ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

Abstract:
Urbanization is very important for developing country like Bangladesh. For this reasion, after liberation emphasis has been given on urbanization from govt. level. For urban development of any city or town landuse survey and socio-economic condition of the place is must. We have selected Cox’s Bazar town from economic point of view and also for changing demographic characteristics of the city. The research work is mainly based on primary and secondary data. The problems and solutions of the city has been shown through the research work.

বাংলাদেশের স্বনির্ভর ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং জনগনের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নগরায়ন খুবই জরুরী । এই উপলব্ধি থেকে স্বাধীনতা উত্তর কাল হতে সরকারি ভাবে এদেশে নগরায়নকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নগরের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ ও উন্নয়ন এবং সর্বোপরি ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনশীলতা পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে গবেষণার একান্ত প্রয়োজন। এ উপলব্ধি থেকে নগরের গুনগত মান, জনমিতিক বৈশিষ্ট্য, অথনৈতিক অবস্থা, আবাসিক ও পরিবেশগত অবস্থা এবং তাদের কার্যক্ষেত্রে সমস্যার প্রকৃতি অনুসন্ধান করা, কক্সবাজার নগরের আর্থ সামাজিক অবস্থা ও সমস্যার প্রকৃতি নিরুপন করে এর নগরায়নের গতি ধারা যাচাই করাই বর্তমান গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য। এখানে প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায় থেকে তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যাদির উপর ভিত্তি করে অবস্থা বিশ্লেষণ, অর্থনেতিক গুরুত্ব, পরিবেশের উপর প্রভাব, সমীক্ষা এলাকার ভূমি ব্যবহার এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থা সঠিক চিত্র নিরুপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সমীক্ষা এলাকার নগরায়নের সার্বিক সমস্যাবলি এবং সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা ও সুপারিশমালা প্রদান এই গবেষণার বিষয়বস্তুর অন্তর্ভূক্ত।

সমীক্ষার বিষয় নির্বাচন:
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও জনবহুল দেশ। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার অধিকাংশ কৃষিতে নিয়োজিত হতে হতে এমন অবস্থায় পৌছেছে যে, বর্তমানে কৃষি খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে শহরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যে হারে নগরের প্রসার লাভ করেছে তা এক কথায় অভাবনীয়। বস্তুত এপর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বাংলাদেশের নগর অত্যন্ত নিম্ন মানের । মান সম্মত নগরায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করা হয়। এই খাতে যুতসই উন্নয়নের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা উচিত। এরূপ একটি প্রয়োজন ইতোমধ্যেই পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবিদ ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যে দারুণভাবে অনুভূত হচ্ছে। এই তাগিদ থেকেই ভৌগলিক এবং আর্থ সামাজিক সমীক্ষাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

সাহিত্য পর্যালোচনা:
বাংলাদেশের নগরায়ন নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা সম্পাদিত হলেও কক্সবাজার শহরের নগরায়নের ধারা নিয়ে কোন ধরনের গবেষণা সম্পাদন করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পারিনি। যদিও আমরা বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, বই, জার্নাল, বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে নানাবিধ তথ্যাদি পেয়ে থাকি তার পরেও উক্ত বিষয় নিয়ে কোন ভৌগোলিক গবেষণা সম্পাদন হয়নি। ফলে বর্তমান গবেষণাটি কক্সবাজার শহরের নগরায়নের ধারা জানার একটি প্রাথমিক প্রয়াস।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে:
বাংলাদেশের কক্সবাজার শহরের নগরায়নের ধারা জানা এই গবেষনার মূল লক্ষ্য।সামনে রেখে আলোচ্য গবেষণাটি সম্পন্ন করার জন্য কতগুলো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেকে হাতে নেয়া হয়েছে। এগুলো হল –
ক্স কক্সবাজার শহরের জনমিতিক বৈশিষ্ট্য ও অর্থনৈতিক অবস্থা অনুসন্ধান করা ।
ক্স কক্সবাজার শহরের সমস্যার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা
ক্স শহরের নগরায়নের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এর ধারা নিরুপন করা
ক্স গবেষণার ফলাফলের আলোকে কক্সবাজার শহরের পরিবেশের বিরুপ প্রভাব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কিছু সুপারিশ করা ।

তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ :
যেহেতু গবেষণাটি প্রাথমিক তথ্য ভিত্তিক সেহেতেু বর্তমান গবেষণাটিতে নমুনায়নের ভিত্তিতে প্রশ্নমালার সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে । কক্সবাজার শহর কে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করে, বসতির বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার এই অঞ্চল কে একাধিক গুচ্ছে ভাগ করে দৈব চয়নের মাধ্যমে তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে জরিপটি প্রতিনিধিত্ব মূলক হয়েছে বলে আশা করা যায়। ঐ এলাকায় অবস্থিত হোটেল মালিক, ম্যানেজার, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সরেজমিনে সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উৎস যেমন বইপত্র, রির্পোট, অপ্রকাশিত থিসিস হতে তথ্য প্রভৃতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা গুলো থেকে পাওয়া তথ্যসমূহ পর্যালোচনা ও ব্যবহার করা হয়েছে।

সীমাবদ্ধতা :
বিভিন্ন কারণ বর্তমান গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েগেছে। পর্যাপ্ত সময়ের অভাব ও কক্সবাজার শহরের নগরায়নের উপর পূর্বে বাংলাদেশে কোন ভৌগোলিক গবেষণা সম্পাদন হয়নি। এই জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস হতে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও ধারণা প্রাপ্তিতে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা ছিল। পৃষ্ঠাসংখ্যা বাধ্যবাধকতায় এই গবেষণাটি সম্পাদনে আরো অধিকতর তথ্য আহরণ ও সংযোজন সম্ভব হয়ে উঠনি । তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বহুবিধ সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে যারা তথ্য প্রদানে অনাগ্রহী, তাদেরকে আলোচ্য গবেষণায় তুলে ধরা হয়নি । কক্সবাজার শহরের সীমানা নিয়ে বিরোধ বিচারাধীন। যা আলোচ্য গবেষণার অন্যতম সীমাবদ্ধতা ।

০ ১ ২ কি মি

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটন নগরী হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। বৃটিশ ইস্ট-ইডিয়া কোম্পানীর আর্মি অফিসার লেফটেনেন্ট হিরন কক্স এর নাম অনুসারে এই জেলা শহরের নাম হয় কক্সবাজার। তিনি এখানে মগদের বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করেন এবং তার মৃত্যুর পর তাকে এখানেই সমাহিত করা হয় (উরংঃৎরপঃ এধুবঃঃববৎং ঈযরঃঃধমড়হম)। ১৮৬৯ সালে কক্সবাজার পৌরসভা গঠিত হয় । দেশের দক্ষিণ পূর্বাংশে অবস্থিত এই জেলার পশ্চিমে সাগরের কূলঘেষে রয়েছে সুষমঢাল বিশিষ্ট সৌন্দর্যমন্ডিত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত; উপকূলের এই বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি একে বিশেষ স্বাতন্ত্র এনে দিয়েছে । দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ শহরের অবদান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

অবস্থান ও আয়তন :
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার । এই জেলার প্রায় মধ্যাংশে কক্সবাজার উপজেলা অবস্থিত।কক্সবাজার শহরের উত্তরে বাঁকখালী নদী দক্ষিণে দক্ষিণ কলাতলী পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে বাঁকখালী নদী ,পাহাড় ও বিল-খাল দ্বারা বেষ্টিত। সমুদ্র উপকূলবর্তী কক্সবাজার শহর ২১.২৩ থেকে ২১.২৭ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১.৫৬ থেকে ৯২.০০ পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত । শহরের মোট আয়তন ১১ বর্গ কিলো মিটার । এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার আয়তন ৬.৮৫ বর্গ কিলোমিটার ।

