ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

সেই ছুটে বেড়ানো দিন গুলি কোথায় হারিয়ে গেছে সময়ের জীর্ণতায়। শৈশব হারিয়ে গিয়েছে সেই কবে! আজ শুধু কল্পনায় স্মৃতি হয়ে মনের জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছে সারাক্ষণ ।

আমার শৈশবে স্কুল ছিল সব চাইতে মধুর সময়। সেই পাঠশালা, মুক্ত হাওয়া, ছুটে বেড়ানো দিন যতটা আমাকে পুলকিত করে ততটাই বিচলিত করে আজকের শিশুদের দিকে তাকালে। তাদের দীর্ঘশ্বাস আমি শুনতে পাই। তাদের অবুজ চোখে আমি অসহায়ত্ব আর ক্লান্তির ছাপ দেখতে পাই।

আজকের শিশুদের দেখলে আমার মনে হয় আমরা শিশুদের দাসে পরিনত করছি। জানি না কথাটা বলা ঠিক হল কিনা! শিশুদের ঘাড়ে তুলে দিচ্ছি গাদা -গাদা বই । তাদেরকে আমরা উটের জকির মতো শিক্ষার দৌড়ে ঠেলে দিচ্ছি। সেই দৌড়ে নম্বরের বিচারে বিচার হচ্ছে মেধা। আমরা একবারও ভেবে দেখছিনা যে ,আমরা তিলে তিলে তাদের প্রতিভা বিকাশের পথকে রুদ্ধ করছি।

আমাদের শিশুদের খাঁচায় বন্দি করে ময়না পাখির মতো বুলি শেখানো হচ্ছে কিন্তু মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেবার অধিকার নেই তাদের। অবুজ শিশুগুলো সারাক্ষণ মানসিক চাপে হাতড়ে বেড়ায় ।

শিক্ষা মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে, আনন্দ দেয়, ন্যায়- অন্যায়ের পার্থক্য শেখায়। আজকের শিক্ষা ব্যবস্থায় সেগুলোর বালাই নেই। গাদা- গাদা নম্বর পায়াটাই এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন সরকার কত বেশী পাশের হার বাড়াতে পারবে তার ওপর নির্ভর করবে কে শিক্ষায় দেশকে এগিয়ে নিল। মনের মাঝে প্রশ্ন জাগে আমরা কি নম্বরের জন্য পড়াশুনা করছি? শিক্ষকরাও ভাল মন্দের বিচার করেন নম্বরের মাধ্যমে। নম্বর পাওয়া ছেলে-মেয়েরা বাবা- মায়ের নয়ন -মনি আর ফেল করা সন্তান ডাস্টবিনের ময়লা।

মানুষ তো সবজান্তা না যে তাকে সব পরতে হবে। একটি শিশুকে কেন ১০ থেকে ১৫ টি বই পড়তে হবে? একটি শিশু যার হৈচৈতে আকাশ – বাতাস মুখরিত হবার কথা। মুক্ত বিহঙ্গের মতো যে শিশুটির যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়াবার কথা তাকে কিনা আমরা খাঁচায় বন্দি করে নম্বর পাওয়ার মন্ত্র শেখাচ্ছি!

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংলিশ মিডিয়াম আর মদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নামে দুইটা বিষ ফোঁড়া আছে যে শিক্ষাঙ্গনের মাটিতে বাংলা মায়ের সোঁদা গন্ধ পাওয়া যায় না। একটাতে ইংলিশ পারফিউম আরেকটাতে আতরের গন্ধ। যেখানে মা মাটির এই চির বন্ধনকে অস্বীকার করা হয়।

অগণিত মানুষের কাছে আমার আবেদন দয়া করে শৈশবের বর্ণিল দিন গুলো থেকে তাদের কে বঞ্চিত করবেন না। সব শিশুর শৈশবের শিক্ষা জীবন চির আনন্দের হোক।