ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

মানুষের জীবনে সবচাইতে মূল্যবান স্মৃতি তার শৈশব । একটা শিশুকে কাঁদা মাটি মত নরম ভাবা হয় । বলা হয়ে থাকে এই সময় তাকে যেভাবে গড়ে তলা হবে সেটাই তার জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে । শিশুর গড়ে উঠবার জন্য চাই সঠিক শিক্ষা । শিশুদের শিক্ষা হওয়া চাই শিশু বান্ধব । আমাদের দেশের শিক্ষা ধারা কতটা শিশু বান্ধব ? তার সাথে আমাদের অভিভাবিকদের মানুষিকতা কতটা গ্রহন যোগ্য ? শিশুদের শিক্ষা দান পদ্ধতি কি হওয়া উচিৎ ? মেধা যাচাইয়ের মানদণ্ড কি ? এরকম নানা প্রশ্ন আমাকে তাড়িত করে । আমি এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি ।

আমাদের শিক্ষা নানা ধারায় প্রবাহিত । যেমন ধরুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , কিনটার গার্ডেন স্কুল , ইংরেজি মাধ্যম , মাদ্রাসা । মাদ্রাসা আবার তিন ধরনের যেমন আলিয়া , কউমি , হাফেজি । এবার বুঝুন কত ধরনের শিক্ষা ধারা আমাদের দেশে । এখন বলা হচ্ছে এক মুখি শিক্ষা ধারা করতে হবে । আমার কাছে সেটা শুধুই স্বপ্ন কেননা বাংলাদেশের আম জনতা কখনই এক মুখি শিক্ষা ধারা মেনে নেবে না । কেন মেনে নেবে না তার একটা উদাহরন দেই । আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পা দিলাম তখন আমার বাবা এসে বলল তরে মাদ্রাসায় ভর্তি করামু । আমি ছোট ছিলাম ভর্তি হলাম তাও তৃতীয় শ্রেণীতে । আমার বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে মাউলানা হবে ।সে স্বপ্ন পুরন হয়নি কিন্তু এরকম হাজার হাজার বাবা-মার স্বপ্ন আছে ছেলেকে হাফেজ বানাবে , মাউলানা বানাবে , আখিরাতে তাদের সম্বল হবে ছেলে । এখন আপনি এক মুখি শিক্ষা ধারায় এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না । ধর্মীয় কাজ পরিচালনা করার লোক জন ও তো দেশে দরকার ।

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া ছাত্র – ছাত্রীরা সাধারণত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী । কিনটার গার্ডেন স্কুলের ছাত্র – ছাত্রীরা সাধারণত মধ্য আয়ের পরিবার । সবাই চায় ছেলে মেয়ে ভাল রেজাল্ট করুক । শিক্ষা শেষে ভাল চাকুরি পাক ।ভাল মানুষ হওয়ার আকাংখা কমে গেছে ।

উপরে কিছু প্রশ্ন লিখেছিলাম তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি ।

আমাদের দেশের শিক্ষা ধারা কতটা শিশু বান্ধব?

এর উত্তর দিতে গেলে আমাদের শিক্ষা ধারা , পরিবেশ ও আমাদের মানুষিকতা একে অপরের সাথে জড়িত । বিষয়গুলো খেয়াল করুন বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায় না ,মানুষিক ভাবে চাপে থাকে , পড়ার জন্য কঠোর শাস্তি পেতে হয় , বদ্ধ খাঁচায় বিদ্যালয় , প্রতিযোগিতা । বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায়না কারন স্কুলটা আনন্দময় নয় । এ বিষয় গুলো শিশুদের সাথে যায় না ।

বর্তমানে শিশুদের জন্য আমাদের অভিভাবিকদের মানুষিকতা কতটা গ্রহন যোগ্য?