কক্সবাজার শহরের নগরায়নের ধারাঃ
কক্সবাজার অঞ্চলের পরিচিতি অষ্টম শতকের আরব বনিক ও ধর্মপ্রচারকদের সময থেকে ৯৩০ সালে আরাকান রাজা ইঙ্গ চন্দ্র চট্টগ্রাম জয় করেন। তখন থেকে ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত মোগলদের অধিকারে না আসা পর্যন্ত কক্সবাজার অঞ্চল আরাকানিদের অধীন ছিল। মোগল সেনাপতি বুজুর্গ উমেদ আলী খান আরাকানীদের কক্সবাজার অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করেন। তখন এখানে জন বসতি থাকলেও পরে আরাকানী মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুদের অত্যাচারে কক্সবাজার অঞ্চল ত্যাগ করে। ইংরেজ আমলে পুনরায় কক্সবাজার অঞ্চলে জন বসতি শুরু হয়। কক্সবাজার অঞ্চলে পূর্ব ও উত্তর থেকে মানুষ এখানে বসতি স্থাপন করে। মগ উপজাতি ও আরাকানি মুসলমান গন এখানে ব্যাপক হারে বসতি স্থাপন করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসন আমলে এখানে রাখাইন সম্প্রদায় বসতি স্থাপন করে এবং শহরের বিকাশ লাভ করে। ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোধপায়া (১৭৮২-১৮১৯) আরাকান দখল করে তাদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালায়। বর্মীদের অত্যাচার থেকে রেহাই পাবার জন্য আরাকানীরা দলে দলে কক্সবাজার অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। ১৭৯৯ সালে জঙ্গলাকীর্ণ এলাকাকে আবাদযোগ্য করে তোলার জন্য কোম্পানি আরাকানিদের আশ্রয় দেয়। আরাকানীদের পুনর্বাসনের জন্য ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি প্রতি পরিবার কে তিন একর জমি এবং ২৬ মন খাদ্যশস্য ঋন প্রদান করে। ১৮৫৪ সালে থানা, ঐ বৎসরই চট্টগ্রাম জেলার মহকুমা হবার পর এখানে বসতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে। ১৮৬৯ সালে কক্সবাজার পৌরসভা গঠিত হয় এবং ১৯৫৯ সালে এটিকে টাউন কমিটিতে রূপান্তরিত হয়। ১৯৭২ সালে টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হয়। ১৯৮৪ সারে কক্সবাজার শহর জেলা সদরে রূপান্তরিত হয়। ১৯৮৯ সালে পৌরসভাকে সি গ্রেড থেকে বি গ্রেডে উন্নীত করা হয়। বাংলাদেশের পর্যটন নগরী হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত কক্সবাজার শহরের দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে বসতি দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজার শহরে বসতির সংখ্যা ৮,৪০০ (২০০১)।

এক নজরে কক্সবাজার শহরের নগরায়নের ধারা
*অষ্টম শতকের আরব বনিক ও ধর্মপ্রচারকদের আগমন
*নবম শতক হরিকেল রাজ কান্তি দেবের শাসন
*৯৩০ সালে আরাকান রাজা ইঙ্গ চন্দ্র বৃহত্তর চট্টগ্রাম জয় । গ্রামীণ বসতি।
*১৬৬৬ সাল মোগলদের কক্সবাজার অধিকারে। বসতি হ্রাস।
*১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোধপায়া (১৭৮২-১৮১৯) আরাকানে সামরিক ঘাটি স্থাপন করে অত্যাচার চালায়। আরাকানীরা দলে দলে কক্সবাজার অঞ্চলে আশ্রয়।
*১৭৯৯ উদ্বাস্ত শিবিরে আরাকানীদের আশ্রয় দেয়। ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স এর মৃত্যু।
*১৮৫৪ সালে থানা ও মহকুমা।
*১৮৬৯ সালে কক্সবাজার পৌরসভা গঠিত হয়।
*১৯৫৯ সালে টাউন কমিটিতে রূপান্তরিত হয়।
*১৯৭২ সালে টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হয়।
*১৯৮৪ সারে কক্সবাজার শহর জেলা সদরে রূপান্তরিত হয়।
*১৯৮৯ সালে পৌরসভাকে সি গ্রেড থেকে বি গ্রেডে উন্নীত করা হয়।

জনমিত্তিক ধারাঃ
১৯৮১ ও ১৯৯১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী কক্সবাজার শহরের মোট জনসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৭,৭১৩ ও ৪৬,৮৮৭ জন । ১৯৭৪ সালে লোক সংখ্যা ছিল ১৫,৭২০ জন এবং ১৯৬১ সালে লোক সংখ্যা ছিল মাত্র ৮,৪২৭ । বর্তমানে পৌরসভার লোক সংখ্যা ৫৩,৭৬০ জন; এর মধ্যে ৩৪,২২০ জন পুরুষ এবং ১৯৫৪০ জন মহিলা। এখানে প্রতি বর্গ কি. মি. প্রায় ৫,০০০ জন লোক বাস করে । গত ৪০ বৎসরে কক্সবাজার শহরের জনসংখ্যা ৬ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। কক্সবাজার শহরের জনসংখ্যার স্বাক্ষরতার হার বর্তমানে ৬০% ভাগ। জনসংখ্যার ৮১.৫৩ ভাগ মুসলিম, ১৪.৬১ ভাগ হিন্দু, ৩.৭৩ ভাগ বৌদ্ধ এবং বাকীরা খ্রীষ্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোক। কক্সবাজার শহরে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক উপজাতির লোক বসবাস করে। ১৯৯১ সালে উপজাতির লোকসংখ্যা ছিল মোট লোকসংখ্যার ৩%ভাগ। এখানে মারমা উপজাতির লোক বেশী দেখা যায়। কক্সবাজার শহরের বয়স কাঠামোতে দেখা যায় মোটামুটি শিশু ও মাঝ বয়সের লোকের সংখ্যা বেশি। জরিপ করে দেখা যায় ২৮৫ পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ১৪৩৬ জন এদের মধ্যে ৭৭৪ জন পুরুষ এবং ৬৬২ জন মহিলা ;১০-১৪ বছর বয়সের লোকের সংখ্যা বেশি।কক্সবাজার শহরে পুরুষ লোকদের মধ্যে ১৬.১৫ শতাংশ ১০-১৪ বছর বয়সের এবং মহিলাদের মধ্যে ১২.৮৪ শতাংশ ১০-১৪ বছর বয়সের।

