ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের জীবনে সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে। খবরের কাগজ খুললেই আমরা সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ পাই। সম্প্রতি আমরা হারিয়েছে নন্দিত চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক মিশুক মুনিরকে। এরও পূর্বে আমরা হারিয়াছে বর্ষীয়ান এবং বাংলাদেশের সর্বাধিক বাজেট উত্থাপনকারী অর্থ মন্ত্রী সাইফুর রহমানকে। পরিসংখ্যানে পাওয়া যায় যে উত্তর অঞ্চলে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আধুনিকায়ণ, নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়কের জন্য কম অর্থ বরাদ্দের অভাবে তুলনামূলকভাবে বেশী দুর্ঘটনা ঘটছে।

পরিসংখ্যানে আরও পাওয়া যায় যে- ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা দশ বছরে ২.৫ গুন বেড়েছে। উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশী। প্রতি ১০,০০০ মটর গাড়ীতে ১০০ জনেরও বেশী মারা যায় । এদের মধ্যে ৭০-৮০% দুর্ঘটনা ঘটে মহাসড়কে এবং জনপথে। অধিকাংশ ৮০% ঘটে রাস্তা পারাপারের সময়। সড়কদুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলি হচ্ছে- অতিরিক্ত স্পীড, অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই, ঝুঁকিপূর্ণভাবে আগে যাবার প্রবনতা, বেপরোয়া গাড়ী চালানো, অসতর্ক রাস্তা পারাপার, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, জরাজীর্ণ গাড়ি ইত্যাদি।

বাংলাদেশের ট্রাফিক আইন দুর্ঘটনার হার কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি হল সামান্য পরিমাণ অর্থ দণ্ড। একজন মানুষ মারার দণ্ড মাত্র কিছু পরিমাণ অর্থ?এই যদি হয় দেশের ট্রাফিক আইনের নমুনা তাহলে এই দেশে তো এই গুলি হতেই পারে। অন্যদিকে রাস্তায় নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশ ঠিক মত তাদের দায়িত্ব পালন করছেনা। এর ফলে রাস্তায় চলছে জরাজীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ী। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগেও রয়েছে চরম ভুল। এর এক উজ্জ্বল উদাহরন হচ্ছে আমাদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১০। বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১০ এ বলা হল পুরাতন,সমস্যাযুক্ত এবং লাইসেন্স বিহীন গাড়ী রাস্তায় চলা নিষিদ্ধ। কি হাস্যকর তাইনা? পুরাতন,সমস্যাযুক্ত এবং লাইসেন্স বিহীন গাড়ী এমনেতেই তো রাস্তায় চলা নিষিদ্ধ হওয়ার কথা। তার মানে এতদিন এই গাড়ী গুলি হরহামেশাই পুলিশের নাকের ডগার উপর দিয়ে চলেছে। তো এই সমন্বয়হীনতা কে দেখবে?

এটা বাংলাদেশের উন্নতির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০,০০০ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। জাতিসংঘ “২০১১-২০২০” দশককে নিরাপদ সড়ক হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আমরা সামাজিক আন্দলনের মাধ্যমে জীবন বাঁচাতে পারি। সময় এসেছে সবাইকে নিয়ে সামাজিক সচেতনতা গরে তোলার। সব ধরনের পেশার জনগণকে নিয়ে আমরা এ অপমৃত্যু কমাতে পারি। কারন সবারই আছে স্বাভাবিক প্রয়াণের অধিকার।