমাদের অখণ্ড আস্থা প্রত্যাহারের বিষয়টি কি তুমি দেখোনি? সে ধরনের ফরিয়াদের ভবিষ্যৎ পরিণতি ভেবে দেখা সবার কর্তব্য।