অধিবাসিদের উৎপত্তিস্থল ও অভিগমনের কারণ:
উৎপত্তিস্থল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় অধিকাংশ অভিগমনকারী স্থানীয় উপজেলা ও স্থানীয় জেলা থেকে কক্সবাজার শহরে অভিগমন করেছে; যার শতকরা হার যথাক্রমে ৩৬.৫৫ ও ৪২.৭৬ ভাগ (সারণি- )। দেশের বাকী অংশ থেকে অভিগমনকারীর সংখ্যা অনেক কম ।

সারণি-১ উৎপত্তিস্থল
ক্রমিক নং ধরণ সংখ্যা শতকরা হার
১ স্থানীয় উপজেলা থেকে ৫৩ ৩৬.৫৫
২ স্থানীয় জেলা থেকে ৬২ ৪২.৭৬
৩ অন্যান্য ৩০ ২০.৬৯
মোট ১৪৫ ১০০.০০

উৎস: প্রশ্নমালা জরিপ-২০০৪
সমীক্ষায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক কারণে ৩৫ শতাংশ লোক অভিগমন করে। তাছাড়াও গ্রামে বাসস্থানের সমস্যার কারণে ১৩.৯ শতাংশ, চাকরীর কারণে ১১.৭ শতাংশ, ব্যবসার কারণে ১০.৫ শতাংশ, যাতায়ত সমস্যাজনিত কারণে ১০.৫ শতাংশ শিক্ষার কারণে অভিগমন করে। গবেষণায় এটাই প্রমানিত হল যে, গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাব ও শহরে অধিক আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা পাবার আশায় অভিগমন করে।

সারণি-২ অভিগমনের কারণ

ক্রমিক নং ধরণ সংখ্যা শতকরা হার
১ অর্থনৈতিক ৬৩ ৩৫
২ বাসস্থানের ২৫ ১৩.৯
৩ চাকুরী ২১ ১১.৭
৪ ব্যবসা ১৯ ১০.৫
৫ যাতায়ত ১৯ ১০.৫
৬ শিক্ষা ১৪ ৭.৮
৭ সম্পত্তি রক্ষা ১৩ ৭.২
৮ দূর্যোগ ৭ ৩.৪
মোট ১৮০ ১০০.০০

উৎস: প্রশ্নমালা জরিপ-২০০৪।

সারণি-৩ কক্সবাজার শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি (১৯৬১-২০০১)
সন কক্সবাজার শহরের জনসংখ্যা কক্সবাজারের স্বাক্ষরতা (%) যোজিত গুনক দেশের নগর জনসংখ্যা (০০০) যোজিত গুনক ঢাকার জনসংখ্যা(শত) যোজিত গনক
৬১ সন ৮,৪২৭ ০ ২৬৩০ ০ ৩৬২০ ০
৭৪ সন ১৫,৭২০ ১৪ ১.৯ ৬০০০ ২.৩ ১৩০০০ ৩.৬
৮১ সন ২৭,৭১৩ ২৪ ৩.৭ ১৩৫৬০ ৪.৫ ৩০০০০ ৫.৯
৯১ সন ৪৬,৮৮৭ ৫২.২ ৫.৪ ২২৪৫০ ৬.১ ৩৮২৮০ ৭.২
০১ সন ৫৩,৭৬০ ৬০ ৬.৬ ২৮৬১০ ৭.৩ ৫৫৭৫১ ৮.৬

