ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

তারা ( কোয়ান্টাম ফাউন্ডেসন ) হয়ত মানব সেবা নামে কিছু ভালো কাজ ও করছে। দেশে বিদেশে সব জায়গায় আপনি এইরকম অনেক প্রতিষ্ঠান পাবেন। আমি কৌতুহল নিয়ে কোয়ান্টাম মেথড কোর্স করছি ,কোয়ান্টামের তীর্থস্থান বান্দরবনের লামায় (ওরা বলে মেডিটেশন রিসর্ট ) গিয়াছি, সাইকি (Psyche ) ও হিলিং ( Healing) কোর্স করছি এবং অনেকবার কোয়ান্টায়ন (মৌন সাধনা ) ও করেছি ।এটা মনোবিজ্ঞান ( Psychology) এর সাথে সম্পর্কিত কিন্তু ইসলামের সাথে কি বিরোধ নাই? দেখা গেছে কোয়ান্টাম মেথড কোর্স যারা করেছে , কিছুদিন পর তারা ওটাকে ভুয়া হিসাবেই জানে। অনেক বন্ধু আবার মজা করে বলে টাকা গুলো যদি তুই আমারে দিতি,তোরে আমি সব confidence দিয়ে দিতাম । কোয়ান্টাম মেডিটেশনের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় হিন্দু বা বুদ্ধ ধর্মের যোগ ব্যয়াম ( Yoga), ধ্যান-সাধনা ( Meditation)। সেখানে কেনই বা ইসলামকে ব্যবহার করা হচ্ছে? নিচের প্রশ্ন গুলো কি একটু ভেবে দেখবেন

১. তারা বলে মেডিটেশন (Meditation) ও মোরাকাবা (Muraqaba ) একই । তাহলে কোয়ান্টাম মেথড এর কি কোনো সিলসিলা ( Golden Chain ) ও তরিকত ( Tariqa) আছে? লতিফা ( Lataif) সমন্ধে কি তারা কোনো শিক্ষা দান করে ?

২. তারা বলে কোয়ান্টাম ই নাকি ‘লিভিং অফ সান্য়েন্স’ । ইসলাম কি পরিপূর্ণ জীবন বিধান না ?

৩. তারা বলে লামার মাটি দিয়া গোসল করলে নাকি সব রোগ ভালো হয় ও লামার মাটি নাকি বিশেষ আধ্যাত্তিক গুনে পূর্ণ ।লামার মাটি দিয়ে সবাইকে গোসল করতে তারা উত্সাহ দেয় । মাটি দিয়া গোসল আদিম যুগের মানুষের তথা মূর্তি পূজকদের প্রথা (ritual) নয় কি?

লামায় কুন্ডলী জ্বেলে (ওরা ওটা কে camp firing বলে ) ধ্যান- উত্সব শুরু করা , সুর্য মেডিটেশন , ধ্যান-উত্সবে গেলে লামার মাটি দিয়ে গোসল করতে উত্সাহ দেয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট কাদের সাথে মিল পাওয়া যায়, সবাইকে ভেবে দেখতে বলছি ।

লামার ধ্যান-উত্সবে যারা গিয়াছিলেন , তাদের কেউ কি আছেন যে আমার কথা গুলো অস্বীকার করতে পারেন ?

৪. তারা বলে , তাদের বানানো মাটির ব্যাংকে দান করলে নাকি সব আশায় পূর্ণ হয় । কত জনের আশা পূর্ণ হয়েছে?

৫. কোয়ান্টাম মেথড কোর্স করে শুধু কারা সফল হইছে ওদের কথা বলা হয় অথচ যারা কিনা আগে থেকেই সফল । কোয়ান্টাম মেথড কোর্স ও মেডিটেশন করে কারা ব্যর্থ হইছে ওদের কথা কেন বলা হয় না ?

৬. যে মেথড ৮০% এর মত রোগী ভালো করতে পারে না , সেই মেথড কি মেডিকেল সান্য়েন্সএ স্বীকৃত ! কোয়ান্টাম মেথড কত পার্সেন্ট রোগী ভালো করতে পারছে ? শারীরিক অসুখ তো দুরে থাক হেমায়ত্পুরে অনেক পাগল আছে,ওদের একজন কেও কি কোয়ান্টাম মেথড ভালো করে দেখাতে পারবে !

