ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

 

“….নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে আমারা যেমন অনাহুত কৌতূহলে ক্রোধ বোধ করি এই পরিবারটিও তেমনি করবে। তারপরেও উনার পরিবারের (মা-ভাই-বোন-সন্তানদের) সংযম দেখে আবারো মুগ্ধ হয়েছি। আবারো লজ্জিত হয়েছি এই দেশের স্বল্প শিক্ষিত-অশিক্ষিত, কোন জব না পেয়ে সাংবাদিকতাতে ঢুকে পড়া এক শ্রেণীর হাম্বাদিক (এরাই কিন্তু সংখ্যাগুরু এখন) এবং ভুঁইফোড় ফেসবুক – বিদ্বান একদল “বিশেষজ্ঞদের” আচরণে- কথা বার্তায়। লিখক- শিক্ষক- জাদুকর হুমায়ূনকে নিয়ে, তার কাজগুলোকে নিয়ে ভাবি – লিখি। তার ব্যক্তি – পরিবার – পারিবারিক বিষয় নিয়ে নিজের ” মতামত” দিয়ে, অসুস্থ কৌতূহল দেখিয়ে নিজেদের কদর্য রূপটা আর না দেখাই।” (লেখাটি ধার করেছি এই ব্লগ হাউজের একটা পৃষ্ঠা থেকে একেবারে হুবহু কপি আর পেষ্ট।)
******************************************************************************************************

আসলে আমাদের কারও কারও নাক অনেক লম্বা। ভদ্রোচিত সৌন্দর্যের চাইতে একটু বেশি। তাই যখন তখন, যেথায় হেথায় সুযোগ পেলেই নাক গলিয়ে দিই।

তিন দশক ধরে তিলেতিলে গড়ে তোলা তার অহংকারের হুমায়ূন, তিরিশ বছর! সাজানো সংসারে আবির্ভাব ঘটল এক ঘষেটি বেগমের। পলিশ করা যৌবন বিনিয়োগ করে ইশারায় কাছে ডেকে নিল বান্ধবীর বাবাকে। ছিন্নভিন্ন করে দিল গুলতেকিনের তিরিশ বছরের অহংকারের সংসার। “স্বর্গ থেকে আসে প্রেম কিংবা ভালো বাসায় মরনেও সুখ” ইত্যাদি মহা শ্লোকের ঠেলায় আমরা উটপাখি হলাম আর যেহেতু যথেষ্ট পরিমানে অল্প শিক্ষিত এবং জব না পাওয়ার দল, তাই নাক চুলকালে ও নিজের মূর্খতা ঢাকতে মাথা গুঁজে দিলাম বালিতে।

কণ্ঠ উঁচিয়ে একথা বলার সাহস ও পেলাম না যে, যশ আর খ্যাতির জন্য পিতার বয়সীকে বর না হয় বানানো হলো, কিন্তু তিরিশ বছরের সাজানো গুছানো একটা ফুলের বাগান যে ধ্বংস করে দিচ্ছে, পিতার স্নেহ থেকে যে বঞ্চিত করা হচ্ছে নিরীহদের কে, নীরবে নিভৃতে মাটির রসের মত সঞ্জিবনী হয়ে যে নারী বৃক্ষের পরিচর্যা করে গেছে তার অহংকার? এটাতো ভালোবাসা নয়। এটাতো যৌনতার উন্মাদনা, লালসার লাগামহীন অভিসার, লোভের লকলকে জিহ্বা! এটাতো প্রেম নয়, এটাতো কুশিক্ষা!

কিন্তু আমি যে অশিক্ষিত, জব না পাওয়া হাম্বাদিক! তাই আমার কণ্ঠে জোর কম। আমি বলতে পারিনি, এই ভদ্রতার মুখোশে এই সংস্কৃতি যদি প্রতিটি সাজানো সংসারে শুরু হয়ে যায় তবে? কোন নারী তবে তিরিশটি বছর বিনিয়োগ করবে? কোন সন্তান তবে মন ভরে পিতাকে পিতা বলবে? কোন মেয়ে তবে পিতার দৃষ্টিতে শুধু স্নেহের বান দেখবে? কীভাবে বিছানায় মেয়ে আর মেয়ের বান্ধবীর তফাৎ থাকবে?