উৎসঃ আদম শুমারী রিপোট ৬১,৭৪, ৮১, ৯১ ও ২০০১।

জনমিত্তিক ধারা

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা (যোজিত গুনক)
১৯৬১,১৯৭৪,১৯৮১ ও ১৯৯১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী কক্সবাজার শহরের মোট জনসংখ্যা ছিল ৮,৪২৭, ১৫,৭২০, ২৭,৭১৩ ও ৪৬,৮৮৭ জন। বর্তমানে পৌরসভার লোক সংখ্যা ৫৩,৭৬০ জন। গত চল্লিশ বছরে কক্সবাজার শহরের জনসংখ্যা ৬ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ১৯৬১, ১৯৭৪, ১৯৮১ ও ১৯৯১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী রাজধানী ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩৬২,০০০, ১৩,০০,০০০, ৩০,০০,০০০ ও ৩৮,২৮,০০০ জন। গত চল্লিশ বছরে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ১৫ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত চল্লিশ বছরে সমগ্র দেশের শহরের জনসংখ্যা ১০ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। সমগ্র দেশের শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ক্ষেত্রে নতুন পৌরসভার জনসংখ্যাকে বাদ দিলে দেশের শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অত্যন্ত কম। চিত্র থেকে দেখা যায় যে, ১৯৯১-২০০১ সনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা কক্সবাজার ও ঢাকা একই হলেও সমগ্র দেশের তুলনায় বৃদ্ধির প্রবনতা বেশী।

সারণি-৪ কক্সবাজার শহরের আয়তন বৃদ্ধি (১৯৬১-২০০১)
সন আয়তন (বর্গ কি. মি.) যোজিত গুনক কক্সবাজার শহরের জনসংখ্যা যোজিত গুনক
১৯৬১ সন ১.৫ ০ ৮,৪২৭ ০
১৯৭৪ সন ২.৮ ১.৮ ১৫,৭২০ ১.৯
১৯৮১ সন ৪.২ ৩.৩ ২৭,৭১৩ ৩.৭
১৯৯১ সন ৬.৮৫ ৪.৯ ৪৬,৮৮৭ ৫.৪
২০০১ সন ১১ ৬.৫ ৫৩,৭৬০ ৬.৬
উৎসঃ আদম শুমারী রিপোর্ট ৬১,৭৪, ৮১, ৯১ ও ২০০১।
চিত্রঃ কক্সবাজার শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি (১৯৬১-২০০১)

কক্সবাজার শহরের আয়তনগত পরির্বতন খুব দ্রুত বৃদ্ধির দিকে ধাবিত হচ্ছে।গত ৪০ বৎসরে কক্সবাজার শহরের আয়তন সাত গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬১ সন থেকে ১৯৭৪ সনের তুলনায় ১৯৭৪ সন থেকে ১৯৮১ সনের শহরের আয়তন বৃদ্ধির হার বেশী। আবার১৯৭৪ সন থেকে ১৯৮১ সনের তুলনায় ১৯৮১ সন থেকে ১৯৯১ সনের শহরের আয়তন বৃদ্ধির হার আরও বেশী । ১৯৮১ সন থেকে ১৯৯১ সনের তুলনায় ১৯৯১ সন থেকে ২০০১ সনের শহরের আয়তন বৃদ্ধির হার আরও অনেক বেশী । জনসংখ্যা ও আয়তন বৃদ্ধির হার মোটমোটি কাছা কাছি হলেও এক ধরনের নয়। জনসংখ্যা ও আয়তন বৃদ্ধির প্রবনতা প্রথমে ১৯৬১ সন থেকে ১৯৭৪ সন পর্যন্ত একই ধরনের, আবার ১৯৭৪ সন থেকে ১৯৮১ সনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবনতা তুলনায় ও আয়তন বৃদ্ধির প্রবনতা কম, ১৯৮১ সন থেকে ১৯৯১ সনের শহরের জনসংখ্যা ও আয়তন বৃদ্ধির হার মোটমোটি কাছা কাছি হলেও ১৯৯১ সন থেকে ২০০১ সনের শহরের আয়তন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশী ।

ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তণঃ
সমীক্ষা এলাকার ভূমি ব্যবহারের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় বর্তমানে যেখানে বসতবাড়ি বা হোটেল অবস্থিত অতীতে সেখানে বনভূমি, জেলে পল্লী, উন্মুক্ত মাঠ, বিতীর্ণ এলাকা চারণভূমি, আবাদি জমি,পতিত ভূমি ও জলাশয়ে পরিপূর্ণ ছিল। বর্তমানে যে সব এলাকায় শহর গড়ে উঠার দরুণ আবাদী ও পতিত জমি এবং বনভূমি হ্রাস পেয়ে, পর্যটন শিল্প অন্যান্য ব্যবসায়িক কর্মকান্ড, বসতবাড়ী ও রাস্তাঘাট, গড়ে উঠেছে । সমীক্ষা দেখা যায় যে, ১৯৬১ সালে কক্সবাজার শহরের ব্যবহৃত ভূমির পরিমান ছিল ১ বর্গ কি মি কিন্তু বর্তমানে ১১ বর্গ কি মি দাঁড়িয়েছে । এইভাবে পর্যটন শিল্প অন্যান্য ব্যবসায়িক কর্মকান্ড, বসতবাড়ী ও রাস্তাঘাট, অফিস আদালত অন্যান্য কর্মকান্ডে ভূমি ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আবাদী ও পতিত জমি হ্রাস পেয়েছে। সমীক্ষায় দেখা যায়, কক্সবাজার শহরের ২৮৫ জন উত্তরদাতার মধ্যে ১৫০ জন বলেছে তাদের বর্তমান বসত বাড়িতে পূর্বে বসতি ছিল না। এই ১৫০ জনের মধ্যে ৬২% বলেছে তাদের বাড়িটি পতিত বা চারন ভূমির উপর, ১২% বাগান বা বনভূমি, ৬% কৃষিভূমি, ৫.৩% জলাভূমি,৪.৬% পাহাড়ের উপর, ৪.৬% মাঠের উপর, ৩.৩%সরকারি খাস জমির উপর এবং ২.২% বলেছে তাদের বাড়িটি কারখানার জমির উপর তৈরী করা হয়েছে। সমীক্ষাটি চালানো হয়েছিল পৌরসভার অধীন এলাকাতে, পৌরসভা এলাকার বাইরে এক বিরাট এলাকা বাস্তবে নগরের অপরিহার্য অংশ ; বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিন কলাতলী, উত্তর জিলংজা এলাকা। এই অঞ্চলের অধিকাংশ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনা খাস জমি, বনবিভাগের জমি ও ফসলি জমির উপর তৈরী করা হয়েছে।

সারণি – ৫ ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তণ
ক্রমিক নং ধরণ সংখ্যা শতকরা হার
১ পতিত ৯৩ ৬২
২ বন ১৮ ১২
৩ কৃষি ৯ ৬
৪ পুকুর/জলাভূমি ৮ ৫.৩
৫ পাহাড় ৭ ৪.৬
৬ মাঠ ৭ ৪.৬
৭ খাস ৫ ৩.৩
৮ কল কারখানা ০৩ ২.২
১৫০ ১০০.০০

উৎস : প্রশ্নমালা জরিপ ২০০৪

বসত বাড়ির ধরণঃ
কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন ধরনের বসতি দেখা যায়। কক্সবাজার শহরের বসত বাড়ি দেশের অন্যান্য শহর থেকে উন্নত ধরনের। এখানে ১০০ এর অধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে ; যার সবগুলোই বহুতল ভবন। প্রশ্নমালা জরিপের ২৮৫ টি বসত ভিত্তিক তথ্যের মধ্যে হোটেল গুলোকে ধরা হয়নি। কক্সবাজার শহরের প্রচুর উন্নত ও মধ্যম মানের হোটেল রয়েছে, যা এই শহরের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিরুপনে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। সারণী থেকে দেখা যায় কক্সবাজার শহরের পাকা বাড়ি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সারণি- ৬ বসত বাড়ির ধরণ
ক্রমিক নং বাড়ির ধরণ সংখ্যা
২০০৪ শতকরা হার সংখ্যা ১৯৮১ শতকরা হার সংখ্যা ১৯৯১ শতকরা হার
১ বহুতল ৩৩ ১১.৫৮
২ পাকা ৪৫ ১৫.৭৯ ৪৯৮ ১৩.৫১ ৮০৭ ১০.৫১
৩ আধাপাকা ১১২ ৩৯.৩ ৭০১ ১৯.০০ ২১৫৮ ২৮.১১
৪ কাঁচা ৮০ ২৬.৩ ১৯৪৯ ৫২.৮৬ ৩৪৪৪ ৪৪.৮৬
৫ বস্তি ১৫ ৭.০৩ ৫০৩ ১৩.৬৩ ১২৬৯ ১৬.৫৩
মোট ২৮৫ ১০০ ৩৬৯১ ১০০.০০ ৭৬৭৮ ১০০.০০
উৎসঃ প্রশ্নমালা জরিপ-২০০৪ ও আদম শুমারী রিপোর্ট ৮১, ৯১ ও ২০০১।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
এই দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত নয়। গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। সমীক্ষা এলাকায় প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে কক্সবাজার শহরে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারির সংখ্যা ছিল ৫৪ শতাংশ, ২০০৪ সালে তা হয় ৮৬ শতাংশ।