American Cancer Society এর মতে হিলিং শারীরিক রোগ নিরাময় করতে পারে এই রকম কোনো প্রমান নাই । এই লিঙ্ক তা পরে দেখুন ।

৭. অমুসলিম ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে না লিঙ্ক কিন্তু কোয়ান্টাম বলছে অমুসলিম ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে লিঙ্ক। কোয়ান্টাম মেথডের ভন্ডামি অন্য ধর্মের লোকদের যাকাত দিতে উৎসাহ দিচ্ছে । রমজান মাস চলছে । অনেকই হয়ত কোয়ান্টামী দের যাকাত দিচ্ছেন । দেশে অনেক ইসলামিক চিন্তাবিদরা আছেন , যাকাত কোয়ান্টামী দের (ওরা যেটা কে কোয়ান্টাম যাকাত ফান্ড বলে ) দিলে যাকাত কবুল হবে কিনা ভেবে দেখবেন কি ?

কোয়ান্টাম এর দাবি আট শ্রেনী এর লোককে ওরা ভালো ভাবে যাকাত দিচ্ছে । এই জন্য একমাত্র কোয়ান্টামী যাকাত ফান্ড এ যাকাত দিলে সবার ই সম্পদ বাড়ে । অন্য কোথাও দিলে কোনো ফায়দা নাই ( ভিডিও ) । ওরা এটা কে পুরা দেশ জুড়ে ছড়াচ্ছে । ওদের বানানো ভিডিও গুলো দেখুন না । একমাত্র কোয়ান্টামী যাকাত ফান্ড এ যাকাত দিলে সবার ই সম্পদ বাড়ে ‘ বলে বা এই লোভ দেখিয়ে কিভাবে ইসলাম বিরোধী কু-ষড়যন্ত্র করছে । সহজ সরল মানুষ সহজেই প্রলুব্ধ হচ্ছে এই সব কথা শুনে ।

কোয়ান্টাম মেথড নতুন ধর্ম পদ্ধতি তৈরীর একটা প্রক্রিয়া হইতে পারে… (প্রশ্ন ২ এ কি খুব ই সুক্ষ্ণ ভাবে লিখা আছে ! ) তবে এর মাধ্যমে তাসাউফ থেকে মানুষকে সরিয়ে দেয়ার কু-ষড়যন্ত্র রয়েছে… । কারণ তারা বলে তারা বলে মেডিটেশন ও মোরাকাবা একই, মেডিটেশন করলে নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় । ওদের বানানো অনেক ইসলামী আলেম ও ওদের কৃতন, গীত গায় । ইসলাম সহ বিভিন্ন ধর্মের কৃতন (ওরা যেটা কে কনিকা বলে ), গীত ও ওরা বের করছে । সব ধর্ম কে একত্র করার ও চেষ্টা করছে । সাধারণ মানুষের চোখে তাই ধুলা পরে যায় । ওদের প্রচারে আকৃষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষেরা ভাবে না জানি মেডিটেশন করলে কত কিছুই পাওয়া যাবে । অনেকই ঢালছে হাজার হাজার টাকা ।

অনেকে হয়ত এরপরও বলবেন, কেন অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরা তো কোয়ান্টাম এ যাচ্ছে।কেন অনেক উচ্চশিক্ষিতরা তো হাজার হাজার টাকা খরচ করে ভন্ড পীর, ভন্ড বাবা , জ্যোতিষী, ওজা, মূর্তি পূজক, তান্ত্রিক দের কাছেও যাচ্ছে ! অনেক ও হয়ত আর ও বলবেন, আমার কেন বিশেষ স্বার্থে কোয়ান্টাম মেথড এর বিরুদ্ধে বলছি । কোয়ান্টাম মেথড এর মত আমার কোনো প্রতিষ্ঠান ও নাই । বা ঐরকম কোনো প্রতিষ্ঠানে আমি কোনো চাকরি ও করি না ।আপনারা নিজেরাই বিচার করে দেখবেন ।

