ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বেহাল দশা যেন দেশের উচ্চশিক্ষার সার্বিক করুণ চিত্রের রূপক হিসেবেই ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতার চল্লিশ বৎসর পর দেশের উচ্চ শিক্ষা কঠিন সমস্যার সন্মুখীন। শিক্ষার গুণগতমান উন্নত বিশ্বের এমনকি অনেক অনুন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায়ও নিম্ন। শিক্ষা প্রদান ছাড়া গবেষণার “গ”এর দেখা মেলাও দুরূহ। বলাই বাহুল্য বহু বৎসরের অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শী নীতিমালাই এর জন্য দায়ী।

এই অবস্থার উত্তরণের পথ হিসাবে প্রায়শই যে প্রস্তাব করা হয়ে থাকে সেটা হল বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ। আমার প্রস্তাবটি সামান্য ভিন্ন প্রকৃতির। পচন শুরু হয় মাথা থেকে, পুরনো রুশ প্রবাদ। এ কথায় যথার্থতা আছে। এই আলোকে অতীত বিশ্লেষণ করে সংক্ষেপে প্রস্তাবটি মোটামুটি এই ধরনের-

(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নির্বিচারহারে দাতা-অর্থায়নের প্রকল্পে পরামর্শক কার্যক্রমে রিপোর্ট প্রস্তুত করা থেকে বিরত রাখা। একই সাথে পথে-ঘাটে-ঘরে-ফ্ল্যাটে বিদ্যা ফেরি করার বাণিজ্য সীমিত করা।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি,বেসরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ করা। ব্যাংক, বিমা, কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সবই এর আওতায় আনা।

(৩) শিক্ষকদের সাদা, নীল, লাল, গোলাপি সব বর্ণ ও গন্ধের রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে সম্পূর্ণভাবে তফাতে রাখা।

প্রস্তাবটি পেশ করা সহজ, কিন্তু রাজনৈতিক ও আর্থিক বিবেচনায় এর বাস্তবায়ন কঠিন। এই ক্রান্তিলগ্নে কঠিনকেই বেছে নিলাম। কারন এর কোন বিকল্প নেই; তদুপরি কবিগুরুর ভাষায় বলতে হয় “সে কখনো করেনা বঞ্চনা”।

ডঃ ইফতেখার হোসেন,অর্থনীতিবিদ, জাতিসংঘের প্রাক্তন জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ।
মে ৫, ২০১২