গৃহ জ্বালানীর উৎস ঃ
কক্সবাজার শহরের গৃহ জ্বালানীর সমস্যা বড় সমস্যা। কক্সবাজার বনভূমি ধ্বংশ হবার পিছনে গৃহ জ্বালানী সমস্যার ভূমিকাই প্রধান। শহরে এখনো গ্যাস সরবরাহ করা হয়নি। কক্সবাজার শহরের গৃহ জ্বালানীর অবস্থা নিম্নে আলোচনা করা হল, সমীক্ষার ২৮৩ টি পরিবারের মধ্যে শতকরা ৬২.২% ভাগ গৃহ জ্বালানী হিসাবে কাঠ ব্যবহার করে। শতকরা ৩০.৭% ভাগ গৃহ জ্বালানী হিসাবে এল. পি. গ্যাস ব্যবহার করে , শতকরা ২.৫% ভাগ গৃহ জ্বালানী হিসাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, এছাড়া শতকরা ৪.৬% ভাগ গৃহ জ্বালানী হিসাবে অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করে। কক্সবাজার শহরের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।তা‘ছাড়া পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০,০০০ ভ্রমনকারী ভ্রমনে আসে। এর কারনে গৃহ জ্বালানীর চাহিদা আরো দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্য দিকে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া চাহিদা পূরণ করতে যেয়ে বনভূমি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
সারণি- ৭ গৃহ জ্বালানীর উৎস
ক্রমিক নং ধরণ সংখ্যা শতকরা হার
১ কাঠ ১৭৬ ৬২.২
২ গ্যাস ৮৭ ৩০.৭
৩ বিদ্যুৎ ৭ ২.৫
৪ অন্যান্য ১৩ ৪.৬
মোট ২৮৩ ১০০.০০
উৎসঃ প্রশ্নমালা জরিপ-২০০৪ ।

খাবার পানির উৎস ও বর্জ্র নিষ্কাশনঃ
সুস্থ-সবল ও রোগমুক্ত জীবন যাপনের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের বিকল্প নেই। বাংলাদেশে তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ হলেও পানীয় জলের সরবরাহের ব্যবস্থা প্রায় উন্নত বিশ্বের সমকক্ষ। ২৮৫ পরিবারের উপর সমীক্ষায় দেখা গেছে তাদের মধ্যে ৯৮.৬ ভাগ বিশুদ্ধ পানি পান করে। এছাড়া ব্যবহারের জন্য পুকুর, সাপ্লাই/ ট্যাপ পানির ব্যবস্থা রয়েছে (সারণি) । ৮৬.৩ শতাংশ পরিবারের আবাসস্থলে টিউবওয়েল রয়েছে। ১.৪ শতাংশ পরিবারের আবাসস্থলে কাঁচাকূপ/পুকুরের পানি ব্যবহার করা হয়। ১৯৯১ সালের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।
সারণি-৮ খাবার পানির উৎস
ক্রমিক নং ধরণ সংখ্যা ২০০৪ শতকরা হার ১৯৯১ সাল শতকরা হার
১ ট্যাপ ৩৫ ১২.৩ ৪৫৪ ৭.১
২ টিউবওয়েল ২৪৬ ৮৬.৩ ৫৩৭৮ ৮৩.৯

৩ অন্যান্য ৪ ১.৪ ৫৭৭ ৯.০
মোট ২৮৫ ১০০.০০ ৬৪০৯ ১০০.০০
উৎস ঃ প্রশ্নমালা জরিপ-২০০৪ ও আদম শুমারী ১৯৯১।
প্রত্যেক মানুষই চায় সুস্থ, সুন্দর, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি জীবন যাপন করতে। ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও অনেক সময় শিক্ষা, আর্থিক সমস্যা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনার অভাবে তা হয়ে উঠে না। কক্সবাজার শহরের বাসস্থানের এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ খুবই নোংরা। সারণি- ৯ বর্জ্র নিষ্কাশন

ক্রমিক নং ধরণ সংখ্যা শতকরা হার
১ রাস্তা ৬ ২.২
২ খোলা জায়গা ৭৫ ২৭.৪
৩ বাড়ির আঙিনা ৭২ ২৬.৩
৪ ডাস্টবিন ৯১ ৩৩.২
৫ অন্যান্য ৩০ ১০.৯
মোট ২৭৪ ১০০.০০
উৎসঃ প্রশ্নমালা জরিপ-২০০৪ ।

