ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

ঢাকা পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত নগরী।সূর্যোদয়ের সাথে ঢাকার ব্যস্ততা শুরু হয়, শেষ হয় রুদ্ধশ্বাস কর্মযজ্ঞের মধ্যে।সকালের মিষ্টি রোদ হয়তো জানালা দিয়ে উঁকি দেয় হয়তো দেয় না।চড়ই, কাক,শালিকের চিৎকারে ঘুম ভাঙুক কিংবা ঘড়ির অ্যালার্ম;ঘুম ভাঙার সাথেই রীতিমত যুদ্ধের ময়দান হয়ে যায় ঢাকা।ঘরের গিন্নিরা নাস্তা বানানোর যুদ্ধে নামেন আর তার পর শুরু হয় সাহেবের দৌড়।অফিসে দেরি হলে বসের বকুনি!সাহেব সময়ের আগেই বের হয়েছেন তাতে কি?বাসে চড়ার যুদ্ধটা তাকে করতে হবে!

এবার গিন্নি তার সন্তানকে নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন স্কুল নামের চিড়িয়াখানায়, যেখানে শিশুরা ছোট্ট ছোট্ট খাঁচার মধ্যে গ্রন্থকীটদের শেখানো বুলি আওড়ে যাচ্ছে।শিশুদের কাঁধে বইয়ের যে বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা হয়তো কেও বইতে পারবে কেও পারবে না তবে,গন্থকীট শিশুদের বোঝা বইতে যে জাতীর বড্ড কষ্ট হচ্ছে।স্কুলের ভেতরে শিশুরা নম্বর পাওয়ার মন্ত্র শিখছে,বাইরে গিন্নিদের নম্বরের হিসেব মেলানো।‘এই জানেন আমার ছেলে না ফার্স্ট হয়েছে?’ ‘ আরে জানেন না আমার মেয়ে না একদম পরতে চায়না, ‘আমার ছেলেকে তিনটি টিউটর রেখে দিয়েছি, এরকম আলোচনায় মুখর থাকে স্কুল প্রাঙ্গণ।এই স্কুলের নম্বর তোলা চকমকানো স্টুডেন্টরা যখন দেশের কোন কাজে আসেনা তখন দেশের বুক নীরবে হু হু করে কাঁদে।

স্কুলে নিতি নৈতিকতা শিক্ষা বলে একটা ব্যপার ছিল, কার কাছ থেকে শিখব?শিক্ষক!শোনা যাচ্ছে ,যৌন হয়রানীর সাথে তাদের নাম জড়াচ্ছে।এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও জীবন দেওয়া অমর শিক্ষকেরও নজির রয়েছে।অনেকে কোচিং সেন্টারের রম-রমা ব্যবসায় জড়িয়ে শিক্ষার মানকে করেছে প্রশ্নাতীত।এর পরেও হয়তো কোন শিক্ষক শিক্ষার মানকে সমুন্নত রেখেছেন।

এক দিকের শিশুদের বইয়ের বোঝা ওপর দিকের শিশুদের মহাজনের বোঝা।যেসব শিশুরা মহাজনের বোঝা নিয়ে ঘুরছে তারা পথের ধারে জীবনের কঠিন বাস্তবতা অনুধাবন করছে।সংসার চলে না তাই, বই খাতার বোঝা তাদের কাছে বিলাসিতা।হাতে পপকর্ণ,চানাচুর,ফুল,পত্রিকা ইত্যাদি নিয়ে ফেরা।স্বপ্ন কখনো ছুতে পারে না তাদের।

ক্লাসে যাবার সময় দুই বা তিন টাকার পত্রিকা কিনি জানার ক্ষুধা মেটানোর জন্য, আর শিশুগুলো সেই টাকায় পেটের ক্ষুধা মেটায়।সংবাদ পত্র জ্ঞানের গুদাম ঘর । সংবাদ পত্রের কাজ হল চারটি।জানানো,শিক্ষিত করা,প্রভাবিত করা, বিনোদিত করা ।জ্ঞানের ফেরিওয়ালা যে জ্ঞান ফেরি করছে কোনটাই তাকে স্পর্শ করতে পারে না।

ক্লান্ত শিশু কোচিং শেষে বাড়ি ফিরে হোম ওয়ার্কের চিন্তা নিয়ে ঘরে ফিরেছে ।জ্ঞানের ফেরি ওয়ালার হয়তো বাড়ি নেই রাস্তার পাশে ভাবনাহীন ঘুম।সাহেবের ট্রাফিকের সাথে যুদ্ধ করে খিট খিটে মেজাজ নিয়ে বাড়ি ফেরা।এভবেই সময়ের তরী চলছে অবিরাম।স্বাধীনতার ৪০ বছরেও হয়তো কারো ঘুম ভেঙেছে হয়তো কারো ভাঙেনি।