ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা এক অপরিহার্য বিষয় বলতে গেলে সাংবাদিকতার প্রান বলতে পারেন । আসলে বস্তুনিষ্ঠতা কি ? আমরা সাধারন ভাবে বলতে পারি কোন দলকে পক্ষপাতিত্ব না করা । মোদ্দা কথা বিষয়টা বাড়িয়ে বা কমিয়ে না বলা বা লেখা । আসলে সাংবাদিকতা এমন এক পেশা যেখানে নিজের মন্তব্য লেখার কোন সুযোগ নেই । আপনি যা জানবেন উপযুক্ত প্রমান হাতে নিয়ে তা মানুষ কে জানাবেন । নিজের মতামত দিতে হলে আপনাকে কলাম ও সম্পাদকীয় লিখতে হবে । একজন সৎ , আদর্শবান সাংবাদিকতার লক্ষন হল তিনি পক্ষপাতহীন লিখবেন । এ তো হল নীতি নৈতিকতার কথা বাস্তবতা আসলে কি ? সবাই কি নীতি অনুযায়ী চলছে ? না চলছে না । কেন চলছে না সে উত্তর খোজার চেষ্টা করেছি ।

আমাদের দেশের বাস্তবতায় একজন সাংবাদিক কখনোই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করার সুযোগ পাবেন না । যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা আছে তবুও আপনি স্বাধীন নন । যা ইচ্ছা তাই আপনি লিখতেও পারেন না বলতেও পারেন না । এক জন সাংবাদিক কে বহু ঘাত পরিঘাত পেরিয়ে সাংবাদিকতায় মুনশিয়ানা দেখাতে হয় ।

মানহানি , হলুদ সাংবাদিকতা, অপপ্রচার , চেক বুক সাংবাদিকতা, ভুল তথ্য , Embedded journalism, বর্ণবাদ সাংবাদিক জীবনের কলঙ্ক বয়ে আনতে পারে।

মানহানি একটি গর্হিত কাজ । শুধু সাংবাদিক কেন কারো অধিকার নেই কারো মান হানি করা । কোন সম্মানিত মানুষকে যদি অনুমান বশত অপরাধী বলি সেটা অন্যায় । কোন সাংবাদিকের উচিৎ নয় কারো মান হানি করা । হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটা সব চাইতে উচ্চারন করে সরকারি দল । হলুদ সাংবাদিকতা হল সংবাদে রঙ দেয়া অর্থাৎ কল্পনার আশ্রয় নেয়া, বাড়িয়ে বলা , প্রমান হাতে না নিয়ে কথা বলা ।

অপপ্রচার এটাও এক ধরনের মান হানি অনেক পত্রিকায় দেখা যায় । কালের কণ্ঠ ও প্রথম আলো কিছু দিন আগে অপপ্রচার চালিয়েছে একে অপরের প্রতি।
চেক বুক সাংবাদিকতা শব্দটার সাথে আমরা খুব একটা পরিচিত নই । সোজা কথায় টাকার বিনিময়ে রিপোর্ট করা । এখন অনেক সাংবাদিক টাকা কামাবার হাতিয়ার এই সাংবাদিকতা ।

ভুল তথ্য মাঝে মাঝে সংবাদ পত্রে আসে পরে তার জন্য সংশোধনী দেওয়া হয় । এজন্য তথ্য দেয়ার সময় সাবধানী হতে হয় ।

Embedded journalism মুলত যুদ্ধ কালিন রিপোর্ট । ইরাক আমেরিকার যুদ্ধ সম্পর্কে বলি আমেরিকান সৈন্য বাহিনীরা বেশ কিছু রিপোর্টার কে তারা সঙ্গে করে নিয়েছে । আমেরিকান সৈন্য বাহিনীরা যত টুকু খবর প্রকাশ করতে বলেছে ঠিক তততুকুই তারা প্রকাশ করেছে এতে সকলেই সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে ।
বর্ণবাদ অর্থাৎ আপনার রিপোর্টে বর্ণবাদ প্রকাশ করা অন্যায় ।

উপর্যুক্ত বিষয় গুলি থেকে যদি এক জন সাংবাদিক দূরে থাকে পারে তাহলে নিশ্চয়ই সে ভাল সাংবাদিক হতে পারবে । এবার আসি মিডিয়া এবং সাংবাদিক কি কি চাপ অনুভব করতে পারেন ।

আপনি সরকার থেকে চাপ অনুভব করতে পারেন । সরকারি দল সব সময় মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করেন । যেমন ধরুন সকল বেসরকারি টেলিভিশন কে বাধ্য করা হয়েছে বি টি ভির খবর প্রচারের , টক শো নিয়ন্ত্রন , দু দু ক কার্যালয়ে প্রবেশ কড়া করি , প্রধান মন্ত্রির খবর আগে প্রকাশের দাবি ইত্যাদি ।
সরকারের কাছে লাইসেন্স আছে তার কথা না শুনলে লাইসেন্স কেড়ে নিতে পারে ।

সরকার অনেক সময় পত্রিকায় ভর্তুকি দেয় । যখন ভর্তুকি দেয় তখন খবরদারি করার অধিকার জন্মায় ।
মিডিয়ার মালিকের পক্ষ থেকে আপনি চাপ অনুভব করতে পারেন । যেমন ধরুন ইভা রহমানের গান যদি কোন এ টি এন বাংলার কর্মী প্রচার না করেন তার চাকরি থাকবে না।

আপনি যত ভাল নিউজ লিখুন না কেন সাংবাদিক সম্পাদকের কাছে সেই সংবাদের গুরুত্ব না থাকলে লেখা সোজা ডাস্টবিনে । এটাও আপনার জন্য চাপ ।
আইনের চাপ মানহানি ও আদালত অবমাননা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু । আদালতের রায় হওয়ার আগে কোন ধারণা প্রকাশ করা যাবে না বা সন্দেহ প্রকাশ করা যাবে না ।
সব চেয়ে হতাশার বিষয় হল আমদের গণমাধ্যম গুলো কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক তাই এদেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করাটা বেশ কষ্টসাধ্য ।

এ ছাড়াও অনেক ধরনের চাপ , লোভ , অজ্ঞতা সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় ।