তাছাড়া এত লোকের মাঝে প্রয়োজনের তুলনায় ডাস্টবিনের সংখ্যা, ড্রেন, জনবল, সরন্জাম একে বারেই কম। তাই বাধ্য হয়ে অনেক সময় রাস্তা, খোলা জায়গা, বাড়ির আঙিনা, বর্জ্র নিষ্কাশন করে থাকে। পানি নিষ্কাশনের উত্তম ব্যবস্থা না থাকায় ড্রেন গুলোতে দূর্গন্ধ ছড়ায়। সর্বপরি পৌর প্রতিষ্ঠানের অসচেতনা এবং অধিক লোকের সমাগম এর জন্য দায়ী।

অর্থনৈতিক অবস্থাঃ
কক্সবাজার শহরের অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষন করলে দেখা যায় যে, বিশ্লেষন করলে দেখা যায়যে, এখান কার অধিকাংশ লোক তৃতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। বেঁচে থাকার তাগিদে কোন না কোন কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। কক্সবাজার শহরের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। কক্সবাজার শহরের অর্থনৈতিক অবস্থা উপর সমীক্ষা চালিয়ে তাদের পেশা সমন্ধে যে ধারণা পাওয়া যায় তা হলো ২৮৫ টি পরিবারের মধ্যে ৫৫.০ শতাংশ ব্যবসা, ২৪.২ শতাংশ চাকুরী, ৬.৩ শতাংশ অকৃষি শ্রমিক ৩.৯ শতাংশ মৎস্যজীবি ৩.২ শতাংশ শিক্ষকতা, ২.১ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১.৪ শতাংশ আইনজীবি, ১.১ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক, ১.১ শতাংশ নির্মাণ শ্রমিক এবং ১.৭ শতাংশ অন্যান্য পেশার সাথে জড়িত।

সারণি –১০ আয়ের উৎস
ক্রমিক নং ধরণ সংখ্যা
২০০৪ শতকরা হার ০৪ ১৯৯১ সাল শতকরা হার ৯১ শতকরা হার ৮১
১ ব্যবসা ১৫৭ ৫৫ ২১২৯ ৩৩.৪ ১৫.৬
২ চাকুরী ৬৯ ২৪.২ ১৪১২ ২২.১ ৫.৩
৩ অকৃষি শ্রমিক ১৮ ৬.৩ ৩৪১ ৫.৩
৪ মৎস্যজীবি ১১ ৩.৯ ৩৫১ ৫.৪
৫ শিক্ষকতা ৯ ৩.২
৬ বাড়ি ভাড়া ৬ ২.১
৭ আইনজীবি ৪ ১.৪
৮ পরিবহন শ্রমিক ৩ ১.১ ৩৬৫ ৫.৫
৯ নির্মাণ শ্রমিক ৩ ১.১ ২৫১ ৩.৯
১০ অন্যান্য ৫ ১.৭ ১৫৬০ ২৪.৪
মোট ২৮৫ ১০০.০০ ৬৪০৯ ১০০

উৎসঃ প্রশ্নমালা জরিপ-২০০৪ ও আদম শুমারী রিপোর্ট ৮১, ৯১ ও ২০০১।

কক্সবাজার শহরের পেশাগত অবস্থা উপর সমীক্ষা চালিয়ে লক্ষ্য করা যায় যে ১৯৮১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পেশাগত অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হযেছে।

সারণি-১১ পেশাগত পরির্বতন
ক্রমিক নং ধরণ ১৯৮১ সাল ১৯৯১ সাল ২০০৪ সাল
১ ব্যবসা ১৫.৬ ৩৩.৪ ৫৫
২ চাকুরী ৫.৩ ২২.১ ২৪.২
৩ অকৃষি শ্রমিক ৫.৩ ৬.৩

উৎসঃ প্রশ্নমালা জরিপ-২০০৪ ও আদম শুমারী রিপোর্ট ৮১, ৯১ ও ২০০১।
কক্সবাজার শহরের পেশাগত পরির্বতন খুব দ্রুত হচ্ছে। গত ৪০ বৎসরে কক্সবাজার শহরের কৃষি ভিত্তিক পেশা থেকে অকৃষি পেশার লোক কয়েক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮১ সনে নতুন জেলা হবার ফলে চাকুরী পেশায় এবং ১৯৯১ সনের পর পর্যটন শিল্পের