আগুনের পরশমনিতে দেখেছিলাম বিপাশা বলছিলো -বাবা তোমার লজ্জা করছেনা? আর হাবাগোবা শীলা বলছিলো -আপা, বাবার অনেক লজ্জা করছে।

গতকাল আবার দেখেছি শীলার সেই সহজ সরল কান্না। সারা দেশের মানুষ যাকে নিয়ে কাঁদছে সে যে তার বাবা। জোর করে যে বাবাকে জড়িয়ে ধরবে, চিৎকার করে যে সে তার বাবাকে ডাকবে সে উপায় নাই; তার বান্ধবী তার সে অধিকারে কেমন যেন এক স্যাঁতস্যাতে দেয়াল তুলে দিয়েছে।

মেডিকেলের রিপোর্ট অনুযায়ী হুমায়ূন ক্যান্সারে মারা যাননি। ক্যান্সার সেরে উঠছিল। বাসায় চেয়ার থেকে পড়ে ব্যান্ডেজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে তার রক্তে দূষণ শুরু হয়।

যদি শিক্ষিত হতাম তো বলতাম, শাওন, কেন হুমায়ূন চেয়ার থেকে পড়লো। এতগুলো কান্না আর চোখের পানির জোয়ার যে ভালোবাসাকে রুখতে পারেনি, মাত্র কয়েক বছরে সে ভালোবাসাতে কি ক্লান্তি এসে গেছে? বিমানে ইকোনমি ক্লাস আর বিজনেস ক্লাস সীট বিতর্কে হুমায়ূনের মৃতদেহ আনতে একদিন দেরী হওয়া সত্যি কিনা খোঁজ করার রুচি নাই, তবে স্বামীর লাশ পাশে রেখে মেকআপ মেখে কান্না কি খুব জরুরী ছিল? কেন হুমায়ূন চেয়ার থেকে পড়লো? কিভাবে হুমায়ূন চেয়ার থেকে পড়লো?

প্রথম আলোতে হুমায়ূনের অডিও শুনলাম, মিডিয়াতে এত লেখালেখি দেখলাম, হুমায়ূন নুহাশ পল্লীকে কবরস্থান বানাতে চাননি। তবে কোন এক সময়ে মৃত্যুর আগে কোন এক ঘষেটি বেগমের কানে কানে বলে গেছেন, তিনি নুহাশ পল্লীতেই ঘুমাবেন। আমার বিশ্বাস হয়নি।

বুঝতে পেরেছি, নুহাশপল্লীর উপর শকুনের দৃষ্টি পড়ে গেছে। সেখানে কোন একটা জোরালো উছিলা রাখতে হবে ঘষেটি বেগমের। ধীরে সুস্থে চিন্তা করতে হবে পরবর্তী কৌশলের। যাতে নুহাশপল্লী থেকে নুহাশ কে উচ্ছেদ করে দেয়া যায়।

অশিক্ষিত মনে বারবার কেন জানি মনে হচ্ছে, হুমায়ূন বধতো হলো, এবার নুহাশপল্লী বধ! কিছুদিনের মধ্যে নুহাশপল্লী হয়ে যাবে মেহের আফরোজ শাওনের নতুন হানিমুনের জায়গা ।

নতুন একজনের হাত ধরে হাটতে হাটতে তিনি গল্প করবেন “ এইখানে শুয়ে আছে সেই বোকাটি। যে, যখন উপলব্ধি করল তিরিশ বছরের গুলতেকিনকে হারিয়ে কী ভুলটা করেছে, তখন প্রায়শ্চিত্তের মানসে সবটুকু অনুভুতি দিয়ে তার ভালোবাসাকে সাজিয়ে তুলেছিলো নুহাশপল্লী নামে। ভাবতো, তার মৃত্যুর পর নুহাশের হাত ধরে একদিন গুলতেকিন এখানে আসবে, তিরিশ বছরে দুজনের কত বোঝা পড়া! ঠিকই বুঝে নিবে তাকে, ভাঙ্গবে অভিমান; কোলাহলের কারনে দু’জন একটু না হয় চুপ করে আছে। চাঁদনী রাতে নুহাশকে নিয়ে ঐখানটাতে বসে থাকবে গুলতেকিন। চুপচাপ। ঝিরঝিরে বাতাস হয়ে হুমায়ূন ও আসবে। এই নীরবতা যাতে না ভাঙ্গে, এই পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় সেজন্যে নিজের কবরটাও এখানে রাখতে চায়নি সেই বোকাটা। আমিই তো ভালোবেসে তার কবরটা এখানে নিয়ে এসেছি!”