ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

বাংলাদেশের অনেক ঐতিহ্যের মধ্যে রিক্সা অন্যতম।বাংলাদেশকে সবাই রিক্সা নগরী বলেই জানে।বাংলাদেশে রিক্সার সুনাম অনেক আগে থেকেই। আমরা বিশকাপ ক্রিকেটে দেখেছে সব অধিনায়ক সুন্দর সুন্দর রিক্সায় চেপে এসেছিল। কারণ এটা ছিল আমাদের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য।কিন্তু সম্প্রতি কিছু যুবক-যুবতীর অশালীন বেহাল্লাপনায় বর্তমানে মানুষ রিক্সায় চরতে চরম অস্বস্তি বোধ করছে। বর্তমানে যুবক-যুবতর রিক্সায় চড়ার নামে বা ঘুরতে যাওয়ার নাম করে রিক্সায় যে অশালীন কার্যকলাপ করছে তাতে আমাদের এ ঐতিহ্যে কালি পরতে আর বেশী দেরী নাই।রিক্সায় জ্যামে আটকা পড়লেও তাদের সেই কার্যকলাপ থেমে নাই। একজন বাবা বা মা তার ছেলে বা মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে যদি এসব দেখে এবং ছেলে বা মেয়ে মাকে বা বাবাকে প্রশ্ন করে তাহলে তারা কী জবাব দেবে? এত গেল বাচ্চাদের কথা কিন্তু বড়দের অবস্থা তখন কী হয়? ধরুন এক বাবা তার ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েকে পৌঁছে দিতে যেয়ে যদি জ্যামে আটকে ঐ বেহল্লাপনায় দৃষ্টি যায় তখন বাবা ও মেয়ের মানসিক অবস্তা কি কেউ চিন্তা করতে পারবেন?
একবার চিন্তা করে দেখুন আধুনিকতার নামে তারা পরবর্তী প্রজন্মকে কোথায় ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। এই যদি হয় আমাদের বড়দের শিক্ষা তাহলে আমাদের ছেলে মেয়েরা তাদের কাছে কী শিখবে? আমরা আধুনিকতার নাম করে তালে তাল মিলিয়ে যা করছি তা কি আমাদের ইসলাম কিংবা সমাজ ধিক্কার দেয় না? আধুনিক হতে হবে মনের দিক দিয়ে অসভ্যতার দিক দিয়ে নয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশে পার্ক বলতে আমরা বুঝি ছেলে মেয়েদের এবং সকল স্তরের মানুষের একটু মুক্ত হাওয়া সেবনের স্থান। কিন্তু আজ সেখানেও শান্তি নেই। আজ সেখানে চলছে চরম অসামাজিক কাজ-কর্ম। কোন ভদ্র মানুষ আজ তার পরিবারকে নিয়ে সেখানে যাওয়ার মত পরিবেশ নাই। দিনের আলো শেষ হবার সাথে সাথে সেখানে শুরু হয় এক বন্য ও রীতিমত অসভ্যতার সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত। এই যদি হয় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি তাহলে এদের দিয়ে এই দেশ কী বা আশা করতে পারে? এর এরা যদি ভালো চাকরী বা ভালো পদে বসে তাহলে তো দেশে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি… ইত্যাদি হবেই।