—————————————————————————————————————————————————-

§ মুসলিম দের ধোকা থেকে বেচে থাকার জন্য একটি খুবই গুরত্বপূর্ণ মন্তব্য নিন্মে আপনারা দেখতে পাবেন:

আলবাব সিদ্দিকী বলেছেন:

মনে করুন, যে কলেমা তওহীদকেই জানেনা বা বিশ্বাস করেনা বা অবজ্ঞা করে , সে যদি মুসলমানদের মত হুবহু পদ্ধতি অনুসরণ করে রোজা রাখে তাহলে তার রোজা কি মুসলমানদের রোজার মত হবে ? কোয়ান্টামীদের অবস্থাও তাই।ভন্ড পীরের মত মত তারাও মানুষকে ধোকা দেয় ।তাদের পদ্ধতি অনুসরন করে হয়ত কারো কোন উপকার হতেও পারে যেরূপ যোগ ব্যয়ামে উপকার পাওয়া যায়, কিন্তু এর সাথে ইসলাম ধর্মের অনুশাসনের সাথে কোন সম্পর্ক নাই। যে মোরাকাবা প্রকৃত ইসলাম বা সুন্নাত তরীকার অন্তর্ভুক্ত , সে মোরাকাবা উছিলা ছাড়া কখনও অর্জন সম্ভব নয় ।।অবশ্য ভন্ড পীরেরাও উছিলার কথা বলে । আসলে কোন প্রকৃত অলিআল্লাহর সাথে আত্মিক যোগাযোগ ছাড়া যে কোন উছিলা ( আল্লাহকে পাওয়ার উছিলা )ধরা অসম্ভব । এখানে মোরাকাবা করার জন্য যে “উছিলা” প্রয়োজন , আমি সে “উছিলার” কথাই বুঝিয়েছি।
—————————————————————————————————————————————————-
আমার জানানো শেষ : সুক্ষ্ণ কোয়ান্টামী ষড়যন্ত্র

আমি শুধু কোয়ান্টাম এ আমার নিজ চোখে দেখা অভিজ্ঞতার কথা বললাম ।আপনারা নিজেরাই বিচার করে দেখবেন । আমার জানানো শেষ কারণ এটা এখন অত্যন্ত জটিল অবস্থাতে ।

এক পাশে ইসলামিক তাসাউফ বিরোধী সুক্ষ্ণ ষড়যন্ত্র কোয়ান্টাম মেথড । (তাসাউফ এর নামে হিন্দু বা বুদ্ধ ধর্মের যোগ ব্যয়াম মেডিটেশন)
অন্য পাশে পরিষ্কার ষড়যন্ত্র রাজাকার জামাতি । (তাসাউফ হীন )

দুই ষড়যন্ত্র কারী ই এটা কে একেক ভাবে দেখবে । দুই জন ই প্রকৃত অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি এর সাথে আত্মিক যোগাযোগ এর মাধ্যমে তাসাউফ থেকে মানুষকে সরিয়ে দেয়ার কু-ষড়যন্ত্র করছে ।

এ ছাড়া ও আছে ইসলাম বিরোধী নাস্তিক , যারা এই গুলো কোনটার ভিতরেই না । নাস্তিক দের কাছে এই গুলো সব ই পাগলের প্রলাপ । অনেক সময় দেখছি নাস্তিক দের মুসলিম রা খারাপ গালি দিচ্ছে । গালি দিয়েন না । কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন , তোমরা শয়তান কে গালি দিও না , বরং শয়তান থেকে আল্লাহ সুব’হান’আলা’তালা এর কাছে হিফজোত চাও ।

এই জটিল অবস্থা কেউ যদি বুঝতে চান প্রকৃত অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি ছাড়া কোনো উপায় নাই ।