এই বিষয় টা বেশ মজার আগে অভিভাবকরা নীতি নৈতিকতার প্রতি বেশি নজর দিতেন এখন নম্বরের । যে যত নম্বর পাবে সে তত ভাল । বন্দি করে রাখতে পারলেই ভাল মানুষ হতে পারবে । বিশেষ করে শহরে শিশুদের আশে পাশের শিশুদের সাথে মিশতে দেয়া হয় না । তারা বদ্ধ ঘরে যন্ত্রের সাথে বড় হয় । তাই মানুষিকতা হয় যন্ত্রের মত । মানুষের সাথে মিশতে দিতে হবে । পারিবারিক শিক্ষার জায়গা মজবুদ হলে শিশু কখনোই খারাপ পথে যাবে না । খেলার মাঠ নেই বললেই চলে । সে আধুনিক যন্ত্রের সাথে পরিচিত হবে কিন্তু মানুষের সঙ্গ মানুষকে মানুষ করে তোলে । অমানুষ ও হয় সেটা নজরদারিতে রাখতে হবে ।

শিশুদের শিক্ষা দান পদ্ধতি কি হওয়া উচিৎ?
১. শিশুদের স্কুল হবে আনন্দময় ।
২.স্কুলে খেলার মাঠ থাকবে । সেটা ছোট হোক তার পরেও থাকতে হবে ।
৩।নম্বরের চাইতে নীতি নৈতিকতার দিকে নজর দিতে হবে ।
৪.শিশুর মেধা বিকাশে সহায়তা করতে হবে । যেমন ধরুন কেও গানে , কেও খেলায় , আঁকা , অভিনয়ে ভাল ইত্যাদি । মাদ্রাসায় হামদ , নাত , কেরাত ,আজান , ইসলামি নাটকে ভাল । এক্ষেত্রে উৎসাহ দেয়া ।
৫।শিশুকে কোন কিছু চাপিয়ে না দেয়া ।
৬। বইয়ের আধিক্য কমানো ।
১০। ক্লাস রুম , বিদ্যালয় , তার আঙ্গিনা শিশুদের মত করে সাজান । এক্ষেত্রে রুপ কথার গল্পের চরিত্র আঁকা থাকতে পারে , মিনা কার্টুন হতে পারে , গোপাল ভাঁড় ইত্যাদি হতে পারে । শিশুরা যাতে তার বিদ্যালয়কে তার মনের মত করে পায় ।
১১. যতটা সম্ভব প্রথমে বাস্তব পরে একে দেখাতে হবে ।
১২. শিক্ষা সফর হবে শিক্ষা মুলক । যেমন জাদুঘরে গেলেন সেখানে তাকে বিষয়টা বুঝিয়ে দেবেন ।
১৩। কোন কিছু আঁকার ক্ষেত্রে তাকে শেখাতে যাবেন না । তার ইচ্ছা অনুযায়ী আঁকতে দেন ।
১৪ . নিজের দেশের ইতিহাস ,ঐতিহ্য শিশুদের মত করে উপস্থাপন করেন ।
১৫. ভুলেও তাদের কচি মনে ভয় ঢোকাবেন না ।
১৬. মাদ্রাসা শিক্ষায় জিহাদের ব্যাপার গুলো তাদের মাথায় ঢুকাবেন না । তাতে জঙ্গি মন মানুসিকতা তৈরি হবে । আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করান । দেশের ইতিহাস সঠিক ভাবে তুলে ধরুন ।
১৭. ইংরেজি শিক্ষা ধারায় কখনই নিজের দেশকে ঘাট করবেন না । বাংলা ভাষা গুরুত্তের সাথে সেখান ।
১৮। শাসন করবেন কোমলতার সাথে । সেটা যেন তার আতঙ্কের কারন না হয় । এক বার মনে ভয় ঢুকে গেলে সেটা থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কষ্টকর ।

মেধা যাচাইয়ের মানদণ্ড কি ?

যদিও এখন মেধা যাচাইয়ের মান দণ্ড হল নম্বর । এ ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে । নম্বর মেধা যাচাইয়ের মাধ্যম হতে পারে না । প্রত্যেক মানুষ তার আলাদা আলাদা প্রতিভা নিয়ে জন্মায় । শিশু কাল থেকে সে একটা বিষয় ভাল লাগে সেটা পরবর্তী সময় তার প্রতিভা হয়ে দেখা দেয় । কারো পড়াশুনা ভাল লাগে কারো লাগে না । প্রতিভা মানুষের নানা দিক থেকে হতে পারে । আপনার দায়িত্ব তাকে পথ দেখানো তবে জোর নয় । আপনি জোর করে আপনার মত বানাতে চাওয়াটা ভুল হবে ।তাকে সঠিক রাস্তা দেখান সে একদিন তার রাস্তায় পথ উজ্জ্বল করবে ।

এর সাথে আপনারা যোগ করলে খুশি হব ।