ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

সকাল বেলা সুস্থ মানুষ বাড়ি থেকে বের হল, আর ফিরল লাশ হয়ে। এই হল বর্তমানে রাস্তাঘাটের অবস্থা। আমাদের রাস্তাগুলোর এখন যে অবস্থা এর যে কি নাম হওয়া উচিত, আমার জানা নেই। সবুজের সমারোহে ভরপুর এই বাংলার রাস্তাগুলো যেন এক একটা মৃত্যুফাঁদ। অনেকে অবশ্য এক মন্ত্রীর নামে এই রাস্তার নাম দিয়ে দিয়েছে।সরকারকে দেখলে মনে হয় তারা একেবারে নির্বিকার,যেন কিছুই ঘটছে না চারপাশে। মানুষের অস্বাভাবিক দূর্ঘটনায় মৃত্যু তাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক মনে হয়। সাধারণ মানুষ মারা গেলে তাদের কি আসে যায়।কিন্তু আপনারা কি ভুলে গেছেন এই সাধারণ মানুষই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে আপনাদের ঐ গদিতে বসায়। জনসাধারণ আজ দূরপাল্লার ভ্রমণে ভয় পায়। যদি বিশিষ্ট কোন ব্যাক্তি মারা যান তার জন্যে স্মরণসভা,মানববন্ধন আরো কতকিছু হয়। তারপর আবার সব থেমে যায়। কিন্তু প্রতিদিন কত তাজা প্রাণ সড়ক দূর্ঘটনায় হারিয়ে যাচ্ছে সরকারের নেতারা কি সে হিসাব রাখেন।কিভাবে শান্তনা দিবেন তাদের পরিবারকে। আর মারা যাওয়া ব্যক্তি যদি হয় ঐ পরিবারের কর্তা, একমাত্র উপার্জনকারী। তাহলে সেই পরিবারের অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে তা বলার উপেক্ষা রাখে না। সরকার আর বিরোধী দলের নেতারা অনেক বড় বড় কথা বলেন।

এই বাংলার রাস্তার উন্নয়নে,পরিবহন শ্রমিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্যে,পুরাতন যানবাহন রাস্তা থেকে তোলে দেওয়ার জন্যে একটু কথা বললে কি আপনাদের সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে? একটু ভেবে দেখুন না আপনার সন্তান যদি এই সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়,তখন আপনার কেমন লাগবে?না তা হবে কেন, আপনার সন্তানেরা তো আর এদেশে থাকে না।কিন্তু হাজারো সূর্য সন্তান এই বাংলার উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে, যাদের ঘামে বাংলা আজ পৃথিবীতে মাথা তোলে দাঁড়িয়ে আছে,তাদের জন্যে না হয় একটা কিছু করুন!(জানি কিছুই হবে না তবুও বুকভরা আশা নিয়ে আছি।) একটা গল্প দিয়ে আমার লেখা শেষ করব-একবার বিদেশি এক নাস্তিক লোক বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন।তিনি আমদের রাস্তাঘাট আর পরিবহনের অবস্থা দেখে বললেন-“নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তা বলে একজন আছেন।আর নাহলে এত গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলে কিভাবে?”