পুরো বিসয় তা ভালো ভাবে বুঝতে হলে তাকে মেডিটেশন ও জানতে হবে সুন্নাত তরীকার অন্তর্ভুক্ত মোরাকাবা ও জানতে হবে । কারণ দুই টায় practical । আর কেউ যদি শুধু ইসলামিক তাসাউফ চান যে কোনো একজন প্রকৃত অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি এর কাছে গেলেই হবে । মেডিটেশন অনুসরন করে হয়ত কারো কোন উপকার হতেও পারে যেরূপ যোগ ব্যয়ামে উপকার পাওয়া যায়, কিন্তু এর সাথে ইসলাম ধর্মের অনুশাসনের সাথে কোন সম্পর্ক নাই। আর ও বড় কথা কোয়ান্টাম ইসলাম কে Use করসে ও সবাইকে ইসলাম-হিন্দু -বুদ্ধ-খিস্টান-ইহুদী-উপজাতি কোনটাই না বানিয়ে হারাম কোয়ান্টামী (

আমার ধারণা সংক্ষেপে সম্ভবত কোয়ান্টাম গাণিতিক সূত্র: (Dirac notation ব্যবহার করলে)

[{কোয়ান্টামী [<মেডিটেশন। কোয়ান্টাম ।যোগ ব্যয়াম>]=[(a% < যোগ |হিন্দু + b% <নির্বাণ |বুদ্ধ + c%<শক্তিপ্রকৃতি পূজক |উপজাতি + d%<সত্য |ইসলাম + e%< ভালবাসা |খিস্টান + f%<কু-ষড়যন্ত্র |ইহুদী) ধর্মী}]

) বানাচ্ছে । পৃথিবীর সব দেশে ই তো যোগ ব্যয়াম – মেডিটেশন আছে । কিন্তু তারা তো বলছে না যোগ ব্যয়াম – মেডিটেশন ইসলামিক । হারাম কোয়ান্টাম কেন মেডিটেশন কে ইসলামের ভিতর ঢুকাচ্ছে ! কে তাকে দায়িত্ব দিয়াছে মেডিটেশন দিয়ে ইসলাম-কুরআন-হাদিস-গীতা -বেদ-বাইবেল কে বুঝতে । এদের অবস্থা যে নতুন ধর্ম গড়া র দিকে যাচ্ছে , এটা বুঝতে কারো কষ্ট হচ্ছে না এখন । সবচে ভয়ংকর এরা পবিত্র কুরআন কে হিন্দু বা বুদ্ধ ধর্মের মেডিটেশন দিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে (link1) (link2) । কিন্তু কুরআন এর হিফাজোত কারী আল্লাহ সুব’হান’আলা’তালা নিজে । কারো কোনো দায়িত্ব নাই । আল্লাহ সুব’হান’আলা’তালা ই পবিত্র কুরআন ষড়যন্ত্রকারী দের ধ্বংশ করবেন ।

যুক্তিতর্ক দিয়ে হেদায়েত হয় না। হেদায়েত একমাত্র ওলীআল্লাহর কাছে পাওয়া যায়। আমি কোনো প্রকৃত অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি এর পায়ের ধুলার ও সমান না । অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি এর বাংলাদেশে অনেক প্রকৃত অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি আছেন । আমি নির্দিষ্ট কারো কথা বলতে চাই না । প্রকৃত অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি সবাই ই আল্লাহ সুব’হান’আলা’তালা এর বন্ধু ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সথে সিলসিলা তে আছেন । যার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সিলসিলা নাই ও যার কোনো সুন্নাত তরীকা ই নাই , সে কোনো প্রকৃত অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি না । সে ভন্ড পীর-বাবা-জ্যোতিষী-মূর্তি পূজক-তান্ত্রিক । আপনারা প্রকৃত অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি দের যে কোনো একজনের কাছে গিয়ে জানুন ও মোরাকাবা করে দেখুন । প্রকৃত অলিআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ ই সঠিক পথ প্রদশক । শয়তান থেকে সবসময় আল্লাহ সুব’হান’আলা’তালা এর কাছে হিফজোত চাচ্ছি । যাকে আল্লাহ সুব’হান’আলা’তালা হেদায়েত দিবেন সে পাবে, যাকে দিবেন না সে পাবে না । আল্লাহ সুব’হান’আলা’তালা এর কাছে সবসময় হিফজোত ও হেদায়েত চাচ্ছি ।