ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

প্রতিনিয়ত বাতাসে বাড়ছে বিষাক্ত পরিবেশ দূষণকারী পদার্থ। পানিতে মিশে যাচ্ছে শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য। আবাসিক এলাকা হয়ে যাচ্ছে শিল্প এলাকা। কৃষি জমি প্রতি নিয়ত হারাচ্ছে তার উর্বরতা। ঢাকার আসেপাশে একটি নদীও আর জীবিত নেই। কোনও একটি নদীতে আজ পাওয়া যাবে না একটি জীবিত প্রাণী, (মাছ তো দূরের কথা ) গবেষণা করে দেখা গেছে তুরাগ, বুড়িগঙ্গা , শীতলক্ষা , বংশী, এসব নদীতেও জলজ প্রাণী বেঁচে থাকার মত পরিবেশ নেই। আর এসবের কারণ কিন্তু আশেপাশের শিল্প কারখানা( এমিশন ট্রীটমেন্ট প্লান্ট )। বর্জ্য পরিশোধন না করে খরচ বাঁচানোর জন্য শিল্পকারখানার বর্জ্য সরাসরি ফেলে দিচ্ছে নদীতে । আর বর্জ্য পরিশোধন না করে তাদের লাভের পাল্লা হচ্ছে পূর্ণ।

ভাব দেখে মনে হচ্ছে যা চলছে চলুক না। আমাদের তো এট লিস্ট শিল্প ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। দেশের মানুষও দেখি মাথা ঠাণ্ডা রেখে বসে আছে। অথচ আমাদের জীবনে যে কী অশনি সংকেত বয়ে আসছে তা আমরা ঘূর্ণাক্ষরেও টের পাচ্ছি না। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আমাদের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, এটা আমরা জানি কিন্তু আমরা এটা জানি না যে শিল্প বর্জ্য মাটিতে, নদী তে যাচ্ছে তা আমাদের ভূগর্ভস্থ পানিকে কী ভাবে দূষিত করছে, কী ভাবে পানিতে বাড়ছে আর্সেনিক , আর যে মাটি দূষিত হচ্ছে সে মাটিতে চাষ করা ধান, সবজি আমাদের জন্য কিন্তু ভয়াবহ সব জটিল রোগ নিয়ে আসছে।

আমি বুঝিনা আমাদের সরকার কেন এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। পরিবেশ অধিদপ্তর চাইলে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষণ যে কোন মুহূর্তে বন্ধ করতে পারে। কিন্তু সরকারের এ ব্যাপারে উদাসীনতা দেখে মনে হচ্ছে পরিবেশ দিয়ে কী হবে? শুধু এই সরকারই নয় পূর্ববর্তী সব সরকারও এই ব্যাপারে ছিল নিশ্চুপ। পরিবেশ আন্দোলনকারী অসংখ্য জাতীয় সংগঠন যদি সত্যিকার অর্থে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলে তবে এ সমস্যার সমাধান একদিন হবেই। আর পরিবেশ ও বনমন্ত্রী যদি একজন রাজনীতিবিদ না হয়ে পরিবেশবিদ হতেন তবে হয়ত এই যন্ত্রণার সমাধান হতো।