ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

নিজ হাতে গড়া নন্দিত পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অন্য পৃথিবীতে পাড়ি জমালেন আমাদের প্রাণপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ।

নিঃসন্দেহে আমরা শোকাহত । কিন্তু আমরা পাঠক – ভক্ত কুল শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কিছু স্ট্যাটাস, কমেন্ট, নোট আর বিভিন্ন ব্লগে লেখালিখি করেই কি দায়িত্ব সারবো ? এতে করে লেখক ওপার থেকে কি আমাদের ক্ষমা করবেন নাকি সন্তুষ্ট বিগলিত হবেন ? অনেক সমালোচক গন আমার লেখায় রুষ্ট হতে পারেন – এখানে ক্ষমার প্রশ্ন আসছে কেন ?

এখানে ক্ষমার প্রশ্ন আসছে এজন্য, যে ব্যাক্তি চারটি দশক ধরে শুধু মাত্র আমাদের জন্য অক্লান্ত লেখালিখি করে গেলেন, এখন আমরা কি পারিনা তার শেষ স্বপ্ন পূরণে যার যার অবস্থান থেকে কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করতে ? এটাকে আমি ”প্রতিদান” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছি না । সে সাহস আমার নেই । আর যা তিনি(লেখক) আমাদের, আমাদের সাহিত্যে , জাতীয় প্রাচুর্যে যোগ করে গেছেন তার ”প্রতিদান” দেয়ার সাধ্য বা সামর্থ্য কোনটিই এই জাতির সত্যিকার অর্থে নেই । শুধুমাত্র ক্ষুদ্র একটি কাজ করে আমরা লেখকের প্রতি আমাদের ভালবাসার বহি প্রকাশটুকু করতে পারি । আর তা হল যে ঘাতক ব্যাধি আমাদের কথা সাহিত্যিককে সময়ের আগেই আমাদের মাঝ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলো, লেখক স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই ব্যাধিকে পরাস্থ করতে আর অল্প কিছুটা সময় হাতে পেলে বাংলাদেশেই আন্তর্জাতিক মানের হাস্পাতাল নির্মাণের । কিন্তু উপরওয়ালা তা চান নি ; তিনি হয়ত চেয়েছেন তার(লেখকের) স্বপ্নের সেই হাসপাতাল নির্মিত হবে তার লক্ষ – কোটি পাঠক , ভক্ত , শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসা আর সাহচর্যে ।

অনেকেই লেখার এত টুকু পড়ে ভাবছেন এই কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য তার স্ত্রী , পুত্র , আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , দেশের সরকার আছে । আমরা কেন ? আমাদের এই ক্ষুদ্র শক্তি এত বড় স্বপ্ন পূরণে যথেষ্ট নয় ।

তাদের কাছে আমার প্রশ্ন – কেন আপনি বা আমিই নই ? লেখকের স্ত্রী, পুত্র লেখককে ভালোবাস তো । আপনি বাসতেন না? লেখক কি তার অমর সাহিত্য শুধুমাত্র তার স্ত্রী – পুত্রের জন্যই রচনা করে গেছেন, আপনার আমার জন্য করেননি ? লেখকের লেখাগুলো কি আপনাকে আমাকে নিঃসঙ্গ সময়গুলোতে , অতি আপনজনের সান্নিধ্য দেয় নি ? অস্বীকার করতে পারবেন, তার কোন না কোন লেখায় অর্থহীন জীবনে অনুপ্রেরণা খুঁজে পান নি ?

তাহলে কেন এখনো অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছেন ? কেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না ? আর একক ভাবে আপনার প্রচেষ্টা হয়ত ক্ষুদ্র । কিন্তু আপনি, আমি, এভাবে আমরা সবাই যদি চেষ্টা করি? তাহলেও কি তা ক্ষুদ্র থেকে যাবে ??

আপনাকে বলছিনা লেখকের এই স্বপ্ন পূরণে আপনাকে বিশাল অংকের অনুদান দিতে হবে । শুধু বলছি শুভ উদ্যেগের অংশীদার হউন আর আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী এই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসুন । সামর্থ্য বলতে শুধুমাত্র অর্থ কেই আমি বিবেচনা করতে চাই না । হ্যাঁ , অর্থ একটা বড় প্রশ্ন বটে ; কিন্তু আমি বিশ্বাস করি হুমায়ূন স্যারের এত বড় বড় ভক্ত রয়েছে যে একটু এগিয়ে আসলে , শুধু মাত্র একটু এগিয়ে আসলে এই বাধা আর বাধা থাকবেনা । কিন্তু এখানেই শেষ নয় । প্রয়োজন জনমত গঠন , এই শুভ উদ্যোগ কে নীতিগত সমর্থন , সুষ্ঠু ব্যাবস্থাপনা , হাসপাতালের জন্য জমি , অর্থ , বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক , ইত্যাদি ইত্যাদি । এত কিছু শুনে হতাশ হলে চলবে না । শুরুটা তো করতে হবে ।

জনমত গঠনের জন্য প্রথম ধাপটা শুরু করা হল । এবার পালা আপনার । আপনি কিভাবে অংশগ্রহন করতে চান – আমাদের লিখুন । আলোচনা করুন, কিভাবে আপনার সম্পৃক্ততা এই স্বপ্ন পুরনে পথ দেখাতে পারে । হয়ত আপনার একশ টাকার অনুদান কিংবা একটা অমূল্য পরামর্শই বিবেচিত হতে পারে এই হাসপাতাল নির্মাণের পাথেয় হিসেবে ।

লেখার শেষে একটা ব্যাপার স্পষ্ট করতে চাই এই লেখার উদ্দেশ্য সস্তা ব্যাক্তি প্রচারনা ( publicity ) কিংবা ”fund raising” জাতীয় কিছু নয় । এই নামে ভুঁইফোঁড় কেউ যদি অর্থ দাবি করে তাকে প্রতিকার করুন । এই লেখার একমাত্র উদ্দেশ্য, কালকে যদি আপনার প্রিয় লেখক, হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন পূরণে কোন আহ্বান বা অনুরোধ আসে যথার্থ কর্তৃপক্ষ থেকে, আমরা কি প্রস্তুত সে আহবানে সাড়া দিতে। আসুন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মত শুধু শোক গোপন না করে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করি । এবং তা আজ থেকেই…..

আমি তো প্রস্তুত যে কোন ধরণের দায়িত্ব আমার এই ছোট্ট কাঁধে হাসিমুখে নিতে ।

আপনি প্রস্তুত তো ??? প্রস্তুত থাকলে লিখুন, কীভাবে এগিয়ে আসতে চান

Ibrahim Khalil (Anindya Aaditya)
[e-mail: ik27@london.com]