ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

আসুন আমরা হাদিসের আলোকে একদল খাঁটি মুনাফেক খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।
নীচের হাদিসটিতে যে দোষগুলোর কথা বলা হয়েছে সে ধরনের দোষ যখন কোন ব্যক্তি বা দলের মধ্যে দেখি তখন আমরা সেই ব্যক্তি বা দলকে অপছন্দ করি, তাদের মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করি । সেটাই স্বাভাবিক, সেটাই প্রত্যাশিত।
কিন্তু এই দোষগুলো যখন দেখা যায় ইসলামের ঝান্ডাধারী কোন ব্যক্তি বা দলের মধ্যে, তখন তাদের আমারা কি বলব? না, শুধু মুনাফেক বললে তাদের উপর অবিচার করা হবে, তদের বলা উচিৎ, হান্ড্রেড পার্সেন্ট মুনাফেক-
The Prophet said, “Whoever has the following four (characteristics) will be a pure hypocrite and whoever has one of the following four characteristics will have one characteristic of hypocrisy unless and until he gives it up.
1. Whenever he is entrusted, he betrays.
2. Whenever he speaks, he tells a lie.
3. Whenever he makes a covenant, he proves treacherous.
4. Whenever he quarrels, he behaves in a very imprudent, evil and insulting manner.”
—Muhammad al-Bukhari, Sahih al-Bukhari[9]
এবারে আমরা উপর্যুক্ত হাদিসে বর্ণিত ৪দফার আলোকে হান্ড্রেড পার্সেন্ট মুনাফেক খুঁজে বের করার চেষ্টা করি –

1. ১৯৭১ সালে বিশ্বাসঘাতকতা (treachery) করেছিল কারা ? পাকিস্তানী সৈন্যদের হাতে কারা ধরিয়ে দিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের, বুদ্ধিজীবিদের, নিরীহ মুসলমানদের, নিরপরাধ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টানদের। সেই বিট্রেয়ার-রাই কি আজকের জামাত-ই-ইসলামীর নেতৃত্বে নয়?

2. জামাতে ইসলামীর মিথ্যাচারের কি কোন সীমা-পরিসীমা আছে? মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের দুস্কৃতিকারী বলেছে এতদিন পরে এসেও, যখন সারা দেশের লোক জেনে গেছে, ১৯৭১-এ মুজাহিদ, নিজামী, কাদের, দেলোয়ারের ভূমিকা, তখনো এই দলটি জোর গলায় সেই সত্যকে অস্বীকার করছে। মিথ্যচারেরও তো একটা সীমা আছে না কি?

3. জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সদস্যদের শপথ নেয়ার কথা বাংলাদেশকে রক্ষার। কিন্ত সে ধরনের কোন শপথ রক্ষা করা তো দূরে থাক, তারা পেছনে দাঁড়িয়েছে সেই সব লোকের যারা এই দেশের জন্মের বিরোধিতা করেছিল এবং করে যাচ্ছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, নির্বাচনে অংশ নেয়ার লোভে এই জামাতে ইসলামী মাত্র কদিন আগে তাদের দলের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারনামা (‘rule of Allah’) পর্যন্ত বদলে ফেলেছে। এই কিছুদিন আগে তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের চুক্তি করে সমাবেশ থেকে লোকজনের উপর চড়াও হয়েছে। চুক্তিভঙ্গের আর কত উদাহরণ দেয়া দরকার জামাত-শিবিরের মুনাফেকীত্ব প্রমাণের জন্য?

4. জামাতের সাথে যখন লোকের বিরোধ হয়, জামাত আর শিবির তাদের বিরোধীদের রগ কেটে দেয়, গাল কেটে দেয়, নির্মমভাবে হত্যা করে। এর চেয়ে evil আর কি হতে পারে?

এই “হান্ড্রেড পার্সেন্ট মুনাফেক” দলটির নাম পরিবর্তন করে তাই তাদের বলা উচিৎ জামাত-ই-মুনাফেক, তাদের ছাত্রসংগঠনটির নাম হওয়া উচিৎ আল-মুনাফেক। শান্তিকামী মুসলমানদের রাজনৈতিক-সামাজিক জীবন থেকে তাদের নির্বাসিত করা উচিৎ।